---Advertisement---

নবীজি ﷺ এর প্রতি ভালোবাসাই মুক্তির চাবিকাঠি- এক ইহুদি যুবকের ঘটনা।

October 18, 2025 4:27 PM
নবীজি ﷺ এর প্রতি ভালোবাসাই মুক্তির চাবিকাঠি- এক ইহুদি যুবকের ঘটনা।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত। তেনার প্রতি ভালোবাসা শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বহু অমুসলিমও তেনাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন এবং তেনার নৈতিকতা ও করুণার প্রতি মুগ্ধ হতেন। আজ আমরা এমনই একটি শিক্ষণীয় ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো- “নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসাই মুক্তির চাবিকাঠি: এক ইহুদি যুবকের ঘটনা”; যা আমাদের দেখাবে, কীভাবে ভালোবাসা জীবনকে বদলে দিতে এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করতে পারে।

আসুন, আমরা সেই হৃদয়ছোঁয়া ঘটনাটি জানি- যেখানে প্রকাশ পায় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি এক নিখাদ ভালোবাসার অলৌকিক শক্তি। সেইসাথে চেষ্টা করি তেনার প্রেমে আত্মহারা হতে, কারণ সেই প্রেমই আমাদের মুক্তি ও আলোকিত জীবনের পথে নিয়ে যাবে।

নবীজি ﷺ এর দয়ার স্পর্শেই মুক্তি পেল এক ইহুদি যুবক

একজন ইহুদি যুবক ছিলেন, যিনি সাত বছর ধরে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জুতা মোবারক বহন করতেন। যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীতে প্রবেশ করতেন, তখন এই ইহুদি যুবক তেনার জুতা মোবারক বুকে আগলে রাখতেন। কিছু সাহাবি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন,

“ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই ছেলেটি তো ইহুদি, সে আপনার খেদমত করে- এটি আমাদের কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়।”

তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“তোমরা চুপ থাকো, আমি জানি সে ইহুদি-আমাকে বলার প্রয়োজন নেই।”

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন, ইহুদি ছেলেটি কয়েকদিন ধরে আসছে না। তিনি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করলেন,

“আবু বকর! আমি ইহুদি ছেলেটিকে কয়েকদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি না, সে কোথায়?”

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন,
“ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”

তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“আমাকে আগে বলোনি কেন? চলো, আমি এখনই তাকে দেখতে যাব।”

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে নিয়ে ইহুদি ছেলেটির বাড়িতে গেলেন। ইহুদি ছেলেটির বাবা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বসার জন্য কুর্সি দিলেন। কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুর্সিতে না বসে সরাসরি অসুস্থ যুবকের বিছানার পাশে বসলেন এবং স্নেহভরে তার কপালে হাত মুবারক রাখলেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহূর্তের হাত সরিয়ে নিলেন এবং তেনার মুখ মোবারক মলিন হয়ে গেল।

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বাবা, তাড়াতাড়ি কালেমা পড়ো, তাড়াতাড়ি কালেমা পড়ো!”

কিন্তু যুবকটি তার বাবার দিকে তাকাল। তখন তার পিতা বললেন,
“বাবা! আমার দিকে তাকিও না, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা মোবারকের দিকে তাকাও এবং তিনি যা বলছেন, তাই করো।”

ইহুদি যুবক সঙ্গে সঙ্গে কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন,
“আবু বকর, আমি যখন কপালে হাত রাখলাম, তখন দেখলাম, আমার আগে আজরাইল এখানে বসে আছে। আমি তখন আল্লাহর কাছে বললাম হে খোদা! এই ছেলেটি সাত বছর ধরে আমার খেদমত করেছে, আমার জুতা বুকে আগলে রেখেছে। আমি কীভাবে সহ্য করব যে, সে দোজখের আগুনে জ্বলবে?”

তখন আল্লাহ তায়ালা আজরাইলকে বললেন,
‘আমার বন্ধু কালেমার তালকিন দিচ্ছে; ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি যুবকটির জীবন নেবে না, যতক্ষণ না সে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়।’

অবশেষে ছেলেটি কালেমা পড়ে জান্নাতি হয়ে মৃত্যুবরণ করল। নবীজির ভালোবাসা ও খেদমতের বরকতে এক ইহুদি যুবক ঈমান লাভ করল এবং জান্নাতের পথে চলে গেল।

শিক্ষণীয় বিষয়

  • নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা পরকালে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম।
  • যে-ই নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ভালোবাসবে, সেই মুক্তি পাবে।
  • নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভালোবাসার কারণে আল্লাহর রহমত ও জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া সম্ভব।

পরিশেষে

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা আমাদের মুক্তির পথ সুগম করে। তেনার প্রতি ভালোবাসাই পরকালীন মুক্তির চাবিকাঠি। ইহুদি যুবকের ঈমান গ্রহণের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা পরকালে সফলতার পথ দেখায়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment