দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ইসলামের অন্যতম প্রধান নবী, যিনি বনি ইসরাইলের জন্য হেদায়েতের আলো নিয়ে আসেন এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তেনার জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি অত্যন্ত আলোচিত ঘটনা হলো “তুর পর্বতে আল্লাহকে দেখার ঘটনা।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর এই তুর পর্বতে আল্লাহকে দেখার ঘটনা-টি অত্যন্ত গভীরভাবে ও হৃদয়স্পর্শী ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছেন। তেনার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় এই ঘটনা শুধু ইতিহাস নয়, বরং এক অনন্ত ইশকের প্রতিচ্ছবি। আসুন, সেই অলৌকিক মুহূর্তের রহস্যময় ঘটনা জানতে চেষ্টা করি।
আল্লাহ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা ও তুর পর্বতের ঘটনা
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ০১ দিন কম ৪০ বছর তুর পর্বতে আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি খেজুর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতেন। আর খেজুর গাছের মাথা থেকে আওয়াজ আসত। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে-
“হাত্তা উরজুনিল কাদিম”
একদিন হজরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তায়ালাকে বললেন:
“রাব্বি! আরিনি- হে খোদা! তুমি আমার সঙ্গে দেখা দাও”
আল্লাহ তায়ালা বললেন-
“লাম তারানি- তুমি আমাকে দেখতে পারবে না।”
হজরত মুসা আলাইহিস ভাবলেন-
“৪০ বছর ধরে খোদার সাথে আনাগোনা করি, আর আমি খোদাকে দেখতে পাব না?”
তিনি দৌড়ে গিয়ে খেজুর গাছকে জড়িয়ে ধরলেন, চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন:
“খোদা আমার সঙ্গে দেখা না দিলে আমি তোমাকে যেতে দেব না।”
খোদা আর সহ্য করতে পারেননি। খোদার ৭০ হাজার পর্দার প্রথম পর্দার সুই পরিমাণ বোতাম খুলতেই তুর পর্বত জ্বলে তামা হয়ে গেছে।
আল্লাহ তায়ালা বললেন-
“উনযুর ইলাইকা- তুমি নিজের দিকে নজর করো।”
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁর জামা, পায়জামা সব ঠিক আছে। এরপর আল্লাহ বললেন:
“এবার চারদিকে তাকাও।”
তিনি তাকিয়ে দেখলেন, সমস্ত গাছপালা, পাহাড়-পর্বত পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্মিত হয়ে বললেন:
“মাবুদ, এতো গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সব কিছু কোথায় গেল?”
আল্লাহ বললেন-
“মুসা হে মুসা, আমি ইশকের আগুনে সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছি, কিন্তু তোমার জামায় আগুন লাগাতে পারলাম না কেন? এর কারণ তুমি জান কি?”
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম বললেন-
“লা আদরি- আমি জানি না।”
আল্লাহ তায়ালা তখন বললেন-
“মুসা, তোমার ইন্তেকালের ২৪০০ বছর পর হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম আসবেন। হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর ৫৬৯ বছর পর আমার প্রিয় বন্ধু, মাহবুবে খোদা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে শুভ আগমন করবেন।”
“হে মুসা, যেদিন আমার প্রিয় হাবীব নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে শুভাগমন করবেন, সেদিন মা আমেনার ঘরে খেজুর পাতার বেড়া ও খেজুর পাতার ছাউনি থাকবে। এ কারণে যত খেজুর গাছ আছে, সব গাছ মোহাম্মদী রঙে রঙিন হয়ে গেছে। আমার ইশকের আগুনে তুর পর্বতকে জ্বালিয়ে তামা বানিয়ে দিলাম, কিন্তু মোহাম্মদী রঙের ওপর আগুন লাগাতে পারলাম না।”
উপসংহার
পরিশেষে, হজরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর তুর পর্বতে আল্লাহকে দেখার ঘটনা আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তায়ালা পরম মহান ও তেনার শক্তি অসীম। পাশাপাশি, এই তুর পর্বতে আল্লাহকে দেখার ঘটনা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা কত উচ্চ এবং আল্লাহর সাথে তেনার ভালোবাসা কত গভীর, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এই মহিমান্বিত ঘটনা শুধুমাত্র সেই যুগের জন্যই নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈমানের পরীক্ষা ও শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বহমান থাকবে।
👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন
© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host










