দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহ তাআলার প্রিয় ওলীগণ এমন এক আলো, যেনাদের দোয়ায় শুকনো বাগানেও ফুল ফোটে, মৃত অন্তরেও ইমানের আলো জ্বলে ওঠে, নিরাশ হৃদয়েও আশা জেগে ওঠে। ইতিহাসে এমন অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা আছে, যেখানে আল্লাহর ওলীদের মাধ্যমে অসম্ভবও সম্ভব হয়েছে। তেমনি এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা জড়িয়ে আছে আকবর আলী রেজভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর জীবনের সঙ্গে। যেখানে এক বন্ধ্যা নারী পেলেন মাতৃত্বের আনন্দ, আর জেগে উঠল বিশ্বাসের অলৌকিক শক্তি।
চলুন, আকবর আলী রেজভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর অলৌকিক কারামত থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও গভীর করি।
বন্ধ্যা নারীর তিন সন্তান
একদিন এক নিঃসন্তান মহিলা আকবর আলী রেজভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দরবার শরীফে এসে বিনয়ভরে তেনার কদমবুচি করে বললেন,
“বাবা, আমি বন্ধ্যা। আমার কোনো সন্তান নেই। আপনি আল্লাহর দরবারে আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আমার একটি সন্তান হয়।”
আকবর আলী রেজভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কিছুক্ষণ নীরবে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে মহিলার আযলনামা দেখলেন এবং শান্ত কণ্ঠে বললেন-
“মা, তোমার আযলনামায় তো কোনো সন্তান নেই।”
এই কথা শুনে মহিলার চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তবুও অটল বিশ্বাসে তিনি বললেন-
“বাবা, আমি শুনেছি আল্লাহর ওলীদের দরবার থেকে কেউ খালি হাতে ফিরে যায় না। আল্লাহর প্রিয় বন্ধুরা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন। সন্তান না থাকার কারণেই তো আপনার দরবারে এসেছি। আমি জানি আপনি আল্লাহর ওলী, আপনি দোয়া করলে আল্লাহ নিশ্চয়ই সন্তান দান করবেন।”
মহিলার এই অটল বিশ্বাস ও গভীর ভক্তি দেখে রেজভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুচকি হাসলেন। তেনার মুখমণ্ডল জ্যোতিময় হয়ে উঠল। তিনি বললেন-
“যাও মা, তোমাকে আমি তিনটি সন্তান দান করলাম। আর তোমার প্রথম সন্তানের নাম রাখলাম মুহাম্মদ।”
মহিলা আনন্দে কেঁদে ফেললেন। বিশ্বাস আর কৃতজ্ঞতার ভরসায় তিনি হাসিমুখে দরবার থেকে ফিরে গেলেন। এক বছর পর, ঠিক তেমনই এক সকালে, সেই একই মহিলা দরবারে আবার হাজির হলেন। এবার তাঁর কোলে এক নবজাতক পুত্র। তিনি হাসতে হাসতে বললেন-
“বাবা, আপনার দোয়া কবুল হয়েছে! আমি এক পুত্র সন্তান পেয়েছি, আর তাঁর নাম রেখেছি মুহাম্মদ, যেমন আপনি বলেছিলেন।”
পরিশেষে
আল্লাহর ওলীর দরবারে যে বিশ্বাস নিয়ে আসে, সে কখনো খালি হাতে ফেরে না।








