দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
খাজা গরীবে নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন এমন একজন ওলি, যিনি দুনিয়ায় রহমত ও হেদায়াতের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তেনার প্রতিটি নিঃশ্বাস ছিল দয়ার প্রতীক, আর প্রতিটি দোয়া ছিল জীবনের আহ্বান। একদিন এক বৃদ্ধ পিতার অশ্রু তেনার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তখন এমন এক অলৌকিক কারামতের প্রকাশ ঘটে, যা আজও ঈমান জাগায় মানুষের মনে। এ ঘটনাই প্রমাণ- ওলিগণ আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে একাকার হয়ে যান।
আসুন আমরা জানি খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির সেই অলৌকিক কারামত সম্পর্কে- যে কারামত যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। আজও ইমানদারদের অন্তর আনন্দ ও শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে খাজা বাবার সেই মহিমান্বিত ঘটনার কথা শুনে।
খাজা বাবার ডাকে মৃত্যু থেমে গেল, যুবক জীবিত হল।
একদিন খাজা গরীবে নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নামাজের জন্য ওজু করছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে তেনার কাছে এসে নালিশ করলেন। বৃদ্ধ বললেন, “হুজুর, এই শহরের হাকিম আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। সন্তানের শোকে আমি কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছি না। আপনি দয়া করে কিছু করুন।”
বৃদ্ধের চোখের পানি দেখে খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির অন্তর বেদনায় ভরে উঠল। তিনি তখনই লাঠি হাতে বৃদ্ধের বাড়ির দিকে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছে মৃত ছেলেটির পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন। উপস্থিত লোকজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল পরবর্তী ঘটনা দেখার জন্য। কিছুক্ষণ পর খাজা বাবা নীরবতা ভঙ্গ করে লাশের কাছে বসে পড়লেন।
খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কাটা মাথাটিকে হাতে নিয়ে যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন এবং বললেন, “হে যুবক! তুমি যদি নিরপরাধ হয়ে থাকো, তবে আমি বলছি- আল্লাহর হুকুমে তুমি জীবিত হয়ে যাও।” উপস্থিত সবাই নিঃশ্বাস রুদ্ধ করে দেখছিলেন কী ঘটে। খাজা বাবার কথা শেষ হতেই মৃত যুবকটি কালিমা শরিফ পড়তে পড়তে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।
উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল। কেউ কোনো কথা বলতে পারল না, শুধু বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। যুবক জীবিত হওয়ার পর বৃদ্ধ আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। সবার মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। খাজা বাবা যুবককে তার বৃদ্ধ পিতার হাতে তুলে দিয়ে নামাজের উদ্দেশ্যে সঙ্গীদের নিয়ে আস্তানায় ফিরে গেলেন।
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর প্রিয় ওলিদের দোয়া কখনো বিফল হয় না। খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির আহ্বানে মৃত্যু থেকেও জীবন ফিরে এসেছিল-এ যেন ঈমানের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। তেনার এই কারামত আজও বিশ্বাসীদের হৃদয়ে আনে নতুন প্রেরণা ও আল্লাহর রহমতের প্রতি গভীর আস্থা।









