---Advertisement---

এক বাক্যে বদলি-শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী-এর কারামত।

April 1, 2026 3:25 PM
এক বাক্যে বদলি-শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী-এর কারামত।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

অলী-আউলিয়াগণের দরবার কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান নয়- এটি আদব, আখলাক ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি আচরণ এবং প্রতিটি ইশারার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর তাৎপর্য ও দিকনির্দেশনা। কখনো কখনো তেনাদের একটি মাত্র বাক্যই বদলে দিতে পারে মানুষের জীবনের গতিপথ; আবার কোনো ঘটনার ভেতর দিয়ে উন্মোচিত হয় এমন আধ্যাত্মিক সত্য, যা সাধারণ বোধের ঊর্ধ্বে। তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী, শিক্ষণীয় এবং বিস্ময়কর ঘটনার আলোচনায় আজ আমরা প্রবেশ করব- যেখানে একটি বাক্য শুধু উচ্চারিত হয়নি, বরং বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়েছে এক অলৌকিক ইঙ্গিত হিসেবে

এক বাক্যে বদলি

সাবেক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ এম. এ. আওয়াল একবার হাটহাজারী থানার গুমানমর্দান নিবাসী আহমদ হোসেন কোরেশীকে সঙ্গে নিয়ে মাইজভান্ডার শরীফে আগমন করেন।

মাজার শরীফ জিয়ারত শেষে তাঁরা গাউছিয়া আহমদীয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন পীর, হযরত মাওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন (কুদ্দিসা সির্রুহু) মাইজভান্ডারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মঞ্জিলের হলঘরের দক্ষিণ পাশে হুজুর একটি আরাম কেদারায় অর্ধশায়িত অবস্থায় ছিলেন। কমিশনার সাহেব একটি চেয়ারে বসে এক পায়ের উপর অপর পা তুলে এমনভাবে দোলাচ্ছিলেন যে, অল্পের জন্য তা হুজুরের কেদারায় স্পর্শ করছিল। তাঁরা কোনো একটি বিষয়ে আলাপে মগ্ন ছিলেন।

ঠিক সেই সময় হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলেন শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন-
বেয়াদব! পা নামিয়ে রাখুন। আপনি কি জানেন, কার সামনে বসেছেন? আমি আপনাকে ট্রান্সফার করলাম।”

ঘটনাস্থলে সৈয়দ নুরুল বখতেয়ার শাহও উপস্থিত ছিলেন। এই আকস্মিক ঘটনার কারণে কমিশনার সাহেব অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ন হয়ে দ্রুত বিদায় নিয়ে চলে যান।

কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সত্যিই ঢাকা শহরে বদলি হয়ে যান।

চট্টগ্রাম থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্বে একদিন তিনি দামপাড়া বেটারী গলিতে শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর কাছে উপস্থিত হয়ে নিজের বেয়াদবীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শাহানশাহ তাঁকে স্নেহভরে কাছে বসান, চা-মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেন এবং মমতাপূর্ণ কণ্ঠে উপদেশ দেন-
আপনারা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। মানুষ আপনাদের কাছ থেকেই আদব-আখলাক ও নীতি-নৈতিকতা শিখবে। তাই আচার-আচরণে শালীনতা বজায় রাখবেন, দুর্নীতি করবেন না। মানুষের সেবা করবেন-কারণ মানুষের সেবা করাও আল্লাহর ইবাদত।”

 [বর্ণনাকারী: খায়রুল বশর মাস্টার; পিতা: নেহা মিয়া; গ্রাম: ছাদক নগর, সুন্দরপুর ইউনিয়ন; থানা: ফটিকছড়ি; জেলা: চট্টগ্রাম; সাবেক কর্মচারী, গাউছিয়া আহমদীয়া মঞ্জিল]

পরিশেষে

এই ঘটনা আমাদের সামনে এক গভীর সত্য উন্মোচন করে-পদমর্যাদা নয়, বরং আদব-আখলাকই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে। অলী-আউলিয়াগণের দরবারে শিষ্টাচার লঙ্ঘন কখনো গ্রহণযোগ্য নয়, আর তেনাদের বাক্যই বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়

একই সাথে, এই ঘটনা আমাদের শেখায়-ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজেকে সংশোধন করা মহান গুণ। আর মানুষের সেবা, নৈতিকতা ও বিনয়-এই তিনটিই একজন মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আদব, আখলাক ও সত্যিকারের মানবিকতার পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment