---Advertisement---

মিশর থেকে মাত্র ২৭ কদমে মক্কা শরীফ- আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতীর অলৌকিক কারামত।

October 17, 2025 6:50 AM
মিশর থেকে মাত্র ২৭ কদমে মক্কা শরীফ- আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতীর অলৌকিক কারামত।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মিসরের কায়রো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও সুফি সাধক। ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান, তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আধ্যাত্মিকতায় তিনি অতুলনীয় দক্ষতার অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তেনাকে অসাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি ও কারামাত দান করেছিলেন, যা তেনার জীবনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা তেনর একটি কারামত উল্লেখ করবো, যেখানে তিনি “মিশর হতে ২৭ কদম সামনে অগ্রসর হতেই মক্কা শরীফের গেটে” পৌঁছান।

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের রূহানী দৃষ্টিপাত ও সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি ৭৫ বার নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছেন এবং সরাসরি হাদিস জিজ্ঞাসা করে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে উত্তরের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। আসুন, তেনার সেই অলৌকিক কারামত সম্পর্কে জানি

২৭ কদমে মিশর থেকে মক্কা

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর একজন খাদেম ছিলেন, নাম তার মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক। একদিন দুপুরে খাবারের পর আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “আজ আসরের সালাত তোমাকে মক্কা শরীফে পড়ার ব্যবস্থা করবো।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক কথাটি শুনেই বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ।”

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তাহলে তোমার চোখ বন্ধ করো।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক চোখ বন্ধ করলেন।

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাকের হাত ধরে প্রায় ২৭ কদম সামনে অগ্রসর হলেন। তারপর তিনি বললেন, “চোখ খোল।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক চোখ খুলতেই দেখলেন তারা দু’জন মক্কা শরীফের গেটে দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর তারা কাবা শরীফে তাওয়াফ করলেন, পবিত্র জমজমের পানি পান করলেন এবং আসরের সালাত আদায় করলেন। মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক দেখলেন হেরেমের আশেপাশে তাদের পরিচিত মিশরের অনেক লোক রয়েছে, কিন্তু তারা তাদের চিনতে পারেনি।

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাককে বললেন, “তুমি ইচ্ছে করলে আমার সঙ্গেই যেতে পারো অথবা হাজীদের সঙ্গে চলে এসো।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক বললেন, “আপনার সঙ্গেই যাব।”

তারপর তেনারা রওনা হলেন। মক্কা শরীফের গেটে পৌঁছালে আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাককে বললেন, “তোমার চোখ বন্ধ করো।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক চোখ বন্ধ করলেন। ২৭ কদম অগ্রসর হওয়ার পর আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “এবার চোখ খোল।” মুহাম্মদ ইবনে আলী হাব্বাক চোখ খুলতেই দেখলেন তারা মিশরে পৌঁছে গেছেন।

পরিশেষে

এই অলৌকিক ঘটনা প্রমাণ করে আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহির আধ্যাত্মিক শক্তি ও আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত কারামতের গভীরতা। তেনার জ্ঞান, ভক্তি ও নৈকট্য মানুষের জন্য ঈমান ও অনুপ্রেরণার উৎস। এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, সত্যিকার ওলী আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment