দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার আগে দেশে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সর্বত্র ছিল আগুন, রক্ত আর আতঙ্ক-মানুষের বিবেক যেন হারিয়ে গিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময়ে, বাবা ভাণ্ডারীর দয়ায় একজন মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি থেকেও ফিরে এলো জীবিত। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- আল্লাহর প্রিয় ওলিগণ সব সময় মানুষের পাশে থাকেন। বিপদ, দুর্দিন বা মৃত্যুর মুখেও তেনাদের দয়ার হাত কখনো বন্ধ হয় না।
এক অলৌকিক রাত্রির সত্য ঘটনা
আহমদ নামের একজন ব্যক্তি বলেন –
“তখন আমি গুজরাট শহরে থাকতাম। আমার ছোট্ট এক মনোহরী দোকান ছিল হিন্দু মহল্লার মাঝখানে। এক রাতে উগ্র হিন্দুবাদী একদল লোক অস্ত্র হাতে মহল্লায় ঢুকে পড়ল। তারা ঘর থেকে মুসলমানদের টেনে বের করতে লাগল, হাত-পা বেঁধে সবাইকে ট্রাকে তুলছিল। আমিও রক্ষা পেলাম না-আমাকেও ধরে ফেলল।”
আমি ট্রাকভর্তি বন্দীদের সঙ্গে চুপচাপ বসে ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাক থামল একটি শ্মশানে। চারদিকে আগুন, ধোঁয়া আর পোড়া মানুষের দেহ। উগ্র হিন্দুবাদীরা একে একে সবাইকে নামিয়ে হত্যা করছিল। যখন আমার পালা এলো ঠিক তখন।
আমি মৃত্যুর একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে। কোনো পথ নেই, কোনো আশা নেই। সেই মুহূর্তে আমি চোখ বন্ধ করে শুধু এক নাম উচ্চারণ করলাম-
“বাবা ভান্ডারী! আমি আপনার দরবারের গোলাম। আজ আপনার রহমত ছাড়া আমার রক্ষা নেই।”
আর তখনই ঘটল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।
এই মিনতি করতে না করতেই উগ্র হিন্দুরা হঠাৎ থেমে গেল, যেন কিছু দেখেছে- এক অদৃশ্য উপস্থিতি তাদের ভীত করে তুলল। তারা আমাকে না মেরে, মৃতদের স্তূপে ফেলে রেখে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে গেল!। অন্ধকারে আমি দাঁত দিয়ে হাতের বাঁধন কেটে মুক্ত হলাম, তারপর আমি গুজরাট থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছালাম।
পরিশেষে
চট্টগ্রামে পৌঁছার পর প্রথমেই আমি বাবা ভাণ্ডারীর দরবারে হাজির হলাম।
কেঁদে কেঁদে কৃতজ্ঞতা জানালাম তেনার দরবারে।
আর কণ্ঠ ভেসে উঠল-
“বাবা ভাণ্ডারী, আপনার গোলাম আপনার দরবারে হাজির, যাকে আপনি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।”








