---Advertisement---

অন্ধকারের আয়না থেকে আলোয়: এক দুষ্ট মানুষের জাগরণ।

November 3, 2025 5:40 PM
অন্ধকারের আয়না থেকে আলোয়: এক দুষ্ট মানুষের জাগরণ।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি। 

প্রতিটি মানুষ একেকটি প্রদীপ। কেউ নিজেকে জ্বালাতে পারে, কেউ আবার বাতাসে নিভে যায়। কিন্তু আল্লাহর অলিগণ সেই বাতাসকেই আশীর্বাদে রূপ দেন, যাতে প্রদীপ আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনাটি সেই সত্যের সাক্ষ্য-যেখানে এক দুষ্ট মানুষের অন্ধকারময় জীবন একজন আল্লাহর অলির সান্নিধ্যে আলোতে ভরে ওঠে

এক দুষ্ট মানুষের জাগরণ

এক শহরে একজন যুবক ছিল। সে দুষ্টতার জন্যই পরিচিত। তার হাত কেবল অন্যের ক্ষতির কাজে উঠত। রাতে সে শহরের অলি-গলি ঘুরে বেড়াত, যেন অন্ধকারই তার আসল আশ্রয়।

একদিন রাতে সে শুনল শহরে নতুন এক দরবেশ এসেছেন। তাঁর খানকাহে মানুষ ভিড় করছে। যুবকটি কৌতুক ভরে বলল-
— চল দেখি, এ লোকটা কী খেলা দেখাচ্ছে।

সে খানকাহে ঢুকল। সবার মাঝে নিস্তব্ধতা, শুধু দরবেশের কণ্ঠ ভেসে আসছে—
— “মানুষের অন্তর যদি অন্ধকারে ডুবে যায়, তবে সে নিজের মুখও চিনতে পারে না। কিন্তু যে নিজেকে খোঁজে, তার অন্তরে এমন আলো জন্মায় যা সাগরের গভীরেও পথ দেখায়।”

যুবকটি হেসে ফেলল।
— এ তো গল্পগুজব! আলো কীভাবে ভেতরে থাকে? আলো তো বাইরে থাকে, সূর্যে, প্রদীপে।

দরবেশ ধীরে ধীরে তাঁর দিকে তাকালেন।
— তুমি অন্ধকারকে বন্ধু বানিয়ে নিয়েছ বলেই ভেতরের আলো চিনতে পারছ না। এসো, তোমাকে আমি আয়না দেখাই।

দরবেশ তাকে একটি ছোট আয়না দিলেন। অদ্ভুত ব্যাপার, যুবক আয়নায় নিজের মুখ দেখতে পেল না। শুধু অন্ধকার ধোঁয়ার মতো কুয়াশা। সে ভড়কে উঠল।
— এ কী! আমি তো নিজেকেই দেখতে পাচ্ছি না!

দরবেশ শান্তভাবে বললেন—
— পাপের ধোঁয়া যখন অন্তর ভরিয়ে দেয়, তখন মানুষ নিজেকেও চিনতে পারে না। যদি তুমি নিজেকে জানার উদ্দেশ্যে ফিরে আসো, এই আয়নাই তোমাকে সত্য রূপে দেখাবে।

যুবক থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল—
— বাবা, এই ‘নিজেকে জানা’ বলতে কী বোঝালেন? আমি তো শুধু নিজের পাপ, লোভ আর ব্যর্থতা দেখি।

দরবেশ মৃদু হাসলেন—
— পাপ দেখাই আসলে প্রথম পদক্ষেপ। আয়নায় প্রথমে ধুলোই ধরা দেয়। কিন্তু ধুলো দেখে যদি তুমি আয়নাই ভেঙে ফেল, তবে মুখ আর কখনোই দেখতে পাবে না। বরং সেই ধুলো মুছো, আর মুছতে মুছতে একদিন নিজ মুখের আসল সৌন্দর্য দেখবে।

দরবেশের কথা শুনে যুবকের হৃদয় যেন গলে গেল যুবক চোখ ভেজা স্বরে বলল—
— কিন্তু বাবা, আমি যতবার ধুলো মুছতে চাই, ততবারই নতুন ধুলো এসে জমে যায়। আমি ক্লান্ত হয়ে যাই। তখন কী করব?

দরবেশ হাত তার বুকে রাখলেন—
— মনে রেখো, তুমি একা ধুলো মুছছ না। আল্লাহর রহমত হলো সেই বাতাস, যা ধুলো উড়িয়ে দেয়। তুমি শুধু আন্তরিক চেষ্টা করবে, বাকি কাজ তিনি করবেন।

যুবক বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল—
— তাহলে কি আমি এখনো বাঁচতে পারি, বাবা? আমার ভেতরের আলো কি আবার জ্বলে উঠবে?

দরবেশের কণ্ঠ গভীর হয়ে উঠল—
—  তুমি যতই রাতের মধ্যে থাকো না কেন, আল্লাহর একটিমাত্র “কুন” বলাই তোমার ভোর করে দিতে যথেষ্ট। তুমি শুধু কদম বাড়াও, আল্লাহই তোমার অন্তরে সূর্য জ্বালিয়ে দেবেন।

যুবক কেঁপে উঠল, দরবেশের পা জড়িয়ে ধরে বলল—
— বাবা, আমি আপনার কাছে মুরিদ হতে চাই। আমাকে এমন দোয়া দিন যেন আমার অন্তরের আয়না আর কখনো কালো না হয়।

দরবেশ চোখ বুজে বললেন—
— আয়না কালো হলে ভেঙো না, পরিষ্কার করো। ভুল হলে ভেঙো না, ফিরে আসো। মনে রেখো, যে আল্লাহর দরজায় বারবার কড়া নাড়ে, তার জন্য রহমতের দরজা চিরকাল খোলা থাকে।

পরিশেষে

আল্লাহর অলিগন শুধু কথা দিয়ে নয়, আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়ে মানুষকে ভেতরের আয়না দেখিয়ে দেন। আর যে মানুষ নিজেকে চিনে ফেলে, সে-ই আলোর পথে ফিরে আসে। কোনো পাপীই হারিয়ে যায় না, যদি সে অন্তরের আয়নায় সত্যকে দেখতে চায়

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

3 thoughts on “অন্ধকারের আয়না থেকে আলোয়: এক দুষ্ট মানুষের জাগরণ।”

  1. দয়াল জালালি তোমার কলমের শক্তি বাড়িয়ে দেক।জাজাকাল্লাহ খাইরান।

    Reply
  2. যথার্থ লিখেছো। আসল বেলায়েতের যুগে আল্লাহর অলির গনের দ্বারা জগতের সকল কিছু পরিচালিত হয়।
    আবার অলি আউলিয়া গনের স্মরণের দ্বারা অতীত জীবনের যাবতীয় পাপ মোচন হয়ে যায়।

    Reply

Leave a Comment