দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আজকের সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামের নানা বিষয়েও প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটেছে। এর মধ্যে একটি হলো মাইক ব্যবহার করে আযান দেওয়া। এ বিষয়ে আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দয়াল বাবা জালালী মাওলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন–
“মাইক দিয়ে আযান দেওয়া হারাম।”
কেন এই ঘোষণা?
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“নীল আকাশের নিচে কেউ জালালীর সামনে একটি দলিল দেখাতে পারবে না যে, মাইক দিয়ে আযান দেওয়া জায়েয।”
তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন-
ধরুন, আপনার বাড়ী কাপ্তান বাজার কান্দিরপাড় মসজিদে মাইক দিয়ে আযান দেওয়া হচ্ছে। ঠিক সেই সময় সময়ে আপনি কাপ্তান বাজারে পেশাব করতে বসেছেন। এখন আযানের আওয়াজ আপনার কানে এলো।
- আযান দেওয়া হলো সুন্নত।
- আযানের জওয়াব দেওয়া হলো ওয়াজিব।
- যদি জওয়াব না দেন, হবে কবিরা গুনাহ।
- আর তিনবার কবিরা গুনাহ করলে মানুষ কাফের হয়ে যায়।
এখন যদি নাপাক অবস্থায় আযানের জওয়াব দেন, তাহলে কাফের হবেন। আবার আযানের জওয়াব না দিলে কবিরা গুনাহ করছেন। অর্থাৎ মাইক দিয়ে আযান দিলে কোটি কোটি মানুষ একসাথে অনিচ্ছাসত্ত্বেও গোনাহগার হয়ে পড়বে।
নূর ও নারের পার্থক্য
দয়াল বাবা জালালী মাওলা আরও বলেন-
“এই কারণেই নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতেন, এমন এক জামানা আসবে যখন মাইক প্রচলিত হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন- বন্ধু (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম), নূর ও নার এক জিনিস নয়। আযান হলো নূর, আর মাইক হলো নার। তাই নূর ও নার এক হতে পারে না।”
ওয়াজ আর আযানের ভিন্নতা
যদি কেউ প্রশ্ন করে-
“জালালী সাহেব, আপনি তো ওয়াজ করেন, তাহলে সেটাই বা কী? আপনি তো কোরআন-হাদিস বলছেন মাইক ব্যবহার করে!”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা উত্তর দেন-
“সত্য ওয়াজ হলো হেদায়েত, আর আযান হলো ইবাদত। হেদায়েত ও ইবাদত এক জিনিস হতে পারে না।”
আযান ও নারীদের অবস্থান
তিনি আরও বলেন-
আপনার অন্তরে আল্লাহর ভয় রয়েছে। তাই আপনি ওজু করে মসজিদের দিকে রওনা দিলেন। এদিকে মাইক দিয়ে আযান দেওয়া হলো। আপনি সেই আযান শুনে সঙ্গে সঙ্গে জওয়াব দিলেন। কিন্তু একই সময়ে ঘরে থাকা মহিলারা পাক-নাপাক অবস্থায় গৃহকর্মে ব্যস্ত আছেন, তাদের কানেও আযানের আওয়াজ পৌঁছালো।” যেহেুত আযানের জওয়াব দেওয়া পুরুষ এবং নারীর জন্য হলো ওয়াজিব।
এখন সমস্যা হলো-
- যদি নাপাক অবস্থায় আযানের জওয়াব দিচ্ছেন, তাহলে কাফের হচ্ছেন।
- আর যদি জওয়াব না দিবেন, তাহলে কবিরা গুনাহ করতেছেন।
তিনি সতর্ক করেন-
“মাইক দিয়ে আযান দেওয়া এমন একটি কর্ম আরম্ভ করলেন, যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মানুষকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও গোনাহগার বানিয়ে দিলেন। অথচ আল্লাহ তা’আলা আদেশ করেছেন- ‘হে বন্ধু! (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন, তোমার কর্মের দ্বারা আমার বান্দারা যেন গোনাহগার না হয়।’”
পরামর্শ
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“আমাদেরও মাইক আছে। কিন্তু আমরা তা ব্যবহার করি ওয়াজ ও এলহামের জন্য, আযানের জন্য নয়। আযান হবে, মাইক ছাড়া। এতে মানুষ ওজু করে জামাতে শামিল হবে, আর নারীরা নিরাপদ থাকবে গোনাহ থেকে।”
যদি মাইক দিয়ে আযান দেওয়া হয়, তখন ঘরে থাকা অসংখ্য নারী পাক-নাপাক অবস্থায় বাধ্য হয়ে আযানের জওয়াব দিতে গিয়ে গোনাহগার হবেন অথবা জওয়াব না দিয়ে কবিরা গুনাহ করবেন। কিন্তু যদি মাইক ছাড়া আযান দেওয়া হয়, তখন ঘরে থাকা মহিলারা পাক-নাপাক অবস্থায় আযানের আওয়াজ শুনবেন না। তাদের উপর আযানের জওয়াব দেওয়া ওয়াজিব হবে না, ফলে তারা গোনাহগারও হন না, কাফেরও হন না।
পরিশেষে
দয়াল বাবা জালালী মাওলা তেনার বক্তব্যে গভীর দৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক সতর্কতা রেখেছেন। প্রযুক্তি থাকলেও সব জায়গায় তা ইসলামের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আযান হলো ইবাদত। তাই ইবাদতকে কখনো এমন পথে আনা যাবে না, যার মাধ্যমে মানুষ গোনাহগার হয়ে যায়। মাইক দিয়ে আযান দিলে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ পাক-নাপাকি অবস্থায় জওয়াব দিতে গিয়ে গোনাহে জড়িয়ে পড়ে।
তাই তেনার নির্দেশনা স্পষ্ট:
“মাইক হোক হেদায়েতের জন্য, আযানের জন্য নয়।”











সুন্দর উপস্থাপন দরদী