দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানব চরিত্রের অন্যতম একটি মারাত্মক ব্যাধি হলো অন্যের পেছনে সমালোচনা করা। এই পরনিন্দা ও গীবত আপনার অজান্তেই আপনার তিল তিল করে জমানো তামাম নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। আজ আমরা জানবো কেন ইসলামে গীবতকে এত কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটি কীভাবে আমাদের আখেরাতের পুঁজি শেষ করে দিচ্ছে।
গীবতের ভয়াবহতা ও কুরআনের কঠোর হুশিয়ারি
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা গীবত বা পরনিন্দাকে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সূরা-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-“তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তা ঘৃণা করো।” অর্থাৎ, পরনিন্দা ও গীবত করা মানে নিজের মৃত ভাইয়ের কাঁচা মাংস খাওয়ার সমান জঘন্য কাজ।
আমল বিনাশী আগুন: পরনিন্দা ও গীবত
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, পরনিন্দা মানুষের নেক আমলগুলোকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন শুকনো কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। আপনি সারাদিন রোজা রেখে বা সারারাত নফল ইবাদত করে যে সওয়াব কামাই করছেন, একবার পরনিন্দা ও গীবত করার কারণে সেই সব সওয়াব ওই ব্যক্তির আমলনামায় চলে যায় যার নামে আপনি সমালোচনা করেছেন। এটিই হলো আমল ধ্বংস হওয়ার সেই গোপন কারণ।
পরনিন্দা থেকে বাঁচার আধ্যাত্মিক উপায়
ওলী-আউলিয়াদের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রকৃত ঈমানদার সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। অন্যের দোষ না খুঁজে নিজের নফসের সংশোধন করাই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পরনিন্দা ও গীবত থেকে বাঁচতে হলে জিব্বা হেফাজত করা এবং অন্যের অনুপস্থিতিতে কেবল তার ভালো গুণগুলো আলোচনা করা উচিত। মনে রাখবেন, চুপ থাকা অনেক সময় হাজারো গুনাহ থেকে বাঁচার চাবিকাঠি।
উপসংহার: তওবা ও আত্মশুদ্ধি
পরিশেষে, আমরা যদি অতীতে কারো গীবত করে থাকি, তবে আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করা এবং সম্ভব হলে ওই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। দয়াল আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরনিন্দা ও গীবত থেকে দূরে রাখুন এবং ওলীগণের উসিলায় সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে থেকে জিব্বা হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। আমীন।










