দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণের জীবন রহস্যময় ইশারা ও আধ্যাত্মিক ঘটনার এক অনন্য ভাণ্ডার। কখনো স্বপ্নের মাধ্যমে, কখনো বাস্তবতার ভেতর দিয়েই তেনারা অসহায় মানুষের জন্য খুলে দেন আশার নতুন দুয়ার। যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক তখনই অদৃশ্যভাবে এসে ধরা দেয় সমাধান। তেমনই এক বিস্ময়কর ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা-“স্বপ্নে ইশারা, বাস্তবে সমাধান-শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত” এখানে তুলে ধরা হলো।
স্বপ্ন থেকে বাস্তব-এক রহস্যময় কারামত
একাশি (১৯৮১) সালের ১০ই পৌষ, খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে ষোলশহর বিবিরহাট থেকে আহলা দরবারের মাওলানা নুরুল ইসলাম সাহেবের পুত্র মাওলানা জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে তিন হাজার একশ (৩১০০) টাকায় একটি মহিষ ক্রয় করি।
পাঁচশ (৫০০) টাকা নগদ প্রদান করি এবং বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। ৩০শে জানুয়ারি পাঁচশ টাকা দেওয়ার নির্ধারিত দিন। কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা করেও টাকা সংগ্রহ করতে পারছিলাম না। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
ঠিক এমন সময় জনাব জিয়াউল হক ফরহাদাবাদীর কাছ থেকে জানতে পারলাম- বাবাজান আমার জন্য টাকা পাঠিয়েছেন। কথাটি শুনে আনন্দে আমার হৃদয় ভরে উঠল, যেন অন্ধকারের মাঝে হঠাৎ আলো দেখা পেলাম।
তবে সমস্যা হলো- যিনি টাকা নিয়ে এসেছেন, তাঁর সঠিক পরিচয় জনাব জিয়াউল হক ফরহাদাবাদী দিতে পারলেন না। শুধু বললেন- লোকটি কালো, খাটো, মুখে বসন্তের দাগ, দেখতে মৌলভী ধরনের।
এই বর্ণনা অনুযায়ী অনেক খোঁজ করেও কাউকে পেলাম না। এদিকে কিস্তির নির্ধারিত তারিখ ঘনিয়ে আসছে-দুশ্চিন্তা যেন চরমে পৌঁছাল।
এক মঙ্গলবার রাউজান ফকিরহাটে খাসমহলের সামনে একটি ইবাদতখানায় আমরা পাঁচজন মিলে এক ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম করছিলাম। তিন পারা তিলাওয়াত করার পর হঠাৎ অস্বস্তি বোধ করলে আমি সেখানে শুয়ে পড়ি।
তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় স্বপ্নে দেখি-
একটি সাদা পর্দা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে
দেখি, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহি রোল্ড-গোল্ডের চশমা পরে চেয়ারে বসে আছেন। তেনার পেছনে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন।
মনে হলো-এই মানুষটির বর্ণনা তো ঠিক সেই রকম, যা শুনেছিলাম জিয়াউল হক ফরহাদাবাদীর কাছে!
ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করে বাকি অংশ পিতার দায়িত্বে দিয়ে আমি ফকিরহাটে চলে আসি।
রূপালী ব্যাংকের সামনে একটি নাপিতের দোকানের বাইরে বেঞ্চে বসে ছিলাম। ঠিক তখনই অবাক হয়ে দেখি-স্বপ্নে দেখা সেই লোকটি ব্যাংকের সামনে সাইকেল থেকে নামছে!
আমি তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম-
“বাবাজান কি আপনার মাধ্যমে আমার জন্য কোনো টাকা পাঠিয়েছেন?”
তিনি স্বীকার করলেন যে, তিনি সত্যিই টাকা এনেছিলেন, তবে তা ইতিমধ্যে খরচ করে ফেলেছেন। তবে কিস্তির নির্ধারিত তারিখে তিনি টাকা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
কিস্তির নির্ধারিত তারিখ ৩০শে জানুয়ারি ঘনিয়ে এলে অবশেষে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করে দেন। আর এভাবেই আমি এক চরম অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করি।
(বর্ণনাকারী: মাওলানা মোহাম্মদ হাছান, পিতা-মাওলানা অলি উল্লাহ, গ্রাম-ডাবুয়া, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম)
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ওলী-আউলিয়াগণের দয়া কখনো স্বপ্ন হয়ে, কখনো বাস্তব হয়ে নিঃশব্দে এসে ছুঁয়ে যায় মানুষের জীবন। যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই তেনাদের মাধ্যমে খুলে যায় অদৃশ্য রহমতের দরজা-যা কল্পনারও অতীত।








