দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সাধারণ বুদ্ধিতে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু রূহানী শক্তির রহস্য উন্মোচন করে। তেমনি এক অলৌকিক ঘটনা হলো— গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ। এই ঘটনাটি বাহ্যিকভাবে অবাক করা হলেও, এর অন্তরে লুকিয়ে আছে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির অদ্বিতীয় বেলায়েতের ইশারা ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এতে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। আসুন, তেনার বাণী থেকে সেই রহস্যময় শিক্ষার অর্থ জানি।
আধ্যাত্মিক শক্তির বিস্ময়
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর জবরদস্ত কুতবু, যাকে বাঘ ও সাপ মানতো। তিনি বাঘের পিঠে চড়ে বেড়াতেন। তিনি বাঘের পিঠে চড়ে সাপকে চাবুক হিসেবে ব্যবহার করতেন। একদিন তিনি বাঘের পিঠে চড়ে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দরবারে গেছেন। গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার রুমাল বিছিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনি বসেন।” তিনি সাহেনশাহ হালে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে বসেছেন।
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কে?” তিনি বললেন, “আমার নাম শিবলী; দেখেন না, বাঘ আমাকে মানে, সাপ আমাকে মানে।” গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “দেখছিতো।” তারপর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার বাঘ কোথায়?” শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “আপনার পুকুর ঘাটের মধ্যে রেখে আসছি।”
তখন গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “আমার দরবারে একটা ছাল নাই কুত্তা আছে; গিয়ে দেখেন, আপনার বাঘকে খেয়ে ফেলেছে।” তখন শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দৌড়ে গিয়ে দেখলেন, গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির ছাল নাই কুত্তা বাঘের অর্ধেক গিলে ফেলছে। শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার ভূল বুঝতে পেরে হুজুর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গেলেন। গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “সাবধান, হয়ে যাও বায়াতে রাসুল গ্রহণ করো।”
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দেয় গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির আধ্যাত্মিক মর্যাদা কত উচ্চ ও মহান। তেনার শক্তি মানুষের সীমা ছাড়িয়ে সমস্ত জীবজন্তুর উপরও বিস্তৃত। একই সঙ্গে এটি শেখায় – আসল শক্তি অহংকারে নয়, বরং বিনয়, আনুগত্য এবং ভক্তিতেই।”









