দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বর্তমান সমাজে পরিবারে ঈমানী শিক্ষা কমে যাওয়া একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। একসময় পরিবার ছিল ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা এবং ঈমানী শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। মা-বাবা সন্তানদের ধর্মিয় জ্ঞানে গড়ে তুলতেন এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ শেখাতেন।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই চর্চা অনেক পরিবারে কমে গেছে। ফলে ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতা আজ আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সন্তানরা দ্বীনি শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং দুনিয়াবি প্রভাবের দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার
বর্তমানে পরিবারে সবাই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত। ছোট থেকে বড় সবাই মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে।
এর ফলে-
. পরিবারে ঈমানী শিক্ষা দেওয়ার সময় কমে যাচ্ছে
. পারিবারিক আলোচনা ও ইসলামী পরিবেশ দুর্বল হচ্ছে
. সন্তানরা দ্বীনি শিক্ষার পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে অভ্যস্ত হচ্ছে
এই পরিস্থিতি ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতাকে আরও গভীর করছে।
নূর নবীজি ﷺ-এর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবারকে ইসলামী সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা দিয়েছেন।
তেনার দেখানো পথে চললে পরিবারে শান্তি, ভালোবাসা এবং পরিবারে ঈমানী শিক্ষা দৃঢ় হয়। কিন্তু আজ অনেক পরিবার সেই আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ফলে সন্তানরা ইসলামের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারছে না এবং দুনিয়াবি আকর্ষণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও দায়িত্বহীনতা
আজকের মানুষ জীবিকার পেছনে এত বেশি ব্যস্ত যে সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য সময় দিতে পারছে না।
অনেক অভিভাবক মনে করেন শুধু স্কুলের শিক্ষা যথেষ্ট। অথচ পরিবারে ঈমানী শিক্ষা ছাড়া একজন সন্তানের চরিত্র পূর্ণতা পায় না।
এই অবহেলাই ধীরে ধীরে ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতাকে ভয়াবহ করে তুলছে।
ওলী আল্লাহদের সোহবত থেকে দূরে থাকা
ওলী আল্লাহদের সোহবত মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং ঈমানকে দৃঢ় করে।
তাঁদের সান্নিধ্যে মানুষ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রকৃত আদর্শ উপলব্ধি করতে শেখে। কিন্তু এই বরকতময় সোহবত থেকে দূরে থাকার কারণে পরিবারে আত্মিক পরিবেশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
ফলে পরিবারে ঈমানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইসলামী পরিবেশের অভাব
যে পরিবারে ধর্মীয় আলোচনা হয় না, সেখানে ধীরে ধীরে পরিবারে ঈমানী শিক্ষা হারিয়ে যায়।
সন্তানরা তখন বাইরের সমাজ ও মিডিয়া থেকেই শিক্ষা নিতে শুরু করে, যা অনেক সময় বিভ্রান্তির কারণ হয়।
পরিবারে ঈমানী শিক্ষা ফিরিয়ে আনার উপায়
এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে-
. নূর নবীজি ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা
. ওলী আল্লাহদের সোহবত গ্রহণ করা
. সন্তানদের ইসলামী গল্প ও শিক্ষা দেওয়া
. প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা
. ইসলামী আলোচনা ও দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলা
হক ও বাতিল চেনার শিক্ষা দেওয়া
সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই হক ও বাতিল চেনার শিক্ষা দিতে হবে।
এতে তাদের অন্তরে পরিবারে ঈমানী শিক্ষা দৃঢ় হবে এবং তারা বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবে।
পরিশেষে
সব মিলিয়ে বলা যায়, ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতার অন্যতম বড় কারণ হলো পরিবারে ঈমানী শিক্ষা কমে যাওয়া।
যদি আমরা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করি, ওলী আল্লাহদের সোহবত গ্রহণ করি এবং পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিবারে ঈমানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।








