দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ওলীকুলের শ্রেষ্ঠ, কুতুবে রব্বানী, মাহবুবে সোবহানী, গাউছুল আজম হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি- তেনার অলৌকিক ঘটনা ও কারামতের কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কিভাবে হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হলেন গাউছুস সাকলাইন?
চলুন, আমরা সেই রহস্য ও বিস্ময়কর ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন- কীভাবে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি গাউছুস সাকলাইন হয়েছেন। আসুন, হৃদয়ের দরজা খুলে দয়াল বাবা জালালী মাওলার সেই আলোচনায় মনোযোগ দেই- যে আলোচনা আমাদের শেখাবে, গাউছুল আজম রহমাতুল্লাহি আলাইহি কিভাবে সমগ্র ওলিদের সর্দার হয়েছেন।
রুহের জগতে তিন কাতার।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, রুহের জগতে ৩ (তিন)টা কাতার হয়েছে। ১ (এক)টি হলো নবীগণের কাতার, ১ (এক)টি হলো ওলীগণের কাতার, ১ (এক)টি হলো সাধারণ মানুষের কাতার। এক একটা কাতার হয়েছে লম্বা ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার বছরের রাস্তা।
গাউছে পাক তেনার কপালে লেখা ওলী, তিনি নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে। দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, আমাদের দেশে বড় জামাতে কতিপয় আশেকে রাসূল কাতার সোজা করে। তেমনি ফেরেশতাদ্বয় কাতার সোজা করতেছে। তারা দেখতেছে একজনের কপালে ওলী লেখা, কিন্তু তিনি নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে। তখন ফেরেশতারা ধরে ওলীর কাতারে আনে। ফেরেশতারা যখন অন্যদিকে কাতার সোজা করতে যায়, ফিরে এসে আবার দেখে সে নবীর কাতারে দাঁড়ায় আছে।
ফেরেশতারা বলে, “মাবুদ, এই রুহটা বড় খারাপ।” আল্লাহ বলেন, “এই খারাপ বলিস না।” তখন ফেরেশতারা বলেন, “মাবুদ, এই রুহটার কপালে লেখা ওলী, কিন্তু সে নবীর কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।” তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, “তোমরা থামাতে পারবে না, আমি কথা বলছি।” তখন আল্লাহ বলে, “হে গাউছ, হে আবদুল কাদের, কি চাও আমার কাছে চাও? কেন তুমি নবীর কাতারে দাঁড়াও, তুমি ওলীর কাতারে যাও। তুমি যা চাও আমি তোমাকে তা দিবো।”
গাউছে পাক বলে, “হে খোদা, তোমার কাছে কি আছে, তুমি আমাকে কি দিবা?” একটি দরজা ছিল, হাবিবুল্লাহ দিলা আমার নানা দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। আর একটি দরজা ছিল, খলিলুল্লাহ দিলা ইব্রাহিম খলিলকে, “হে খোদা তোমার কাছে আর কি আছে তুমি আমাকে কি দিবা।” আল্লাহ বলেন, “আব্দুল কাদের, আমি তোমার জন্য আর একটি দরজা রেখে দিছি, যেই দরজার নাম হলো গাউছুস সাকলাইন।”
তোমার কাছে ফেরেশতা কুল, জিন কুল, মানব কুল সমস্ত তোমার কাছে বায়াতে রাসুল গ্রহণ করবে। ও গাউছে পাক, পিছে যাও, তোমার ১১ (এগার) শরীফ যারা পালন করবে, আমি খোদা জাতের কসম দিয়ে বলি, তাদের ১২ (বার) মাসের গুনাহ মাফ করে দেবো।
পরিশেষে
গাউছে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হলেন ওলীকুলের শিরোমণি। আল্লাহ তেনাকে গাউছুস সাকলাইন হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। তেনার বেলায়েতি শক্তি মানুষকে আল্লাহ ও রাসুলের পথে চলতে সাহায্য করে এবং ঈমানকে শক্তিশালী করে।









