দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
হাজির ও নাজির
দয়াল বাবা জালালী মাওলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান এবং মর্যাদা নিয়ে মাহফিলে আলোচনা করতেন এবং তিনি বলতেন-
“দয়াল নবী, আপনার দরবারে আমরা গোলাম হাজির হইয়াছি।”
তিনি বলতেন,
“আমার মাহফিল শেষ হলে কিছু বামপন্থী আছে, যারা আপনাদের বলবে, ‘তোমাদের বড় হুজুর আসলো, তোমাদের সামনে হাজির হলো। তোমাদের সামনে ওয়াজ করলো।’ নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে হাজির বললো, তাহলে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখাতে বললেন না কেন?”
দয়াল বাবা জালালী মাওলার ব্যাখ্যা
বাবা জালালী মাওলা বলতেন,
“যখন বামপন্থীরা আপনাদের এই প্রশ্ন করবে, তখনতো আপনারা ছোট হয়ে যাবেন। না, আপনাদের ছোট হওয়ার কোন কারণ নেই। আপনারা বলবেন, ‘বাবা, জালালী নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখাবে কি? তোমরা দেখবে কি? আমরা দেখবো কি?’ আল্লাহর সৃষ্টি ২ (দুই) প্রকার: ১ (এক) দল হলো বশির, আর ১ (এক) দল হলো লতিফ।”
বশির ও লতিফ
বশির মানে – মানুষ, গরু, ছাগল, গাছ, পালা ইত্যাদি যা দেখা যায় ধরা যায় গরম ঠান্ডা অনুভব হয়।
আর লতিফ মানে সুক্ষ্ম যা দেখা যায় না ধরা যায় না গরম ঠান্ডা অনুভব হয় না যেমন –
“কিরা-মান কা-তিবীন ইয়া লামূনা মা-তাফ আলূন” কিরা-মান ও কা-তিবীন নামে ২ (দুই) জন ফেরেশতা আমাদের কাধে আছে।
“কিরা-মান কা-তিবীন” লম্বা না খাটো জীবনে দেখছেন কি? কালো না সাদা জীবনে বলতে পারবেন কি? ১ (এক) কেজি ওজন না ১ (এক) মন ওজন বলতে পারবেন কি? “কিরা-মান কা-তিবীন” হলো সুক্ষ্ম আমার দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো সুক্ষ্মেরও সুক্ষ্ম।
সুক্ষ্ম জগতের বাস্তবতা ও ঈমান
দয়াল বাবা জালালী আরও বলেন-
সুক্ষ্মের সুক্ষ্ম দেখলানা সুক্ষ্মের সুক্ষ্ম দেখবা কি করে ঈমান রাখতে হবে।
“আন্নাবিয়ু আওলা বিল মু’মিনিনা মিন আনফুসিহিম”
আমার দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছে ঈমানদারের জানের চাইতে আরো অধিক নিকটে।
পরিশেষে
হাজির ও নাজির বিষয়টি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান, মর্যাদা ও নূরানি অবস্থান বোঝার একটি গভীর আধ্যাত্মিক দিক। দয়াল বাবা জালালী মাওলার আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো সাধারণ মানুষ নন; তেনার মর্যাদা অতুলনীয় ও অনন্য।
আল্লাহর সৃষ্টি দৃশ্যমান (বশির) এবং অদৃশ্য (লতিফ)-এই দুই জগতের বাস্তবতার মধ্যেও নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবস্থান আরও সূক্ষ্ম ও মহিমান্বিত। তাই তেনার প্রকৃত শান ও মর্যাদা সাধারণ জ্ঞানে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
তাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসা, তেনার সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং ঈমানের আলোকে তেনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রাখা। কারণ নবীপ্রেমই একজন মুমিনের অন্তরকে আলোকিত করে এবং ঈমানকে পরিপূর্ণ করে তোলে।










