কীভাবে গাউছে পাক হলেন গাউছুস সাকলাইন? – দয়াল বাবা জালালী মাওলার বর্ণনা।

গাউছে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির গাউছুস সাকলাইন মর্যাদা লাভের একটি বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক ঘটনা দয়াল বাবা জালালী মাওলার বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনা তেনার উচ্চতম বেলায়েতি মর্যাদা, আল্লাহর নৈকট্য এবং ওলীকুলের মধ্যে তেনার বিশেষ অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।

June 13, 2026 5:52 AM
কীভাবে গাউছে পাক হলেন গাউছুস সাকলাইন – আধ্যাত্মিক ঘটনা
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

ওলীকুলের শ্রেষ্ঠ, কুতুবে রব্বানী, মাহবুবে সোবহানী, গাউছুল আজম হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির অলৌকিক ঘটনা ও কারামতের কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে-কীভাবে তিনি “গাউছুস সাকলাইন” মর্যাদা লাভ করলেন? এই গাউছুস সাকলাইন উপাধির পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক বর্ণনা, যা বহু আশেকে রাসূলের হৃদয়ে গভীর অনুপ্রেরণা জাগায়

দয়াল বাবা জালালী মাওলা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন, কীভাবে হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি গাউছুস সাকলাইন হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন। আসুন, হৃদয়ের দরজা খুলে সেই বর্ণনার দিকে মনোযোগ দিই

রুহের জগতে তিন কাতার

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, রুহের জগতে তিনটি কাতার রয়েছে। একটি নবীগণের, একটি ওলীগণের এবং একটি সাধারণ মানুষের। প্রতিটি কাতারের দৈর্ঘ্য পঞ্চাশ হাজার বছরের রাস্তার সমান।

গাউছে পাক তেনার কপালে লেখা ওলী, তিনি নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে। দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, আমাদের দেশে বড় জামাতে কতিপয় আশেকে রাসূল কাতার সোজা করে। তেমনি ফেরেশতাদ্বয় কাতার সোজা করতেছে। তারা দেখতেছে একজনের কপালে ওলী লেখা, কিন্তু তিনি নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে। তখন ফেরেশতারা ধরে ওলীর কাতারে আনে।

ফেরেশতারা যখন অন্যদিকে কাতার সোজা করতে যায়, ফিরে এসে আবার দেখে সে নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে।

আল্লাহর বিশেষ ঘোষণা

ফেরেশতারা বলে, “মাবুদ, এই রুহটা বড় খারাপ।” আল্লাহ বলেন, “এই খারাপ বলিস না।” তখন ফেরেশতারা বলেন, “মাবুদ, এই রুহটার কপালে লেখা ওলী, কিন্তু সে নবীর কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।”

তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন, “তোমরা থামাতে পারবে না, আমি কথা বলছি।” এরপর আল্লাহ বলেন, “হে গাউছ, হে আবদুল কাদের, কী চাও আমার কাছে চাও? কেন তুমি নবীর কাতারে দাঁড়াও, তুমি ওলীর কাতারে যাও। তুমি যা চাও আমি তোমাকে তা দিবো।”

গাউছুস সাকলাইনের মর্যাদা

গাউছে পাক বলে, একটি দরজা ছিল, হাবিবুল্লাহ দিলা আমার নানাজান দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। আর একটি দরজা ছিল, খলিলুল্লাহ দিলা ইব্রাহিম খলিলকে। “হে খোদা, তোমার কাছে কি আছে, তুমি আমাকে কি দিবা?”

তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “আব্দুল কাদের, আমি তোমার জন্য আর একটি দরজা রেখে দিছি, যেই দরজার নাম হলো গাউছুস সাকলাইন।”

ফেরেশতা কুল, জিন কুল, মানব কুল-সবাই তোমার কাছে বায়াতে রাসুল গ্রহণ করবে। হে গাউছে পাক, পিছে যাও। তোমার ১১ (এগার) শরীফ যারা পালন করবে, আমি খোদার কসম করে বলছি, তাদের ১২ (বার) মাসের গুনাহ মাফ করে দেবো।

পরিশেষে

এই বর্ণনায় গাউছুস সাকলাইন মর্যাদার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওলীকুলের শিরোমণি তেনাকে সম্মান করা, স্মরণ করা একজন ঈমানদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য

তেনাকে স্মরণ করার মাধ্যমে আমাদের ঈমান আরও দৃঢ় হয় এবং মানুষ নেক আমল ও আল্লাহর পথে চলার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Related Stories

Leave a Comment