দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষকে আমরা প্রায়ই দেখি চোখের দৃষ্টিতে, কিন্তু মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি শেখান- সত্য দেখা যায় হৃদয়ের দৃষ্টিতে। বাহ্যিক পোশাক, ভাষা বা আচরণে নয়, একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা লুকিয়ে থাকে তার অন্তরের আলোয়। বিশেষ করে বুজুর্গ ও অলিয়াগণকে বিচার করতে গেলে, সেই বাহ্যিক চোখ নয়- প্রয়োজন অন্তরের গভীর দৃষ্টি।
মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
“কাউকে বাহ্যিকভাবে বিচার করো না, বিশেষ করে বুজুর্গদের।”
কারণ তেনাদের আত্মিক শক্তি এবং আল্লাহর সঙ্গে তেনাদের গভীর সম্পর্ক এমন এক স্তরে অবস্থান করে, যা আমাদের সাধারণ বোধের সীমার বাইরে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বোঝান-
- ‘শীর’ ও ‘সীর’ – উচ্চারণে প্রায় একই, কিন্তু অর্থে আকাশ-পাতাল পার্থক্য; ‘শীর’ মানে দুধ, ‘সীর’ মানে রসুন।
- মৌমাছি ও বোলতা – দুজনেই একই ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে, কিন্তু মৌমাছি দেয় মধু, আর বোলতা ফোটায় হুল।
- দুই ধরনের হরিণ – দুজনেই জঙ্গলের ঘাস খায় ও পানি পান করে; একটির দেহ থেকে আসে শুধু বর্জ্য, অন্যটির দেহ থেকে বের হয় সুগন্ধি মেশকের আম্বর।
- একই মাটিতে জন্মানো গাছও ভিন্ন ফল দেয় – নারকেল গাছ দেয় নারকেল, খেজুর গাছ দেয় সুমিষ্ট রস।
মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহিআমাদের শিক্ষা দেন- দেখতে এক রকম হলেই হৃদয়ও এক রকম হয় না।
কাফেররা নবী আলাইহিমুস সালামদেরদের এই অন্তর্গত পার্থক্য বুঝতে পারেনি। তারা বলেছিল-
“নবী আলাইহিমুস সালামদেরগণ মানুষ, আমরাও মানুষ। তারা যেমন খায় ও ঘুমায়, আমরাও তেমনই খাই ও ঘুমাই।”
কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি- নবীগণ বাহ্যিকভাবে দেখতে আমাদের মত হলেও, তেনারা অন্তরে আল্লাহর নূরের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত।
পরিশেষে
মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাদের মনে করিয়ে দেন- যে চোখ কেবল দেহ দেখে, সে সত্য দেখে না; সত্য বুঝতে হলে হৃদয় খুলে দেখতে হয়।







