---Advertisement---

আগাম বলে দিলেন রোগ- শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত।

April 2, 2026 5:42 PM
আগাম বলে দিলেন রোগ- শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

নিঃসন্দেহে অলী-আউলিয়াগণ সবকিছু দেখেন, শোনেন এবং জানেন- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তেনাদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও প্রজ্ঞা সাধারণ উপলব্ধির ঊর্ধ্বে। তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী, বেদনাময় ও শিক্ষণীয় ঘটনা- “আগাম বলে দিলেন রোগ- শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী-এর কারামত”- নিয়ে আমরা আলোচনা করব। এই ঘটনাটি শুধু একটি অলৌকিক কাহিনি নয়; এটি বিশ্বাসীগণের অন্তরে প্রশান্তি জাগায় এবং তাঁদের ঈমানকে করে আরও দৃঢ়। এমনকি অবিশ্বাসীর মনেও এই ধরনের ঘটনা আউলিয়াগণের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণ সৃষ্টি করে

আগাম বলে দিলেন রোগ

আমি একদিন দরবার শরীফের মাঠ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে ডাকলেন।

নিকটে গেলে স্নেহভরে বললেন-
আমাকে এক কাপ দুধ খাওয়াতে পারবে?”

আমি আনন্দ ও আগ্রহ নিয়ে ঘরে গিয়ে মাকে বললাম। মা দুধ প্রস্তুত করে দিলেন। কিন্তু দুধ নিয়ে বের হওয়ার সময় শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহির এক কাজের মেয়ে এসে বলল-
“তেনার দুধ খাওয়ায় নাকি ডাক্তারের নিষেধ আছে।”

এই কথায় আমার মনে সন্দেহ জন্মাল। দ্বিধায় পড়ে আমি আর দুধ নিয়ে গেলাম না।

কিছুক্ষণ পর আবার সেদিকে গেলে শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে ডেকে বললেন-
মনে সন্দেহ হয়েছে?”

আমি লজ্জিত কণ্ঠে বললাম-
আপনি তো সবই জানেন”

এটি ছিল তেনার সাধনার প্রাথমিক সময়ের ঘটনা। তেনার চোখ তখন জবাফুলের মতো লাল, দৃষ্টিতে ছিল এক অদ্ভুত গভীরতা। তিনি আমাকে ডেকে তেনাদের অফিসঘরে বসালেন।

এরপর বললেন-
চাচীর (আমার মায়ের) বাসনপত্র আলাদা করে নেবেন।”

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-
“কেন?”

তিনি শান্তভাবে বললেন-
উনার যক্ষ্মা (টিবি) হয়েছে।”

তখন আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু ঠিক ছয় মাস পর, আমার মায়ের যক্ষ্মা (টিবি) রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য আমার ভগ্নিপতি, মরহুম আবদুল গণি সওদাগর অনেক অর্থ ব্যয় করেন। তবুও মা আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এই রোগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

পরে ভাবতে গিয়ে মনে হয়- হয়তো সেই দিন দুধ চেয়ে তিনি আমাদের প্রতি কোনো রহমত বা দোয়া করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা বুঝতে পারিনি, বরং সন্দেহে পড়ে সে সুযোগ হারিয়েছি। এই একটি ভুলের জন্য আজীবন আমার অন্তরে রয়ে গেছে গভীর অনুশোচনা

[বর্ণনাকারী- সৈয়দ মহীউদ্দিন; পিতা: মরহুম সৈয়দ সিরাজুল হক মিয়া, মাইজভান্ডার শরীফ, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।]

পরিশেষে

এই ঘটনাটি আমাদের শেখায়-অলী-আউলিয়াগণের প্রতিটি কথা ও আচরণের পেছনে থাকে গভীর তাৎপর্য, যা সবসময় বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না। সন্দেহ কখনো কখনো মানুষকে রহমত থেকে বঞ্চিত করে দেয়

বিশ্বাস, আন্তরিকতা এবং আদব-এই তিনটি গুণই আধ্যাত্মিক জীবনের মূল ভিত্তি। আর একটি ছোট সুযোগ অবহেলা করলে, তা কখনো কখনো জীবনের বড় আফসোস হয়ে ফিরে আসে

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সন্দেহমুক্ত অন্তর, সঠিক উপলব্ধি এবং আউলিয়াদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দান করুন। আমিন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment