---Advertisement---

নবীজি ﷺ শুভ আগমনের ২৪০০ বছর পূর্বে কেয়ামে মুস্তফা আদায় করত মুসা নবীর লাঠি।

November 3, 2025 6:06 PM
নবীজি ﷺ শুভ আগমনের ২৪০০ বছর পূর্বে কেয়ামে মুস্তফা আদায় করত মুসা নবীর লাঠি।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আজ আমরা আলোচনা করব সেই ঘটনা, যেখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুভ আগমনের ২৪০০ বছর পূর্বে কেয়ামে মুস্তফা আদায় করত মুসা নবীর লাঠি।” হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ একটি মুজেযাযুক্ত লাঠি প্রদান করেছিলেন। এই লাঠিটি প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের সময়ে অদৃশ্য হয়ে যেত এবং কোথায় যেত তা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম জানতেন না। আবার, শুক্রবার মাগরিবের সময় এটি ফিরে আসত। লাঠির এই ঘটনা এতই বিস্ময়কর, যা প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের জানা অত্যন্ত জরুরি

দয়াল বাবা জালালী মাওলা মুসা আলাইহিস সালামের লাঠির কেয়ামের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। আসুন আমরা সেই ঘটনা জানি এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কেয়ামে মুস্তফা যথাযথভাবে আদায় করি।

তূর পর্বত পুড়ে সুরমা হলো, তবু মুসা আলাইহিস সালাম এর জামায় আগুন না লাগার রহস্য

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাকের প্রিয় নবী ছিলেন। তিনি প্রতিদিন আল্লাহর সঙ্গে এক হাজার কথা বলতেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে কথা বলে আল্লাহ শান্তি পেতেন না। আল্লাহ তেনাকে একটি মুজেজাযুক্ত লাঠি প্রদান করেছিলেন। আল্লামা আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার কিতাব “আল-কাওলে মাকবুল গায়েবে রসুল”-এ উল্লেখ করেছেন যে, মুসা আলাইহিস সালামের লাঠিটি প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের সময় অদৃশ্য হয়ে যেত এবং কোথায় যেত তা তিনি বলতে পারতেন না। আবার, লাঠিটি শুক্রবারের দিন মাগরিবের সমযয় ফিরে আসত।

এভাবে লাঠিটি ১৮ বছর ধরে রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যেত। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বলেন, লাঠির হাত নেই, পা নেই, এটি একটি গাছের ডাল। লাঠিটি প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের সময় অদৃশ্য হয়ে কোথায় যায়, আবার শুক্রবারের দিন মাগরিবের সময় ফিরে আসে। আল্লাহর কাছে গেলে কথাটি বলার খেয়াল থাকে না, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে ফিরে এলে খেয়াল হয়। একদিন এই রহস্য জানতে তিনি আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলেন।

মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে গিয়ে হাত্তা উরজুনিল কাদিম- খেজুরগাছ সামনে পড়ল। খেজুরগাছে আগুন জ্বলছিল, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম থমকে গেলেন। আল্লাহ বললেন, “থমকিও না, ইন্নি আনাল্লাহু রব্বুল আলামিন – আমি নিজেই খোদা।”

মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “তুমি কি খেজুরগাছ?

আল্লাহ বললেন- “না।

মুসা আলাইহিস সালাম আবার বললেন- “তাহলে তুমি কি?

আল্লাহ বললেন- “আমি কিও না।”

মুসা আলাইহিস সালাম বললেন- “যদি তুমি কিছুই না হও, তাহলে আমার সঙ্গে দেখা দাও।

আল্লাহ বললেন- “মুসা, তুমি আমাকে দেখতে পারবেনা।

মুসা আলাইহিস সালাম বলেন-‘ “রাব্বি, আরিনি।

আল্লাহ বলেন- “লাম তারানি – তুমি আমাকে দেখতে পারবে না।

মুসা আলাইহিস সালাম বলেন, “চল্লিশ বছর আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছি, আল্লাহ নারী না পুরুষ- তাও দেখতে পারলাম না। আর আল্লাহ বলেন, দেখতে পারবে না।” এই বলে মুসা আলাইহিস সালাম চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে খেজুরগাছকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আল্লাহ, দিদার যদি না দেন আমি আপনাকে যেতে দেব না। আল্লাহ তো আর সহ্য করতে পারলেন না। আল্লাহর সত্তর হাজার পর্দার প্রথম পর্দার প্রথম বোতামটি যখন সূঁই-পরিমাণ খুললেন, তখন তূর পর্বত জ্বলে তামা হয়ে গেল। মুসা আলাইহিস সালাম নূরের তাজাল্লির মধ্যে পড়ে গেছে। তামাম তূর পর্বত জ্বলে সুরমায় পরিণত হলো। মুসা আলাইহিস সালাম চিৎ হয়ে পড়ুন বা কাত হয়ে পড়ুন- সমস্ত পাহাড়ের মাটি কালো সুরমা হয়ে গেল, অথচ মুসা আলাইহিস সালাম নিচের মাটিটি সাদা রয়ে গেল কিন্তু মুসা আলাইহিস সালাম জামার মধ্যে আগুন লাগছে না।

আল্লাহ বলেন- “উনজুর ইলাইকা- নজর করো, তুমি তোমার দিকে।” মুসা আলাইহিস সালাম নজর করলেন। আল্লাহ বলেন, “তুমি কেমন আছো?” মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “ভালো আছি।” আল্লাহ বলেন, “চতুর্দিকে নজর করো।” মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “হে মাবুদ! এত গাছপালা, বৃক্ষাদি কোথায়?” আল্লাহ বলেন, “সব তামা হয়ে গেছে। হে মুসা, তোমার নিচের দিকে নজর করো।” মুসা আলাইহিস সালাম দেখে মাটিটা সাদা। আল্লাহ বলেন, “মুসা ও মুসা! আমার ইশকের আগুনে তূর পর্বত জ্বালিয়ে পাথর বানালাম, তোমার নিচের মাটি সাদা সুরমা বানালাম। তোমার জুব্বাতে আগুন লাগছে না- এর কারণ তুমি জান কি?” মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “লা আদরি,- আমি জানি না।”

আল্লাহ বলেন, “মুসা, তোমার ইন্তেকালের ১৬০০ বছর পরে ঈসা নবী আসবেন। ঈসা নবীকে আমি উঠিয়ে নেওয়ার ৫৬৯ বছর পর, আমার বন্ধু! (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাত আসমানের নবী, সাত জমিনের নবী, অগণিত পয়গম্বরের নবী, অগণিত ফেরেশতার নবী, স্বয়ং আমি আল্লাহর নবী- আহমদ, মুহাম্মদ- বাক্কা শহরে মাকামে ইব্রাহীমে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার সুবহে সাদিকের সময় শুভ আগমন করবেন। এই খেজুরগাছের পাতার ছানি, খেজুরগাছের পাতার বেড়া আমার বন্ধুর মায়ের ঘরে থাকবে। এই জন্য খেজুরগাছ মুহাম্মদি ছোঁয়া পেয়েছে, মুহাম্মদি রঙে রঙিন হয়ে গেছে। আমার ইশকের আগুনে তূর পর্বত তামা বানালাম, কিন্তু মুহাম্মদি রঙে আগুন লাগাতে পারলাম না।”

মুসা আলাইহিস সালামের লাঠির মুখে কেয়ামের নূরানি আলাপন

মুসা আলাইহিস সালামের লাঠিটি প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের সময় চলে যায়, শুক্রবারের দিন মাগরিবের সময় ফিরে আসে। লাঠিটা হাতে থাকলে লাঠি, মাটিতে ফেললে সাপ হয়ে জাদুকরদের যত সাপ আছে, সব হা করে খেয়ে ফেলতো। ব্যাঙ ধরে ধরে খেত। অন্ধকার রাত্রে বগলের তলায় নিয়ে হাঁটলে ছয় মাইল পর্যন্ত আলো হয়ে যেত। মুসা আলাইহিস সালাম বলেন, “মাবুদ, এই লাঠিটা প্রতি বৃহস্পতিবারে যায় কই?” আল্লাহ বলেন, “তোমার লাঠিকে সুযোগ পেলে জিজ্ঞাসা করিও আর লাঠিটা নিজের সঙ্গে রাখিও।” এরপর থেকে মুসা আলাইহিস সালাম লাঠিটা আর ছাড়েন না।

মুসা আলাইহিস সালামের সময় যোহরের ফরজ ছিল না, তিনি নফল হিসেবে নামাজ আদায় করতেন। আজ বৃহস্পতিবার। লাঠিটা সামনে রেখে ২ রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করতে গিয়ে, কানের গোড়ায় শাহাদাত আঙুল লাগাতে দেরি মুসা আলাইহিস সালামের লাঠিটা পিছনের দিকে এক দৌড় দিয়েছে। মুসা আলাইহিস সালাম নামাজের নিয়ত ছেড়ে দিয়ে লাঠি ধরলেন। লাঠির মধ্যে ৭৩টি কাটা লাঠি বাইন মাছের মতো মোড়া-মুড়ি করে মুসা আলাইহিস সালামের হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “লাঠি, যতই মোড়ামুড়ি করো, তোর হাকিকত না জেনে আমি তোকে যেতে দেব না।” লাঠি বলল, “হে মুসা, আমাকে ছাড় নতুবা তুমি মুসা লয় হয়ে যাবে।”

মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “লাঠি, তুমি কি জানো আল্লাহর ইশকের আগুনে তূর পর্বত জ্বালিয়ে তামা বানিয়েছে। আমার নিচের মাটি সাদা হয়ে গেছে, কিন্তু আমার জুব্বাতে আগুন লাগাতে পারিনি। আর তুমি বলছ আমাকে লয় করবে?” এই কথা বলতে দেরি, মুসা আলাইহিস সালামের জুব্বার মধ্যে আগুন লেগে গেছে। যখন জুব্বাতে আগুন লাগছে, মুসা আলাইহিস সালাম লাঠিটা ছেড়ে দিয়ে আগুন নেভালেন। আগুন নেভিয়ে দৌড়ে গিয়ে আবার লাঠিটা ধরলেন। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, “লাঠি, আমি লয় হতে রাজি, কিন্তু তোমার গোপন রহস্য উদঘাটন না করে আমি তোমাকে যেতে দেব না।”

লাঠি বলল, “মুসা ও মুসা, তোমার ইন্তেকালের ১৬০০ বছর পরে ঈসা নবী আসবেন। ঈসা নবীর ৫৬৯ বছর পরে আমার আল্লাহ সাত আসমানের নবী, সাত জমিনের নবী, অগণিত পয়গম্বরের নবী, অগণিত ফেরেশতার নবী, আহমদ এবং মুহাম্মদ নূরে মুজাসাম বাক্কা শহরে মাকামে ইব্রাহিমে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার, সুবহে সাদিকের সময় শুভ আগমন করবেন। আমি তোমার লাঠিটা প্রতি বৃহস্পতিবার যোহরের সময় বাক্কা শহরে মাকামে ইব্রাহিমে চলে যাই। সেই স্থানে মা খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহার হুজরা হবে। সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার নবীর কেয়ামে মুস্তফা আদায় করি।”

মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞাসা করলেন, “লাঠি, তুমি প্রতি বৃহস্পতিবার বাক্কা শহরে গিয়ে কেয়াম আদায় করো, তাহলে শুক্রবারে কোথায় থাকো?”লাঠি বলল, “মুসা, আমার দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বাক্কা শহরে শুভ আগমন করবেন, তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কদমের ছোঁয়ায় বাক্কা শহর মক্কা হয়ে যাবে। মক্কা হতে ফজরের নামাজের পরে ইয়াসরিব, অর্থাৎ মাদিনায় চলে যাই। সেখানে মা আয়েশার ২৭ হাত হুজরা, নবীজির রওজা মোবারক হবে। শুক্রবারের সারাটা দিন সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি আমার হাবিব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কেয়াম আদায় করি।”

পরিশেষে:

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

আমরা যদি মিলাদ কিয়াম করি, একদল বলে তা বেদাত। তারা বলে, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকালের ৭০০ বছর পরে কেয়াম আসছে। অথচ মুসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমনের ২৪০০ বছর পূর্বে কেয়ামে মোস্তফা আদায় করেছে।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা আরও বলেন-

মুসা আলাইহিস সালামের লাঠি আনজির গাছের ডাল। নমুনায় সাপ, রঙে সাপ, হাকিকতে লাঠি। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নমুনায় মানুষ, রঙে মানুষ, হাকিকতে হলো নূরে খোদা।”

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “নবীজি ﷺ শুভ আগমনের ২৪০০ বছর পূর্বে কেয়ামে মুস্তফা আদায় করত মুসা নবীর লাঠি।”

  1. মাশাল্লাহ মারহাবা খুব সুন্দর উপস্থাপন তবে দুই একটা শাব্দিক বানান দেখে আপডেট দিও।

    Reply

Leave a Comment