---Advertisement---

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘নেতা’ ও ‘বিশ্বনবী’ বলা কুফরি: দয়াল বাবা জালালী মাওলার ঈমানি সতর্কতা।

November 3, 2025 3:02 PM
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘নেতা’ ও ‘বিশ্বনবী’ বলা কুফরি: দয়াল বাবা জালালী মাওলার ঈমানি সতর্কতা।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আজ আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, তা হলো: “নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ‘নেতা’ বা ‘বিশ্বনবী’ বলা কুফরি: দয়াল বাবা জালালী মাওলার ঈমানি সতর্কতা”। কারণ, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত। তিনি আল্লাহর জাতি নূরের জ্যোতি। তেনার মর্যাদা, সম্মান ও মহিমা এতই উঁচু যে, এমন কোনো শব্দ বা উপমা গ্রহণযোগ্য নয়, যা সামান্য হলেও তেনার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে

দয়াল বাবা জালালী মাওলা এ বিষয়ে আমাদের চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তিনি গভীর গুরুত্বসহকারে আমাদের সতর্ক করেছেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে ব্যবহৃত শব্দচয়ন যেন আমাদের ঈমানের ক্ষতি না করে। আসুন, আমরা বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করি

কুফরি কাকে বলে?

“কুফরি” শব্দটি আরবি, যার অর্থ- অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা। আল্লাহ, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কুরআন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, বিধান বা দীনকে অস্বীকার করা, উপহাস করা বা অবজ্ঞা করাকেই কুফরি বলা হয়

কুফরির কিছু উদাহরণ:

১. আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা- যেমন বলা, “আল্লাহ নেই”- এটি কুফরি।
২. নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলা- যেমন, তিনি সাধারণ মানুষ, দোষে-গুণে ভরা, মাটির মানুষ, ইলমে গায়ব জানেন না, সুপারিশ করতে পারবেন না, “নেতা” বা “বিশ্বনবী”- এই জাতীয় শব্দ বা উপমাসমুহ যা তেনার শান ও মর্যাদাকে খাটো করে তা- কুফরি।
৩. কুরআনের আয়াত বা হুকুমকে উপহাস করা-যেমন কেউ বলল, “এই আয়াত তো এখনকার যুগে চলে না।”
৪. শরিয়ত নিয়ে ঠাট্টা করা-যেমন, “এইসব নিয়ম এখনো কেউ মানে নাকি?”
৫. কোনো হারাম জিনিসকে হালাল বলা- যেমন বলা, “সুদ খাওয়াতে সমস্যা নেই।”

দয়াল বাবা জালালী মাওলার ঈমানি সতর্কতা: ‘নেতা’ ও ‘বিশ্বনবী’ বলা কুফরি

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- বিভিন্ন পোস্টার ও দেয়ালে এমন একটি বাক্য দেখা যায়: “আমার নেতা, তোমার নেতা- বিশ্বনবী মোস্তফা”। তিনি বলেন, এটি একটি “ডাবল কুফরি” বাক্য, কেননা এতে দুটি কুফরি শব্দ রয়েছে:
১. “নেতা”
২. “বিশ্বনবী”

তিনি এই দুই শব্দ কেন কুফুরি তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:

“নেতা” শব্দটি কুফরি কেন?

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, “নেতা” শব্দের দুটি অর্থ আছে:

১. তেনা
২. সর্দার

১. “তেনা”:
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- “পুরনো বা ছেঁড়া কাপড়, যা আর ব্যবহারযোগ্য নয়, তাকেই বলে ‘তেনা’। উদাহরণস্বরূপ, কারও লুঙ্গি ছিঁড়ে গেলে তা তেনা হয়ে যায়। মা-বোনদের কাপড় ছিঁড়ে গেলে সেগুলোও তেনা হয়ে যায়। এই তেনা দিয়ে অনেকে শিশুদের পায়খানা মুছে, আবার পুরুষেরা জুতা পরিষ্কার করে।”

তিনি বলেন, “ভাবুন তো, যদি কেউ এমন কোনো শব্দ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে ব্যবহার করে- যার অর্থ ‘তেনা’র মতো নিচু বা অপমানজনক হয়, তাহলে তা কি গ্রহণযোগ্য? ‘নেতা’ শব্দটিও এমন এক অর্থ বহন করে, যা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা, মহিমা, গৌরব, সম্মানে সরাসরি আঘাত হানে। এটি এমন গুরুতর বিষয়, যা ঈমানের জন্য হুমকিস্বরূপ।” তিনি আরও বলেন- এই অর্থ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে করা যাবে কি? কেউ যদি করে তার মুসলমানি আছে কি?

২. “সর্দার”:
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- “‘সর্দার’ মানে নেতা বা প্রধান। কিন্তু সর্দার পদে পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়। এক সময় সর্দারের গলায় ফুলের মালা পড়ে, আবার সময় বদলালে সেই গলাতেই জুতার মালাও পড়তে দেখা যায়। সর্দার আজ সম্মানিত, কাল হতে পারে অপমানিত।”

“কিন্তু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন নেই। তেনার শান চিরন্তন, মাহাত্ম্য চিরউজ্জ্বল। তিনি হলেন সাইয়্যেদ- যার অর্থ হলো গুণে ও মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন—
বাশার → মুমিন → আবদাল → আওতাদ → নকীব → রকীব → আরেফ → মানসুক → আলেম → মৌলভী → মাওলানা → আল্লামা → ফাহামা → মোল্লা → ওলি → গাউস → কুতুব → কুতুবুল আকতাব → কুতুবুজ জাদ্দি → দরবেশ → ইমাম → ইমামে আযম → গাউস→ গাউসুল আযম → তাবেঈ → সাহাবি → মুহাজির → আনসার → শহীদ → ফারুক → ফারুকে আযম → সিদ্দিক → সিদ্দিকে আকবর → নবী → সাকায়েতুল্লাহ → রহমতুল্লাহ → বরকতুল্লাহ → রাসূলুল্লাহ → হাবীবুল্লাহ → তারপর আল্লাহ।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরেই আল্লাহর অবস্থান। তেনার মর্যাদা এতটাই মহান যে, তেনার জন্য এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয় যা সাধারণ বা অসম্মানজনক। যেমন- ‘সর্দার’ বা ‘নেতা’। এসব শব্দ সাধারণ মানুষের জন্য বলা যায়, কিন্তু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য নয়। এসব শব্দ দিয়ে তেনার শান বা মর্যাদা প্রকাশ করা মোটেও ঠিক নয়, কেননা এটি স্পষ্টতই অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন- এই অর্থ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে করা যাবে কি? কেউ যদি করে তার মুসলমানি আছে কি? তিনি আরও বলেন, “যারা বলে, ‘নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মতোই একজন মানুষ’, তারা সত্যিই মুসলমান কি?”

“বিশ্বনবী” শব্দটি কুফরি কেন?

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- আল্লাহ যত ‘আলম’-এর রব, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তত ‘আলম’-এর রহমত। তিনি আশি হাজার আলম এবং আঠারো হাজার জাতের নবী। কিন্তু “বিশ্বনবী” শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধতা আছে। এটি বোঝায় যে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল এই পৃথিবীর নবী

আল্লাহ বলেন: “আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)

এই আয়াতে প্রমাণিত হয়েছে- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল পৃথিবীর নবী নয়, তিনি সমস্ত সৃষ্টির নবী। তিনি মানুষ, পশু-পাখি, জিন, ফেরেশতা, গাছপালা, পাহাড়-নদী, পৃথিবী ও মহাকাশ, এমনকি অদৃশ্য জগত ও আত্মিক জগতেরও নবী

এক কথায়- আল্লাহর সৃষ্টি যেখানে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রহমত সেখানে। সূর্য যেমন প্রতিটি সৃষ্টিকে আলো, দিশা ও শান্তি দেয়, তেমনি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রহমতের আলোকপ্রবাহও ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে। কারণ, রহমত ছাড়া কোনো সৃষ্টিই বাঁচতে পারে না

“বিশ্বনবী” এই সীমিত শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর কালামকে যেমন অস্বীকার করা হয়েছে তেমনি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গৌরব, মহিমা, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে খাটো করা হয়েছে- যা স্পষ্ট কুফরি। কারণ, তিনি সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, অদ্বিতীয় ও তুলনাবিহীন নবী। এই সাধারণ শব্দ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে ব্যবহার করা যাবে কি? কেউ যদি করে তার মুসলমানি আছে কি?

পরিশেষে

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা এতটাই বড় যে, তা বোঝানোর মতো ভাষা আমাদের নেই। তেনার প্রতি সামান্যতম অবজ্ঞা কিংবা অসম্মান আমাদের ঈমান ধ্বংস করে দিতে পারে

অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, মন্তব্য ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment