দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষের জ্ঞান যতই গভীর হোক, কিছু সত্য থাকে যা শুধু যুক্তি দিয়ে ধরা যায় না-অনুভব করতে হয় হৃদয় দিয়ে।
বিশেষ করে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর জীবনে এমন কিছু রহস্য ও কুদরত প্রকাশ পায়, যা একজন সংশয়বাদীকেও মুহূর্তে বিশ্বাসে রূপান্তরিত করতে পারে। ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মান্নান।
চলুন, শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর সেই কারামত সম্পর্কে জানি- আর ওলী-আউলিয়াগণের প্রেমে হৃদয়কে আলোকিত করি।”
শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত
ডা. আব্দুল মান্নান- পেশায় একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, বিজ্ঞানের মানুষ। আধ্যাত্মিকতা কিংবা পীর-ফকিরদের বিষয়ে তাঁর তেমন বিশ্বাস ছিল না; বরং তিনি এসব বিষয় এড়িয়ে চলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
কিন্তু একদিন হঠাৎই তাঁর জীবনে এলো এক অপ্রত্যাশিত আহ্বান।
ইঞ্জিনিয়ার আলী নবী চৌধুরীর বাসা থেকে তাঁকে ডাকা হলো- মাইজভান্ডার শরীফের শাহানশাহ সেখানে অবস্থান করছেন, তেনার চিকিৎসার প্রয়োজন।
পেশার দায়িত্বে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন।
বাসায় পৌঁছে তিনি দেখলেন-এক নূরানী চেহারার ব্যক্তিত্ব শান্তভাবে খাটে শায়িত। তেনাকে জানানো হলো, “ডাক্তার সাহেব এসেছেন।”
তিনি নরম ও শান্ত কণ্ঠে বাম হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন-
“অসুখ লাগছে, একটু দেখে দেন তো”
ডা. মান্নান তাঁর ডান হাতে নাড়ি পরীক্ষা করতে হাত রাখতেই-
হঠাৎ যেন এক অদৃশ্য শক্তির প্রবল স্রোত তাঁর শরীর ভেদ করে বয়ে গেল!
তাঁর অনুভূতিতে মনে হলো, যেন হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ শরীরের প্রতিটি অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই তীব্র ঝাঁকুনিতে তাঁর পুরো শরীর কেঁপে উঠল, শিরা-উপশিরা ঝিমঝিম করতে লাগল, আর তিনি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন।
এমন অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে কখনো ঘটেনি।
এটা ছিল না কোনো সাধারণ শারীরিক প্রতিক্রিয়া-বরং ছিল এক গভীর, অজানা, আধ্যাত্মিক স্পর্শ।
সেই মুহূর্তে তাঁর অন্তরে যেন এক নতুন উপলব্ধির দরজা খুলে গেল।
তিনি বুঝতে পারলেন-আল্লাহর ওলীদের মাঝে এমন এক নূরানী কুদরত রয়েছে, যা যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু হৃদয় তা স্পষ্টভাবে অনুভব করে।
আর সেই এক স্পর্শই বদলে দিল তাঁর পুরো জীবন।
যে মানুষ একসময় আধ্যাত্মিকতাকে এড়িয়ে চলতেন, তিনিই হয়ে উঠলেন সেই মহান ওলীর একনিষ্ঠ ভক্ত।
পরিশেষে
আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণ এই পৃথিবীতে আল্লাহর রহমত ও কুদরতের জীবন্ত নিদর্শন।
তেনাদের সংস্পর্শে কখনো কখনো এমন অভিজ্ঞতা ঘটে, যা মানুষের অন্তরকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
হয়তো একটি মুহূর্ত, একটি স্পর্শ-
কিন্তু তার প্রভাব হতে পারে আজীবনের।
তাই আসুন, আমরা আল্লাহর প্রিয় ওলী-আউলিয়াদের সম্মান করি, তেনাদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি এবং অন্তরকে প্রস্তুত রাখি- যেন কোনো এক অজানা মুহূর্তে আমরাও সেই নূরানী স্পর্শে আলোকিত হতে পারি।






