দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণের প্রতিটি দৃষ্টি, প্রতিটি ইশারার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে রহস্যময় কারামতের আলো। কখনো একটি মাত্র বাক্যই মুছে দেয় বছরের পর বছর জমে থাকা দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা। তেমনই এক হৃদয়ছোঁয়া, ঈমান জাগানিয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা-“হারানো দলিলের অলৌকিক সন্ধান-শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত”শোনাচ্ছেন এক প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
ঘটনার বর্ণনা
সৈয়দ মোহাম্মদ নুরউদ্দিন, খাদেম হযরত মোহছেন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহির দরবার শরীফ
থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম।
তিনি বলেন-
“এক শুক্রবার রাত, সময় তখন প্রায় সাড়ে আটটা। এডভোকেট কবির চৌধুরীর বাসা থেকে বের হয়ে আমি কোতোয়ালী থানার দিকে যাচ্ছিলাম। চারপাশে নীরবতা, শহরের ব্যস্ততা যেন একটু থেমে গেছে।
হঠাৎ রাস্তার ধারে চোখ পড়তেই দেখলাম- শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহি দাঁড়িয়ে আছেন।
আমি ভক্তিভরে সালাম জানালাম। তিনি শান্ত কণ্ঠে বললেন,
‘একটি রিকশা ডেকে দাও।’
আমি দ্রুত একটি রিকশা ডেকে দিলাম।
তিনি আবার বললেন,
‘তুমিও রিকশায় উঠো।’
আমি সৌভাগ্য মনে করে তেনার সঙ্গে রিকশায় উঠলাম।
রিকশা চলতে শুরু করলে তিনি বললেন,
‘আমি ব্যান্ডেল রোডে যাব।’
এর আগেই তেনার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তাই সাহস করে নিজের দুঃখের কথা তুলে ধরলাম-
‘হুজুর, বেশ কিছুদিন হলো আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেছে। অনেক খুঁজেও পাচ্ছি না। খুবই বিপদে আছি আপনি একটু দয়া করুন।’
তিনি মৃদু হাসলেন- এক রহস্যময়, প্রশান্তির হাসি-
এবং বললেন,
‘পাবেন না।’
এই কথা শুনে আমার হৃদয়টা যেন কেঁপে উঠল, মুখটা মলিন হয়ে গেল।
তিনি আবার বললেন,
‘খুব দরকার নাকি?’
আমি বিনয়ের সাথে বললাম,
‘জী হ্যাঁ, হুজুর খুবই দরকার।’
তখন তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন-
‘যার কাছে আপনি অনেক কাগজপত্র বিক্রি করেছেন, তার কাছেই আপনার দলিল আছে। দ্রুত নিয়ে আসুন।’
এর আগে আমি বাজারে অনেক খোঁজ করেছি, এমনকি ঘোষণা দিয়েও কোনো ফল পাইনি। সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে পড়েছিলাম।
কিন্তু পরদিন, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথামতো সেই দোকানদারের কাছে গেলাম।
আর যা দেখলাম, তা সত্যিই অবাক করার মতো-
ঠিকই একটি কাগজের বান্ডিলের ভেতরে আমার হারানো দলিলটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে!
মুহূর্তেই বুঝে গেলাম- এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় এটা ছিল এক অলৌকিক ইশারা।”
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণ শুধু বাহ্যিক চোখে দেখেন না; তেনারা দেখেন অন্তরের গভীর সত্য। তেনাদের একটি বাক্য, একটি ইশারাই হতে পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণ।
যেখানে আমরা হারিয়ে ফেলি আশা, সেখানে তেনারা দেখান ফিরে পাওয়ার পথ।
অসহায়ের সহায়, হে মহান আওলিয়া-
আপনার প্রতি রইল অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা ও হাজারো সালাম।








