দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ছিলেন এমন এক অলিয়ে কামেল, যেনার মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি বাক্য যেন আল্লাহর কুদরতের ছোঁয়া পেত। আজ আমরা জানবো তেমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার কথা- যেখানে একটি চলন্ত ট্রেন, যা অনেক আগেই স্টেশন ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তা আবার ফিরে আসে আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর আশ্বাস অনুযায়ী।
আসুন, জেনে নিই আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সেই সত্য ও অলৌকিক ঘটনা, যা আজও ঈমানদার হৃদয়কে কাঁপিয়ে তোলে, দৃঢ় করে ঈমান এবং শিখিয়ে দেয়- আল্লাহর ওলিরা শুধু কথা বলেন না, তাঁদের কথার ভিতরে থাকে এক বিশেষ কুদরতির বাস্তবতা।
আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মুখের কথায় কুদরতের প্রকাশ
একবার ফজরের নামাজের পর, মাওলানা শাহ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বেরেলী শরীফ থেকে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন। নামাজ শেষে তিনি আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর কক্ষে গিয়ে বিনয়ের সাথে বললেন: “বাবা, আমি বাড়ি যেতে চাই। দয়া করে আমাকে অনুমতি দিন।” আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি স্নেহভরে বললেন: “নাস্তা করে যান, ট্রেন পেয়ে যাবেন।”
কিন্তু মাওলানা হাবিবুর রহমান-এর মনে তখন চিন্তা- ট্রেন ছাড়ার সময় প্রায় এসে গেছে! তারপরও মুর্শিদের হুকুম তো মানতেই হবে। তিনি নাস্তা খেতে বসলেন। কিছুটা দেরি করেই নাস্তা এলো। নাস্তা শেষে তিনি ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে স্টেশনে পৌঁছান। কিন্তু তখন উপস্থিত লোকজন বলল,
“ট্রেন তো প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই চলে গেছে! এত দেরি করলেন কেন?”
তিনি কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলে সরাসরি স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে বললেন:
“আমার মুর্শিদ, আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন যে আমি ট্রেন পাব। তাই ট্রেন আগেই ছেড়ে গেলেও, আমি জানি- আমি এই ট্রেনটাই পাব।”
তিনি এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে খবর এলো- ট্রেনটির ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে গেছে, এবং সেটিকে আবার বেরেলী স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে! এই সংবাদ শুনে তাঁর হৃদয় আনন্দে ভরে উঠল। তিনি স্টেশন মাস্টারকে বললেন, “দেখলেন তো? আমার মুর্শিদের কথা সত্যে পরিণত হয়েছে।” পরবর্তীতে, ইঞ্জিন মেরামত হয়ে গেলে তিনি সেই ট্রেনেই উঠে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের গন্তব্যে পৌঁছান।
পরিশেষে
এই ঘটনা শেখায়, আল্লাহর অলি-আউলিয়াগণের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস এবং তাওয়াক্কুলই সত্য শক্তির মূল। মানুষের জ্ঞান সীমিত হলেও অলি-আউলিয়াগণের জন্য কিছুই অসম্ভব নয়। আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর মুখের কথা আল্লাহর কুদরতের জীবন্ত প্রমাণ, যা আমাদের ঈমান শক্তিশালী করে তোলে।









