---Advertisement---

এক কেজি চালের ভাত ৫০০ জনকে খাওয়ালেন দয়াল বাবা জালালী মাওলা।

October 5, 2025 4:19 PM
এক কেজি চালের ভাত ৫০০ জনকে খাওয়ালেন দয়াল বাবা জালালী মাওলা।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

যেকোনো মানুষের পক্ষে ১ (এক) কেজি চালের ভাত ৫০০ (পাঁচশত) মানুষকে খাওয়ানো বিজ্ঞানসম্মতভাবে অসম্ভব। কিন্তু ওলি আল্লাহগণের মাধ্যমে এটি সম্ভব। কারণ ওলি আল্লাহগণ আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমতা দান করেছেন। এই ক্ষমতাকেই কারামত বলা হয়।

কারামতের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইসলামের সত্যতা প্রমাণ করা এবং মানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করা। এছাড়া কারামত ঈমানদারদের হৃদয়ে শান্তি প্রদান করে এবং তাদের ইমানকে দৃঢ় করে।

দয়াল বাবা জালালী মাওলার অসংখ্য কারামত রয়েছে। আজ আমি আপনাদের সেই বিশেষ কারামতের কথা বলব, যা স্বাধীনতার অনেক বছর পর ঘটেছিল। বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা ওলীদের জন্য সবকিছু সম্ভব। চলুন, আমরা সেই অলৌকিক ঘটনার বিস্তারিত জানি এবং আল্লাহর ওলীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সন্মান প্রদর্শন করি।

আল্লাহর ওলীর দোয়ায় অসম্ভবও হলো সম্ভব

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার বর্তমান তাইন্দং ইউনিয়নে দয়াল বাবা জালালী মাওলার অনেক মুরিদ ছিলেন। বাবা জালালী সেখানে মাহফিল করতে গিয়েছিলেন। তাইন্দং ইউনিয়নের একজন মুরিদ ছিলেন, যার নাম পাটারি। তিনি দয়াল বাবা জালালী মাওলার খুবই আশেক ছিলেন।

পাটারি দয়াল বাবা জালালী মাওলার কাছে এসে বললেন—
“দয়াল, আমার মনের আশা আপনাকে আমার বাড়িতে একবেলা খাওয়াবো। আপনি যদি দয়া করে আমার বাড়িতে যান, তাহলে আমার জীবন ধন্য হয়ে যাবে।”

এই কথা বলেই পাটারির চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। দয়াল বাবা জালালী মাওলা তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন—
“তুমি কেঁদো না। যাও, আমি মাহফিল শেষ করে তোমার বাড়িতে আসব। এখন তুমি তোমার বাড়িতে যাও।”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা মাহফিল শেষ করে যখন পাটারির বাড়ির দিকে রওনা দিলেন, তখন একজন মুরিদ বললেন—
“বাবা, আমি আপনার সাথে যাব।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বললেন—
“ঠিক আছে, আসো।”

কিছুক্ষণ পর আরেকজন মুরিদ বললেন—
“বাবা, আমি আপনার সাথে যাব।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বললেন—
“ঠিক আছে, আসো।”

আরও কিছুক্ষণ পর আরও একজন মুরিদ বললেন—
“বাবা, আমি আপনার সাথে যাব।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বললেন—
“ঠিক আছে, আসো।”

এভাবে পাটারির বাড়িতে যাওয়ার পথেই ৫০০ (পাঁচশত) জন ভক্ত মুরিদ বললেন, “বাবা, আপনার সাথে আমি যাব।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা সকলকেই বললেন, “ঠিক আছে, আসো,” কিন্তু কাউকেই প্রত্যাখ্যান করলেন না।

শেষ পর্যন্ত দয়াল বাবা জালালী মাওলা ৫০০ (পাঁচশত) জন ভক্ত মুরিদ নিয়ে পাটারির বাড়িতে গেলেন।

এদিকে পাটারি মনে করেছিলেন, বাবা হয়তো ৪ (চার) থেকে ৫ (পাঁচ) জনকে নিয়ে আসবেন। তাই তিনি রান্না করেছিলেন ১ (এক) কেজি চালের ভাত এবং ১ (এক)টি মুরগি।

৫০০ জন লোক দেখে পাটারি অস্থির হয়ে গেলেন। তিনি বললেন—
“হায় হায়! আমি কীভাবে ৫০০ (পাঁচশত) মানুষকে ১ (এক) কেজি চালের ভাত খাওয়াবো?”

পাটারি চোখের পানি ঝরিয়ে দুই হাত করজোড়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলার কাছে এসে বললেন—
“দয়াল, আমি তো রান্না করেছি ১ (এক) কেজি চালের ভাত আর ১ (এক)টি মুরগি, কিন্তু আপনার সাথে লোক এসেছে ৫০০ (পাঁচশত) জন। বাবা, আমি কীভাবে এত মানুষকে খাওয়াবো?”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বললেন—
“চিন্তা করো না, ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। যাও, ভাত ও তরকারির পাতিল নিয়ে আস।”

পাটারি ভাত ও তরকারির পাতিল নিয়ে এলেন।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বললেন—
“পাতিলের ঢাকনাটা খুলো।”

পাটারি ঢাকনা খুললেন। দয়াল বাবা জালালী মাওলা ভাত ও তরকারির মধ্যে একটি ফুঁ দিলেন।
তারপর বললেন—
“ঢাকনা দাও, অর্ধেক খুলে বিসমিল্লাহ বলে মানুষকে খাওয়াতে শুরু কর।”

পাটারি বিসমিল্লাহ বলে ৫০০ (পাঁচশত) লোককে ভাত ও তরকারি খাওয়াতে শুরু করলেন।
সবাই খেয়ে শেষ করার পর, পাতিলের ঢাকনা খুলে দেখা গেল- যত ভাত ও তরকারি রান্না করা হয়েছিল, তা এখনও একইভাবে রয়েছে।

পরিশেষে

এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়- আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহর ইচ্ছায় অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন। যে হৃদয়ে আল্লাহর ওলীদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, প্রেম ও বিশ্বাস থাকে, তাদের হাজারো সমস্যা আল্লাহর ওলীগণ এক নিমিষেই দূর করে দিতে পারেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment