দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে কেবল একটি সামরিক বিজয় নয়; এটি ছিল সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সীমারেখাকে সুস্পষ্ট করে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই যুদ্ধের পর বন্দিদের মধ্যে ছিলেন নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আপন চাচা, হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। তেনার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা যা আজও ঈমানদারদের জন্য অনুপ্রেরণার আলো জ্বালায়।
গোপন স্বর্ণমুদ্রা ও সত্যের প্রকাশ
বদরের যুদ্ধ শেষে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অনেক বন্দী মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হয়ে যায়। নির্ধারিত মুক্তিপণ ছিল চার হাজার দিরহাম। এদিকে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচা হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন সেই যুদ্ধবন্দিদের একজন।
তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে আবেদন করলেন-
“মুক্তিপণ দেওয়ার মতো কোনো সম্পদ আমার কাছে নেই।”
এর উত্তরে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
“কেন, চাচা! যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে আপনি তো আমার চাচি উম্মুল ফজল বিনতে হারিসের কাছে স্বর্ণমুদ্রা রেখে এসেছেন। আপনি তো বলে এসেছিলেন-‘আমি যদি মারা যাই, তবে এগুলো পাবে ফজল, আবদুল্লাহ, কুছান ও উবায়দুল্লাহ।’”
এই কথা শুনে হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর দেহ শিহরিত হয়ে উঠল। কারণ-এই গোপন সংবাদ তো দুনিয়ার বুকে আর কারও জানার কথা নয়। অথচ নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত সুস্পষ্টভাবে সে কথা বলে দিলেন!
এ ঘটনা তেনার কাছে ছিল বিস্ময়ের চেয়েও বড় কিছু। তিনি বুঝে গেলেন-
এ ধরনের অদৃশ্য সংবাদদাতা কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারেন না।
সত্যের আলো তেনার কপালে ঝলমল করে উঠল। তিনি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে নবীজী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে আবেগভরে বলে উঠলেন-
“হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইসলামের কালিমা শরিফ পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে দিন। আমি এতদিন গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলাম। এবার আমি আলোতে আসতে চাই।”
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেনাকে কালিমা পড়ালেন এবং নিজ হাতে বায়াত গ্রহণ করিয়ে মুসলমান বানালেন।
তথ্যসূত্র-
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত
(লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)
পরিশেষে
বদরের বন্দিশালায় সংঘটিত এই ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা নয়; বরং এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর অদৃশ্য জ্ঞানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যে গোপন স্বর্ণমুদ্রা রেখে এসেছিলেন-যার খবর দুনিয়ার আর কারও জানার কথা ছিল না-নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা মুহূর্তের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে বলে দেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অদৃশ্যের সমস্ত সংবাদ জানেন, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে।










