দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“কারামাতুল আউলিয়া হাক্কুন” অর্থাৎ আল্লাহর ওলিদের কারামত সত্য। দয়াল বাবা জালালী মাওলার একটি জীবন্ত কারামত নিয়ে আলোচনা করব, যেখানে “ত্রিশ বছর আগেই জালালী মাওলা বলেছিলেন তেনার বেছাল শরীফের পবিত্র দিন-ক্ষণ”। চলুন, সেই অমূল্য সত্যের সন্ধানে যাই।
আল্লাহর ওলির জবান- আল্লাহর জবান
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫০২: হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন-
“আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে ক্রমাগত আমার নিকটবর্তী হতে থাকে, অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি।
আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি-
তখন আমি হয়ে যাই তার শোনার কান, যার দ্বারা সে শোনে;
আমি হয়ে যাই তার দেখার চোখ, যার দ্বারা সে দেখে;
আমি হয়ে যাই তার ধরার হাত, যার দ্বারা সে ধরে;
আমি হয়ে যাই তার চলার পা, যার দ্বারা সে চলে।”
আল্লাহ যেনাদের হাত, চোখ, কান ও পা হয়ে যান- তেনাদের জবানও হয় আল্লাহর জবান। এই ওলি আউলিয়াগণ ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তেনাদের কর্ম, কথা ও চেতনায় আল্লাহর ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়। এবং আল্লাহর ওলিদের বলা প্রতিটি কথা শুধু শব্দ নয়- তা একেকটি ইলহামী ইশারা।
ত্রিশ বছর আগের ঘোষণায় সত্যের সাক্ষর
দয়াল বাবা জালালী মাওলা সবসময়ই নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান ও মান নিয়ে দরদভরা আলোচনা করতেন। তিনি স্পষ্ট বলতেন: “নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইলমে গায়েব জানেন। আর ওহাবীরা বলে, জানেন না।” তাই জালালী মাওলা মাহফিলে, হাজার হাজার মানুষের সামনে ওহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন “নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো দূরের কথা, আমি জালালীও গায়েব জানি। আমি বলে যাচ্ছি- ২০১৭ সালের ১৩ জুন, ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস, মঙ্গলবার রাত ১০টায় আমি পর্দা করব। যদি না করি, তাহলে আমার দেহ নদীতে ফেলে দিও, আমার মাজার বানাইও না।”
হুবহু সেই ঘোষণার মতোই তিনি-
- ১৩ জুন (৩০ জ্যৈষ্ঠ), ২০১৭
- ১৭ রমজান
- ঐতিহাসিক বদর দিবস
- মঙ্গলবার রাত ১০টায় পর্দা করেন।
পর্দা করার পূর্বাভাস ও দেহ মোবারক সম্পর্কে নির্দেশনা
১৬ রমজান, অর্থাৎ পর্দা করার আগের দিন, তিনি আবারও বলেন:
- “আমি আগামীকাল রাত ১০টায় পর্দা করবো।”
- “আমার দেহ ফ্রিজে রাখিও না, বরফ দিও না, চা পাতা দিও না।”
- “আমার দেহ ৩ বা ৭ দিন পর্যন্ত রাখলেও পচবে না।”
চেহারা মোবারকে নূরের সাক্ষ্য
দয়াল বাবা জালালী মাওলার চেহারা মোবারক ছিলো নূরানী ও প্রশান্তিময়। লাখো মানুষ সেই চেহারা মোবারক দেখেছে।
মাথার পাশে ও পায়ের কাছে ফ্যান চলছিল, অথচ তেনার চেহারা মোবারক থেকে ঝরছিল ঘাম। চেহারার জ্যোতি ছিল এমন অপরূপ, যে একবার দেখেছে, সে কখনও ভুলতে পারবে না।
পরিশেষে
আল্লাহর ওলিরা এই দুনিয়ায় কেবল একজন সাধক নন, বরং তেনারা আল্লাহর রহমত ও নির্দেশের জীবন্ত মাধ্যম।
তেনাদের জবান এমন এক দরজার চাবি, যার মাধ্যমে আসমানী রহস্যের দ্বার উন্মোচিত হয়। ওলিদের মুখে উচ্চারিত প্রতিটি বাণী নিছক শব্দ নয়- তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ইশারা, যা বহন করে হিকমতের গভীর অর্থ। তেনাদের কারামত কোনো কাল্পনিক কাহিনি নয়, বরং তা বাস্তব, জাগ্রত ও লক্ষ্যণীয়। প্রতিটি কারামত এক একটি নিদর্শন, যা আল্লাহ নিজে তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
এই কারামতগুলো কেবল বিশ্বাসীদের হৃদয়েই আলো জ্বালে না, বরং অবিশ্বাসীদেরও স্তব্ধ করে দেয়।









