দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আজ আমরা আলোচনা করব অলৌকিক এক ঘটনার বিষয়ে- “স্বর্ণকারের সঙ্গে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি – এর এক বিস্ময়কর করামত”। এই ঘটনা শুধু বিস্ময়করই নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে অলী-আউলিয়াগণের প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
চলুন জেনে নিই সেই আশ্চর্য ঘটনা, যেখানে আধ্যাত্মিক শক্তি ও আল্লাহর অলী-আউলিয়াগণের বিশেষ অনুগ্রহ আমাদের সামনে নতুন এক সত্যের আলোকবর্তিকা তুলে ধরে।
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি- এর করামত
একদিন এক স্বর্ণকার হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তিনি হাতে একটি বিশেষ পরশপাথর নিয়ে এলেন এবং বললেন,
“এই পাথরের সাহায্যে প্রচুর পরিমাণ সোনা তৈরি করা সম্ভব। এর মূল্য হবে মুঘল সাম্রাজ্যের এক বছরের জমির খাজনার সমান। এই সোনা দিয়ে আপনার খানকাহের সকল ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব।”
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উত্তরে বললেন,
“আমি তোমাকে এমন একটি ব্যবস্থা দেব, যার মাধ্যমে দরবারের সমস্ত খরচ বহন করা সম্ভব হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, তুমি নিজেই তা করবে এবং শেষে আমাকে তা ফেরত দেবে।”
স্বর্ণকার সম্মতি জানিয়ে বললেন, “হযরত, আমি অবশ্যই আপনার কথা পালন করব।”
এরপর হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার খাদেমকে আদেশ দিলেন,
“যখন আমি পায়খানা থেকে বের হব, তখন আমার পায়খানা ও প্রস্রাব ওই স্বর্ণকারকে দিয়ে বলো, সে যেন তা শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে খুলে দেখে।”
নির্দেশ অনুযায়ী, স্বর্ণকার সেই মল-মূত্র বগলে করে শহরের বাইরে এক জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছালেন। সেখানে যখন তিনি প্যাকেট খুললেন, তখন হতবাক হয়ে দেখলেন-
পায়খানা ও প্রস্রাব সম্পূর্ণরূপে খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হয়ে গেছে!
“এই অলৌকিক ঘটনা দেখে স্বর্ণকার খুবই অবাক হয়ে গেলেন। তিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি- এর দরবারে ফিরে এলেন এবং জীবনের বাকি সময় তেনার সান্নিধ্যে থেকে কাটাতে শুরু করেন।”
পরিশেষে
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায়, দুনিয়ার ধন-সম্পদের প্রতি আল্লাহর বন্ধুদের কোনো আসক্তি নেই। তেনাদের আধ্যাত্মিক শক্তি এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা এতটাই গভীর যে, তেনারা চাইলে সোনা তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু তেনারা দুনিয়াবি লোভে মগ্ন হন না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।
এই করামত আমাদের শেখায়-
অলী-আউলিয়াগণের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ঈমান দৃঢ় করাই প্রকৃত সফলতা।









