কে দাঁড়িয়ে আমার দরজায়? – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর আধ্যাত্মিক কবিতা।

সুলতানুল আশেকীন মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর অন্তরের গভীর মারেফাতী দর্শন থেকে নিংড়ে আনা এক অবিনশ্বর সুফি কবিতা। সাধকের অন্তরের আকুতি, আমিত্ব বিসর্জন এবং ঐশ্বরিক প্রেমের তত্ত্ব জানুন এই মহিমান্বিত সুফি নিবন্ধে।

কে দাঁড়িয়ে আমার দরজায়? - মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর আধ্যাত্মিক কবিতা
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

কে দাঁড়িয়ে আমার দরজায়?- মানুষের অন্তরের এক পরম আধ্যাত্মিক ও রূহার্নী জিজ্ঞাসা। আউলিয়া জগতের অন্যতম মহান বাতিঘর, বিশ্ববিখ্যাত সূফী দার্শনিক ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য পথিকৃৎ মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার এই মারেফাতী কবিতায় সাধকের অন্তরের আকুতি ফুটিয়ে তুলেছেন। তেনার প্রতিটি বাণী ও কবিতা আজও কোটি মানুষের ঘুমন্ত কলব জাগ্রত করার এবং বাতেনি মুক্তির আলো দেখানোর এক পরম নূরানি চাবিকাঠি।

আজ আমরা মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর অন্তরের সুগভীর প্রেম ও আধ্যাত্মিক দর্শন থেকে নিংড়ে আনা এক অমর ও কালজয়ী তত্ত্ব চাক্ষুষ আলোচনা করব, যা আপনার ঈমানী আলো ছড়াতে এবং বাতেনি প্রশান্তি লাভ করতে পরম সাহায্য করবে। আসুন, জানি তেনার অন্তরের অন্তস্তল থেকে নিংড়ে আনা একটি গভীর ভাবনাময় কবিতা—

কে দাঁড়িয়ে আমার দরজায়?

— মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি

তিনি বললেন: কে দাঁড়িয়ে আছে আমার দরজায়?
আমি বললাম: আপনার এক অবনমিত বান্দা।

তিনি বললেন: তুমি কি কাজে এসেছো?
আমি বললাম: আপনাকে সম্ভাষণ জানাতে, হে আমার প্রভু।

তিনি বললেন: তুমি কতদিন ভ্রমণ করতে থাকবে?
আমি বললাম: যে পর্যন্ত না আপনি আমায় থামতে বলেছেন।

তিনি বললেন: কতদিন তোমায় তুমি এ আগুনের মাঝে পুঁড়াবে?
আমি বললাম: যে পর্যন্ত না হবো আমি পবিত্র; এটি হলো আমার ভালোবাসার শপথ।

তিনি বললেন: তোমার মামলাটি যদিও তুমি করেছ উপস্থাপন; কিন্তু স্বাক্ষী তো করোনি হাজির।
আমি বললাম: আমার চোখের অশ্রুই আমার সাক্ষী। আমার বিবর্ণ চেহারাটিই আমার সাক্ষ্য।

তিনি বললেন: তোমার সাক্ষীর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই; আর তোমার অতি অশ্রুভেজা চোখগুলো দেখতে অক্ষম।
আমি বললাম: আপনার ন্যায় বিচারের দ্যূতিতে আমার চোখ দুটো পরিষ্কার এবং স্পষ্ট।

তিনি বললেন: তোমার চাওয়াটি তাহলে কি?
আমি বললাম: আপনাকে আমি পেতে চাই; আমার অবিচল বন্ধু হিসেবে।

তিনি বললেন: আমা হতে তোমার কি প্রত্যাশা?
আমি বললাম: আপনার অপরিসীম অনুগ্রহ।

তিনি বললেন: যাত্রাপথটিতে কে ছিলো তোমার সঙ্গী?
আমি বললাম: আপনার ধ্যান; হে আমার প্রভু।

তিনি বললেন: কে তোমায় এখানে প্রলোভিত করে এনেছে?
আমি বললাম: আপনার শরাবের সুগন্ধ।

তিনি বললেন: কি বয়ে নিয়ে আসে তোমার মনে সবচাইতে পরিপূর্ণতা?
আমি বললাম: প্রভুর সান্নিধ্যে।

তিনি বললেন: তুমি সেথায় কি খুঁজে বেড়াও?
আমি বললাম: শতো বিষ্ময়কর বস্তু।

তিনি বললেন: প্রাসাদটি তাহলে এতো নির্জন কেনো?
আমি বললাম: তাঁরা সবাই চোরকে ভয় পায়।

তিনি বললেন: চোরটি তাহলে কে?
আমি বললাম: আপনার সান্নিধ্য হতে যে আমায় ভুলিয়ে রাখে।

তিনি বললেন: সেখানে কোথায় আছে নিরাপত্তা?
আমি বললাম: সেবা এবং ত্যাগের মাঝে।

তিনি বললেন: সেখানে ত্যাগ করার কি আছে?
আমি বললাম: মুক্ত হবার বাসনা।

তিনি বললেন: সেখানে কোথায় আছে বিপর্যয়?
আমি বললাম: আপনার ভালোবাসার উপস্থিতিতে।

তিনি বললেন: এ জীবন থেকে তুমি কি ফায়দা কুড়োতে পারো?
আমি বললাম: নিজের প্রতি সদা সত্য থেকে।

উপসংহার-ঐশ্বরিক প্রেম ও আত্মোৎসর্গের হাকিকত

পরিশেষে, কে দাঁড়িয়ে আমার দরজায়?- মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর এই আধ্যাত্মিক কবিতাটি মানুষের অন্তরের তামাম অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির জ্যাম এক সেকেন্ডে দূর করে সত্য, শান্তি ও হেদায়েতের নূরানি আলো ছড়িয়ে দেয়। মৃত্যু বা বিলোপ কোনো ধ্বংস নয়, বরং তেনি হলো নিজের আমিত্ব বিসর্জন দিয়ে কামেল মুর্শিদের সোহবতে পরিশুদ্ধ হয়ে নিজের রুহের ঐশ্বরিক উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার এক পরম রূহার্নী বাতিঘর। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নফসের তামাম কুপ্রবৃত্তি পুড়িয়ে ছাই করে মাওলার ইশকে ফানা হতে না পারবে, ততক্ষণ তেনার পক্ষে এই দরজার প্রকৃত রহস্য চাক্ষুষ উপলব্ধি করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

আল্লাহ পাক তেনার এই মহান ওলীর উসিলায় আমাদের সবার অন্তরের ঘুমন্ত কলব জিন্দা করুন এবং আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার তৌফিক দান করুন। আমীন। সাথেই থাকুন!

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment