দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আজকের আলোচনার বিষয়: “সুন্নাহ অনুযায়ী হোক আমাদের বিয়ে”
- বিয়ে হবে মসজিদে,
- বিয়ের খুতবা হবে দাঁড়িয়ে,
- বিয়ের ঘোষণা হবে দফ (এক মুখো ঢোল) বাজিয়ে।
আজকের সমাজে বিয়ে যেন হয়ে উঠেছে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা- যেখানে ইসলামি আদর্শ, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ ও বরকতের পথ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ বিয়ে শুধুই একটি সামাজিক চুক্তি নয়; এটি এক ইবাদত, হালাল সম্পর্ক গড়ার আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার।
আসুন, আমরা জানি-
কীভাবে একটি বিয়ে হতে পারে সুন্নাহসম্মত, হালাল ও বরকতময়?
এই বিষয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলা কী বলেছেন।
বিয়ের খুতবা ও বিয়ের প্রকৃত রীতি
বিয়ের মধ্যে খুতবা আছে। জুমার খুতবা যেমন দাঁড়িয়ে পড়া হয়, তেমনি বিয়ের খুতবাও দাঁড়িয়ে পড়া সুন্নতে রাসূল। আর বিয়ের খুতবা বসে পড়া- এটি সুন্নাতের খেলাফ । এই যে এত বিয়ে হচ্ছে, কোনো মোল্লাকে কি দেখেছেন বিয়ের খুতবা দাঁড়িয়ে পড়তে? সবাই বসে বসে খুতবা পড়ে। কেউ তো কোনো প্রতিবাদ করে না।
এই জন্য যে বিয়েতে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাই অর্থাৎ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হয় না সেই বিয়েটা হারাম। সেজন্য মায়ের সাথে মেয়ের মিল নাই, ছেলের সাথে বাবার মিল নাই। কারণ বিয়ে তো হারাম হয়েছে যদিও মনে করেন, “আমরা তো কালেমা পড়ে বিয়ে করেছি”- আসলে জিনা করতে আছেন। যেখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাই, সেই বিয়ে হয় নাই।
দফ (এক মুখো ঢোল) বাজিয়ে বিয়ের ঘোষণা
আসল পদ্ধতি কী?
বিয়ে হবে মসজিদে, মেয়ে থাকবে বাড়িতে। বিয়ের খুতবা মসজিদে পড়েই:
“আ’লিনূ ফি হাযা নিকাহি, ওয়াদরিবূ ‘আলাইহি বিদ্দুফূফি”
অর্থাৎ- এই বিয়ের ঘোষণা দাও, এবং দফ (এক মুখো ঢোল) বাজাও।
তিনবার ঢোল পিটিয়ে বলতে হবে:
- “আমার ছেলের বিয়ে”,
- “আমার মেয়ের বিয়ে।”
তাহলেই বিয়ে হবে হালাল ও বরকতময়।
কিন্তু আজ?
আজ যদি কেউ বিয়েতে দফ (এক মুখো ঢোল) বাজায়, সাথে সাথে বলা হয় “ভণ্ড”, “বিদআত”! অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই দফ বাজিয়ে বিয়ের ঘোষণা করতে বলেছেন। যা সহিহ দলিল দ্বারা প্রমাণিত।
কেন আমাদের সন্তানরা এখন অবাধ্য ও বেপরোয়া?
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ে হয় না বিধায় ছেলে-মেয়ে যা হয়েছে, হারামজাদা হয়েছে- এই জন্য কথা শোনে না। ছেলে বলে, ‘আব্বা, আপনি কিছুই বুঝেন না।’ ছেলে জন্ম দিলো বাবাই, আর ছেলে বলে, ‘আব্বা, আপনি কিছুই বুঝেন না।’ কী কারণে? আপনার বিয়েতে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাই। তাই আপনার বিয়ে শুদ্ধ হয়নি বলেই এমন হচ্ছে। এখন আপনারা বলবেন, আমি আকথা বলছি না- আমি কোরআন-হাদিস থেকে কথা বলছি।”
হাদীস শরীফের আলোকে বিবাহ সম্পাদনের সুন্নতি পদ্ধতি:
সুনানে তিরমিযি – হাদিস নং: ১০৮৯
“আ’লিনূ হাযান্ নিকাহা, ওয়াজআলূহূ ফিল মাসাজিদি, ওয়াদরিবূ ‘আলাইহি বিদ্দুফূফি।”
অর্থ: এই বিবাহটি ঘোষণা করো, মসজিদে করো, এবং এর জন্য দফ বাজাও।
সুনানে ইবনে মাজাহ – হাদিস নং: ১৮৯৫
“আ’লিনূ আন্-নিকাহা, ওয়াদরিবূ ‘আলাইহি বিল-গিরবালি।”
অর্থ: বিবাহের আয়োজন প্রকাশ করো, এবং তার জন্য দফ (ঘিরবাল) বাজাও।
মিশকাতুল মাসাবিহ – হাদিস নং: ৩১৫২
“আ’লিনূ হাযান্ নিকাহা, ওয়াজআলূহূ ফিল মাসাজিদি, ওয়াদরিবূ ‘আলাইহি বিদ্দুফূফি।”
অর্থ: এই বিবাহটি ঘোষণা করো, মসজিদে করো, এবং এর জন্য দফ বাজাও।
পরিশেষে
যে বিয়েতে নেই নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ, সে বিয়ে কেবল এক আনুষ্ঠানিকতা- ইবাদত নয়। আর যেখানে ইবাদত নেই, সেখানে রহমতও নেই, বরকতও নেই।
আজ সন্তানের অবাধ্যতা, সংসারের অশান্তি, সম্পর্কের জটিলতা- সবই বিয়েতে সুন্নাহর অভাবের ফল।
তাই আসুন, আমরা ফিরে যাই রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেখানো পথে।
সুন্নাহ অনুযায়ী গড়ে তুলি আমাদের ঘর, জীবন আর ভালোবাসা।










