দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“আযানের আগে ছালাতু সালাম দেওয়া সুন্নতে জিবরাঈল” আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, কারণ অনেকের কাছে আযানের আগে ছালাতু সালাম পেশ করাকে একটি ঐচ্ছিক রেওয়ায়েত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায় এর মধ্যে রয়েছে নবীপ্রেম ও ঈমানি আবেগের গম্ভীর প্রকাশ। আর এই পবিত্র রীতি মুসলিম হৃদয়ে নবীজির প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ঈমানি অনুভূতি জাগ্রত করে।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা আযানের আগে ছালাতু সালাম দেওয়া সুন্নতে জিবরাইল সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।
আযানের আগে ছালাতু সালাম
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৮ হাজার ১১ জন সাহাবি নিয়ে মক্কা থেকে হিজরত করে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার মদীনা মুনাওয়ারাহ পৌছলেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্বোবায় অবস্থান করেন। শুক্রবারের দিন মদীনা নগরীর দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে বনী সালেম ইবনে আউফের বাতুনে ওয়াদীতের গেটে যখন প্রবেশ করেন- তখনই হজরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উপস্থিত হন এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভরে সালাম জানান-
“আসসালাতু আসসালামু আলাইকা সাইয়্যিদি ইয়া রাসূলাল্লাহ, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা সাইয়্যিদি ইয়া হাবীবাল্লাহ।”
এরপর জিবরাইল আলাইহিস সালাম বলেন-
“ইয়া আয়্যুহাল্লাজিনা আমানু, ইযা নুদিয়া লিস্সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমু’আতি ফাস’আউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জরুল বাই”।
(সুরা জুমু‘আ: ৯)
হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আগে দিয়েছে সালাম পরে বলেছেন কালাম। নবীগো আল্লাহ খবর পাঠিয়েছে আযান দিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করতে। “নু’দিয়া” শব্দটির অর্থ আযান। এবার দেখা যায় আযানের আাগে সালাতুস সালাম দেওয়া ঈমানদারের উপরে ফরজে আজম ফরজ হয়ে গেছে। সেখানেই সর্বপ্রথম জুমআহ এর নামাজ আদায় হয় এবং সেখানে এখনো মসজিদ রয়েছে।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“ফাতওয়ায়ে জিবরাঈল” কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ড “বাবুল এতিয়াত” ৯ম পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে-
“আযানের আগে ছালাতু সালাম দেওয়া সুন্নতে জিবরাইল।”
পরিশেষে
অতএব, “আযানের আগে সালাম দেওয়া কোনো ইচ্ছাধীন বা ঐচ্ছিক রেওয়ায়েত নয়; বরং এটি এমন একটি আমল, যা মুসলিম হৃদয়ে ঈমান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই আমলকে ধরে রাখার মধ্যেই প্রকাশ পায় প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসা।










