দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আমরা সবাই ইবাদত করি-
কিন্তু একটা প্রশ্ন কি কখনো নিজেকে করেছি?
“আমি আল্লাহকে ভালোবেসে ইবাদত করছি, নাকি শুধু ভয় আর আশার কারণে?” এই প্রশ্নটাই মানুষকে বদলে দিতে পারে।
মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা
সেই বিখ্যাত বাণীর মাধ্যমে আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন-
“হে আল্লাহ! যদি বেহেশতের আশায় আমি তোমার ইবাদত করি,
তবে বেহেশত হতে আমাকে তুমি বঞ্চিত করো।আর যদি দোজখের ভয়ে তোমার ইবাদত করি,
তবে দোজখের আগুনে আমাকে দগ্ধ করো।আর যদি শুধুই তোমাকে পাওয়ার আশায় ইবাদত করি,
তবে আমাকে নিরাশ করো না।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো-
আমরা কি সেখানে পৌঁছেছি?
১. ইবাদতে শান্তি পাও, না শুধু দায়িত্ব মনে হয়?
যদি তুমি আল্লাহকে ভালোবেসে ইবাদত করো-
ইবাদত তোমার কাছে বোঝা মনে হবে না,
বরং তা হবে এক ধরনের শান্তি।
২. গুনাহ হলে শুধু ভয় না, ভিতরটা ভেঙে যায়
জাহান্নামের ভয়ে করা ইবাদতে মানুষ শুধু শাস্তির ভয় পায়।
কিন্তু ভালোবাসার ইবাদতে-
গুনাহ করলে মনে হয়-
“আমি আমার প্রিয় রবকে কষ্ট দিলাম”
এই কষ্টই হলো সত্যিকারের ভালোবাসার চিহ্ন।
৩. নির্জনে আল্লাহকে বেশি মনে পড়ে
যখন কেউ একা থাকে-
- মানুষ নেই
- দুনিয়ার ব্যস্ততা নেই
তখন যদি আল্লাহর কথা মনে পড়ে,
তাহলেই বুঝবে সম্পর্কটা সত্যিকারের।
কারণ ভালোবাসা সবসময় নির্জনতায় প্রকাশ পায়।
৪. দোয়া শুধু চাওয়ার জন্য নয়, কথা বলার জন্য হয়
সাধারণত আমরা দোয়া করি কিছু পাওয়ার জন্য।
কিন্তু ভালোবাসার স্তরে-
- দোয়া হয়ে যায় আল্লাহর সাথে কথা বলা
- কখনো কিছু না চেয়েও শুধু কথা বলতে ইচ্ছে করে
৫. দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ লাগে
এটাই সবচেয়ে বড় লক্ষণ।
- মানুষ কী বলবে- এটা নয়
- আল্লাহ কী পছন্দ করেন- এটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়
পরিশেষে
মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহার বাণী শুধু একটি কথা নয়-
এটি একটি আয়না।
যেখানে তুমি নিজেকে দেখতে পারো,
বুঝতে পারো তুমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছো।
শেষ কথা
“যে আল্লাহকে তাঁর জন্যই ভালোবাসে,
সে-ই ইবাদতের আসল স্বাদ পায়।”








