দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আজ আমরা আলোচনা করব “আধু মিয়ার ঘড়ি উধাও-শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত” সম্পর্কে। কারণ, আল্লাহর ওলীদের জীবনে এমন অনেক রহস্যময় ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ যুক্তি ও দুনিয়াবি হিসাব-নিকাশ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কখনো এসব ঘটনা মানুষের অন্তরকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, আবার কখনো তা হয়ে ওঠে আত্মশুদ্ধি ও ভুল সংশোধনের এক জীবন্ত শিক্ষা।
তেমনই এক বিস্ময়কর ও আত্মজাগানিয়া অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন আধু মিয়া-যা শুনলে হৃদয়ে এক অদ্ভুত ভাবনা জেগে ওঠে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মর্যাদা সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি জন্মায়।
শাহানশাহ মাইজভান্ডারীর কারামতের ঘটনা
আধু মিয়া
পিতা: মৃত আমানত আলী
গ্রাম: মাইজভান্ডার শরীফ
থানা: ফটিকছড়ি, জেলা: চট্টগ্রাম
তিনি বলেন-
একদিন শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহির হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে তেনার দরবারের কাছাকাছি গেলাম। হঠাৎ মনে পড়ল- আমার সাথে একটি হাতঘড়ি আছে! মনে মনে ভয় জাগল, যদি হুজুর ঘড়িটি দিয়ে দিতে বলেন! কারণ আগেও অনেকের কাছ থেকে তিনি হাতঘড়ি গ্রহণ করেছেন বলে শুনেছিলাম।
এই আশঙ্কায় আমি আর সামনে এগোলাম না। দেখা না করেই সেখান থেকে ফিরে এলাম।
ঠিক তখনই আসরের আজান হলো। আমি মসজিদের পুকুরঘাটে গিয়ে অজু করলাম। অজু শেষে টুপি পরে ঘড়িটি হাতে পরার জন্য পকেটে হাত দিতেই আমি হতবাক হয়ে গেলাম-
ঘড়িটি নেই!
আমি নিশ্চিত ছিলাম, ঘড়িটি পকেটেই রেখেছিলাম। অজুর আগেও সেটি দেখেছি। আশপাশেও তখন কেউ ছিল না, চুরির কোনো সম্ভাবনাও নেই।
তবুও ঘড়ি নেই-এই বাস্তবতা আমাকে স্তব্ধ করে দিল।
মুহূর্তেই আমার ভেতরে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করল। মনে হলো, আমি যেন নিজেরই নিয়তিকে আড়াল করতে চেয়েছিলাম, অথচ আল্লাহর ওলীর সামনে কোনো কিছুই গোপন থাকে না।
আজও সেই ঘটনার কথা মনে হলে নিজেকে ধিক্কার দিই-
কেন আমি আল্লাহর ওলীর সামনে কৌশল করতে গিয়েছিলাম!
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের শেখায়-আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের দৃষ্টির বাইরে কিছুই নয়। তেনাদের সাথে কৃত্রিমতা বা কৌশল কখনোই সফল হয় না। বরং তা মানুষের অন্তরে এক গভীর আত্মসমালোচনা ও শিক্ষা রেখে যায়।
আসুন, আমরা আল্লাহর ওলীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, তেনাদের সান্নিধ্যকে সম্মান করি এবং অন্তরকে সংশোধনের পথে নিয়ে যাই-তাহলেই জীবনে আসবে সত্যিকারের শান্তি ও বরকত।








