দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের প্রতিটি আচরণের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। মানুষের চরিত্রের অন্যতম প্রধান অলঙ্কার হলো তার কথা। ওলী-আউলিয়াগণ বলেন, সুন্দর ও পরিমিত কথা বলার আদব ঈমাদারের ঈমানি সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। আজ আমরা জানবো কেন ইসলামে অপ্রয়োজনীয় কথা পরিহার করে চুপ থাকাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
জিব্বা হেফাজত ও নূর নবীজি ﷺ-এর বাণী
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” অর্থাৎ, ঈমানদারের জন্য কথা বলার আদব হলো কেবল কল্যাণকর বিষয়ে মুখ খোলা। অপ্রয়োজনীয় বা বিতর্কিত কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা অনেক বেশি নিরাপদ। হাদিস শরীফে আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেবেন।
চুপ থাকা কেন ইবাদত?
ইসলামে চুপ থাকাকে ইবাদত বলা হয়েছে কারণ চুপ থাকা মানুষকে অনেক বড় বড় গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। যখন মানুষ চুপ থাকে, তখন সে গীবত, পরনিন্দা, মিথ্যা ও ঝগড়া থেকে নিরাপদ থাকে। ওলী-আল্লাহদের শিক্ষা অনুযায়ী, অধিক কথা বললে অন্তরের নূর বা রূহার্নী জ্যোতি কমে যায় এবং কলব শক্ত হয়ে পড়ে। তাই নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে নীরবতা পালন করাও এক প্রকারের কঠিন আধ্যাত্মিক সাধনা বা ইবাদত।
কথা বলার কিছু সুন্নতি আদব
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। কথা বলার আদব এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ধীরে ধীরে স্পষ্ট স্বরে কথা বলা যাতে অন্যজন বুঝতে পারে, চিৎকার করে বা কর্কশ ভাষায় কথা না বলা এবং সর্বদা সত্য কথা বলা। মাওলা আলী আলাইহিস সালাম-এর একটি বিখ্যাত বাণী হলো- ”যখন মানুষের বুদ্ধিমত্তা পূর্ণতা পায়, তখন তার অপ্রয়োজনীয় কথা বলার অভ্যাস কমে যায়।”
উপসংহার: নীরবতার সৌন্দর্য
পরিশেষে, আমাদের কথাগুলো যেন কারো মনে কষ্টের কারণ না হয়। পরিমিত ও মিষ্টি কথা বলা যেমন সওয়াবের কাজ, তেমনি পাপাচার থেকে বাঁচতে নীরবতা পালন করাও আল্লাহর প্রিয় আমল। দয়াল আল্লাহ আমাদের সবাইকে কথা বলার আদব রক্ষা করার এবং ওলীগণের উসিলায় সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে থেকে জিব্বা হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। আমীন।










