লণ্ঠনের আলো নিভে যায়, কিন্তু ঈমানের আলো চিরন্তন।

লণ্ঠনের আলো নিভে যায়, কিন্তু ঈমানের আলো চিরন্তন।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

জীবন শুধু বাহ্যিক আলোর ওপর নির্ভরশীল নয়। মানুষের ভেতরে এমন এক আলো আছে, যা একবার জ্বলে উঠলে আর কোনো অন্ধকার তাকে স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহর বন্ধু- ওলী আল্লাহগণ মানুষের অন্তরের সেই আলো জ্বালিয়ে দেন।

ঈমানের আলো চিরন্তন

এক দূর গ্রামে বাস করত এক যুবক। পড়াশোনায় ভালো, কাজে মনোযোগী, তবে তার এক দুর্বলতা ছিল- অন্ধকারের ভয়। সন্ধ্যা নামলেই সে আতঙ্কে ঘরে লণ্ঠন জ্বালাত, আলো ছাড়া এক পা-ও বাইরে যেত না।

এক রাতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলো। বজ্রপাতের শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল। ঝড়ে যুবকের লণ্ঠনও নিভে গেল। সে অন্ধকারে কাঁপতে কাঁপতে বাইরে বেরোল। হঠাৎ দূরে দেখতে পেল একজন দরবেশকে, যিনি ঝড়ের মধ্যেও নিশ্চিন্তে হাঁটছিলেন। তেনার হাতে কোনো আলো ছিল না, তবুও যেন চারপাশ আলোকিত হয়ে আছে।

যুবক দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—
— বাবা, আপনি আলো ছাড়া কীভাবে হাঁটছেন? আমি তো অন্ধকারে এক পা-ও ফেলতে পারি না!

দরবেশ মৃদু হাসলেন।
— বাছা, তুমি লণ্ঠনের আলো খুঁজছ, কিন্তু ভেতরের আলো খুঁজছ না। লণ্ঠনের আলো বাতাসে নিভে যায়, কিন্তু অন্তরের আলো নিভে যায় না।

যুবক স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দরবেশ আবার বললেন—
— ভয় তখনই জন্মায়, যখন অন্তরের নূর নিভে যায়। যে অন্তরে আল্লাহর নূর জ্বলে, সে ঝড়-অন্ধকারের মাঝেও পথ হারায় না।

যুবক কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
— বাবা, এই অন্তরের নূর আমি কোথায় পাব?

দরবেশ কোমল দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন।
— বাছা, নূর খুঁজতে পাহাড়ে যাওয়া লাগে না, সমুদ্র পার হওয়া লাগে না। নূর জন্ম নেয় তওবায় এবং মাওলার স্মরণে।

যুবক আবার বলল—
— কিন্তু আমার অন্তর তো বারবার ভেঙে যায়, পাপ আমাকে টেনে আনে, অন্ধকার আমাকে গ্রাস করে। তখন কী করব?

দরবেশের চোখে যেন এক গভীর মমতা ফুটে উঠল।
— অন্তর ভাঙা মানে তো তা নরম হয়ে গেছে। আর নরম মাটিতেই তো বীজ জন্মায়। তওবার অশ্রু হলো সেই বৃষ্টি, যা তোমার অন্তরে ঈমানের বীজকে গজাতে সাহায্য করে। মনে রেখো, অন্ধকার যত গভীর হয়, ভোর তত কাছেই থাকে।

দরবেশ হাত উঠিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বললেন-
— আল্লাহর রহমত আকাশের তারার চেয়েও বেশি। যখন তুমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাও, তিনি তোমার দিকে দুই হাত এগিয়ে আসেন। তুমি যখন তার দিকে হেঁটে যাও, তিনি তোমার দিকে দৌড়ে আসেন।”

এই কথা শুনে যুবকের চোখ ভিজে গেল। সে কাঁপা কণ্ঠে দরবেশের কদম জড়িয়ে ধরে বলল—
— বাবা, আজ থেকে আমি আপনার মুরিদ হতে চাই। আমি আর অন্ধকারে ভাসতে চাই না। আমাকে সেই আলোর পথে নিয়ে চলুন।

দরবেশ—
— যুবককে মুরিদ করালেন এবং বললেন মনে রেখো, পাপের অন্ধকার যতই তোমাকে গ্রাস করুক, ঈমানের আলো তার চেয়ে শক্তিশালী। শুধু সেই আলো জ্বালিয়ে রাখো।

যুবকের বুক থেকে যেন পাহাড়সম ভার নেমে গেল। ভেতরের সব অন্ধকার গলে গিয়ে হৃদয়ে এক উজ্জ্বল আলো জ্বলে উঠল আর তার জীবন আলোর পথে মোড় নিল।

পরিশেষে

যে মানুষ ভেতরের আলো জ্বালায়, তার কাছে কোনো অন্ধকারই ভয়ঙ্কর থাকে না।

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Related Stories

2 thoughts on “লণ্ঠনের আলো নিভে যায়, কিন্তু ঈমানের আলো চিরন্তন।”

  1. মাশাল্লাহ মারহাবা অনেক খুশি হলাম।

    Reply
  2. আল্লাহর অলির নজরে মানুষের তকদির পর্যন্ত পরিবর্তন ঘটে। সুবহানাল্লাহ।
    অসম্ভব সুন্দর উপস্থাপন ধন্যবাদ ছোটো ভাই।

    Reply

Leave a Comment