দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আমরা সাধারণত যে দিকের প্রতি মন দিই বা নজর রাখি, কেবল সেই দিকটাই স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। মানুষের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ-সামনে যা থাকে, তাই-ই সে দেখতে পারে। কিন্তু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো সাধারণ মানুষের মতো নন; তিনি তুলনাবিহীন নবী। আল্লাহর সৃষ্টিজগতে তেনার সঙ্গে কারও তুলনা চলে না।
তিনি সামনে যেমন স্পষ্টভাবে দেখতে পেতেন, তেমনি পেছনের দিকেও সবকিছু স্পষ্টভাবে দেখতে পেতেন। এই অসাধারণ ক্ষমতা কোনো কল্পকাহিনি নয়; বরং সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এক বাস্তব সত্য। এটি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ জ্ঞানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন-যা আজও বিশ্বাসীদের অন্তরে ঈমানের দৃঢ় আলো প্রজ্বলিত করে।
ঈমানদারদের জন্য গভীর ভাবনার খোরাক
হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
“তোমরা কি মনে কর যে আমার দৃষ্টি কেবল এই কিবলার দিকেই সীমাবদ্ধ?
আল্লাহর কসম! তোমাদের খুশু‘ (বিনয়) ও রুকূ‘- কোনো কিছুই আমার কাছে গোপন থাকে না।
নিশ্চয়ই আমি আমার পেছন দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।”
তথ্যসূত্র
-
সহীহ মুসলিম: আন্তর্জাতিক হাদিস নম্বর ৪২৪ | ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ৪০৭
-
সহীহ বুখারী: আন্তর্জাতিক হাদিস নম্বর ৪১৮ | ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ৪০১
আত্মবিশ্লেষণের জন্য কিছু প্রশ্ন
আজ যারা বলেন-
-
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ,
-
বা বলেন- তিনি গায়েব জানেন না,
তাদের উচিত এই হাদিসটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা। কারণ এখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছেন-
-
আমার দৃষ্টি কেবল কিবলার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়।
-
আমার কাছে খুশু‘ (বিনয়) ও রুকূ‘- কোনো কিছুই গোপন থাকে না।
-
আমি সামনে যেভাবে দেখি, তেমনি পেছনের দিক থেকেও দেখি।
একটু ভেবে দেখুন-
যেনার দৃষ্টি কেবল কিবলার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়,
যেনার কাছে মানুষের খুশু‘ ও রুকূ‘ পর্যন্ত গোপন থাকে না,
যিনি সামনে ও পেছন- উভয় দিকই একসঙ্গে দেখতে পান,
তেনার কাছে কি আল্লাহর সৃষ্টি জগতের কোনো কিছু গোপন থাকতে পারে?
তেনাকে কি আমাদের মতো সাধারণ মানুষ বলা যাবে?
তেনার ব্যাপারে “তিনি গায়েব জানেন না”- এমন কথা কি গ্রহণযোগ্য?
পরিশেষে
আসুন, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানার মতো করে জানি।
ভ্রান্ত আকিদা ও বিভ্রান্ত ধারণা থেকে দূরে থেকে, তেনাকে তেনার যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বাস করি ও মানি।
তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেকে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত বলে দাবি করতে পারি।










