দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
গাউসে পাকের কারামত নিয়ে যুগে যুগে অসংখ্য ঘটনা মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে। হযরত গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির নূরানী জীবন ও বিস্ময়কর কারামত অসংখ্য ঈমানদারের ঈমানকে করেছে আরও দৃঢ়, আর পথভ্রষ্ট মানুষকে ফিরিয়ে এনেছে সত্য ও ন্যায়ের পথে। আজ আমরা তেমনই এক আশ্চর্য গাউসে পাকের কারামতের ঘটনা জানব, যা একজন শক্তিশালী বাদশাহকে তার জুলুম ও অন্যায়ের প্রকৃত চিত্র দেখিয়ে দিয়েছিল এবং তাকে গভীরভাবে অনুতপ্ত হতে বাধ্য করেছিল।
বাদশাহর আগমন
একদা বাগদাদের বাদশাহ ‘মুস্তানজিদ বিল্লাহ’ হযরত গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে উপস্থিত হলেন। তিনি বিনয়ের সঙ্গে সালাম পেশ করে কিছু মূল্যবান নসিহত ও উপদেশ কামনা করলেন।
বাদশাহ তাঁর সঙ্গে আনা স্বর্ণ-রৌপ্য ও মূল্যবান সম্পদে পরিপূর্ণ কয়েকটি থলে হাদিয়া হিসেবে গাউসে পাকের খিদমতে পেশ করলেন। কিন্তু গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।
বারবার অনুরোধ করলেন বাদশাহ
হাদিয়া গ্রহণ না করায় বাদশাহ কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, তাঁর উপহার প্রত্যাখ্যাত হলে হয়তো সম্মানের হানি হবে। তাই তিনি বারবার অনুরোধ করতে লাগলেন, যেন গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর হাদিয়া গ্রহণ করেন।
অবশেষে গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি একটি থলে নিজের হাতে তুলে নিলেন।
গাউসে পাকের কারামত
দরবারে উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি থলেটি হাতে নিয়ে আলতোভাবে চাপ দিলেন। মুহূর্তেই সেই থলে থেকে টাটকা রক্ত বের হতে শুরু করল!
এরপর তিনি আরেকটি থলে চাপ দিলে সেখান থেকেও তাজা রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে গেলেন। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কীভাবে স্বর্ণ-রৌপ্যে ভরা থলে থেকে রক্ত বের হতে পারে!
গাউসে পাকের কঠোর সতর্কবাণী
তখন গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাদশাহকে লক্ষ্য করে বললেন-
“হে বাদশাহ! আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। তুমি প্রজাদের ওপর জুলুম করে, তাদের অধিকার হরণ করে এবং মানুষের রক্ত চুষে এই সম্পদ সংগ্রহ করেছ। আর আজ সেই সম্পদই আমার জন্য হাদিয়া হিসেবে নিয়ে এসেছ!”
এই কথাগুলো ছিল সত্যের কঠোর বার্তা। গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার নূরানী দৃষ্টির মাধ্যমে বাদশাহর সম্পদের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করে দিলেন।
বাদশাহর পরিণতি
গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই ভয়ংকর সতর্কবাণী শুনে বাদশাহ ভীষণভাবে কেঁপে উঠলেন। নিজের অন্যায় ও জুলুমের পরিণতি উপলব্ধি করে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
দরবারে উপস্থিত সবাই বুঝতে পারলেন, আল্লাহর ওলীগণ বাহ্যিক চাকচিক্য দ্বারা প্রভাবিত হন না। তারা আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত নূরের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের অবস্থা ও সম্পদের প্রকৃত হকিকত উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা
গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কারামত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জুলুম ও অন্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কখনোই বরকতপূর্ণ হয় না। আল্লাহ তাআলা সবকিছু দেখেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের মাধ্যমে সত্যকে প্রকাশ করে দেন।
তাই আমাদের উচিত হালাল উপার্জন করা, মানুষের অধিকার আদায় করা এবং সর্বদা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করা। কেননা দুনিয়ার ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদা একদিন শেষ হয়ে যাবে; কিন্তু নেক আমল ও আল্লাহভীতি চিরকাল মানুষের মুক্তির পথ দেখাবে।
পরিশেষে
গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই বিস্ময়কর কারামত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহ তাআলার ন্যায়বিচারের সামনে তা কোনো মূল্য রাখে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে বিচার করেন না; বরং আল্লাহপ্রদত্ত নূরের মাধ্যমে সত্য ও অসত্যের পার্থক্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।





