---Advertisement---

গান-১৪ এলেমের সর্দার! দয়াল বাবা জালালী মাওলার বিস্ময়কর ব্যাখ্যা।

দয়াল বাবা জালালী মাওলার আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে গানকে ১৪ এলেমের সর্দার বলা হয়েছে। তেনার মতে, হামদ, নাত ও গজল মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণে জাগ্রত করে এবং আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। এই ব্যাখ্যা আধ্যাত্মিক গানের গভীর তাৎপর্য ও রূহানী গুরুত্ব তুলে ধরে।

May 4, 2026 2:30 PM
দয়াল বাবা জালালী মাওলার দৃষ্টিতে আধ্যাত্মিক গানকে ১৪ এলেমের সর্দার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে তিনি গান ও হামদ-নাতের রূহানী গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

“গান হলো ১৪ এলেমের সর্দার।” কারণ আধ্যাত্মিক গান হলো সেই সকল গান, যা মানুষের মনকে এক বিশেষ অনুভূতির দিকে পরিচালিত করে। এই আধ্যাত্মিক গানের মধ্যে একটি গভীর ধর্মীয় ও রূহানী বার্তা থাকে, যা মানুষের জীবন, জগৎ এবং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ভাবনা ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। মানুষের হৃদয়কে নরম করা, ঈমানকে জাগ্রত করা এবং হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিক গান বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা গানকে “গান- ১৪ এলেমের সর্দার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেন তিনি গানকে ১৪ এলেমের সর্দার বললেন? এই বক্তব্যের পেছনে কী আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে? আর সত্যিই কি আধ্যাত্মিক গান ১৪ এলেমের সর্দার হতে পারে? আসুন, আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানি এবং দয়াল বাবা জালালী মাওলার দৃষ্টিতে আধ্যাত্মিক গানের গভীরতা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি প্রসারিত করি।

গান-১৪ এলেমের সর্দার: দয়াল বাবা জালালী মাওলার দৃষ্টিভঙ্গি

দয়াল বাবা জালালী মাওলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শানে গান গাইতেন। তিনি বলতেন:

“কিছু বামপন্থী আছে যারা আপনাদের বলবে- তোমাদের জালালী সাহেব তো গানও গায়’।
আপনরা বলবেন- ‘গান তো ১৪ এলেমের সর্দার।’”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলতেন-

“কোরআন খোলো, হাদীস খোলো, ইজমা খোলো, কিয়াস খোলো, উসুল খোলো, ফাছাহাত খোলো, বালাগাত খোলো, মানতেক খোলো, নুহ খোলো, হেকমত খোলো, ১৪ এলেম খোলো-
গান হলো ১৪ এলেমের সর্দার।”

আধ্যাত্মিক গান (হামদ, নাত, গজল) ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলায় আমরা বলি গান, আরবিতে বলা হয় হামদ ও নাত, উর্দুতে বলা হয় গজল, ফার্সীতে বলা হয় ছ্যামা। এই ছ্যামার জন্য, এই গানের জন্য, এই হামদ ও নাতের জন্য, এই গজলের জন্য দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাতে একটি মিম্বর তৈরি করেছিলেন।

এই মিম্বরে বাবা ইমাম হাসান ও বাবা ইমাম হুসাইন যখন বসে বসে গান গাইতেন, দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে বসে বসে গান শুনতেন। বাবা ইমাম হাসান ও বাবা ইমাম হুসাইন যখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গান গাইতেন, দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিগণদের নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গান শুনতেন।”।

তিরমিজি শরীফের ঘটনা: আধ্যাত্মিক গানের প্রভাব ও তাবারুক

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- তিরমিজি শরীফ খোলো, দেখবে কথাটা আছে।

একদিন বাবা ইমাম হাসান ও বাবা ইমাম হুসাইন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গান গাইছেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাঁধ মোবারকে রুমাল ছিল।

দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হালে জিকির-আযকার করতে করতে নবীজির কাঁধের রুমাল মোবারক মাটিতে পড়ে গেছে।

মহফিল শেষ হলে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

“আজকে তো আমরা হালে জিকির আযকার করছি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
এখন তো আমার কাঁধের রুমাল মাটিতে পড়ে গেছে, আজকে কোন তাবারুক এর ব্যবস্থা নেই।
একটা কাজ করো- আমার রুমালটি কেটে তাবারুক হিসেবে বন্টন করে দাও।”

এখন দয়াল নবীজি ‘সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর কাঁধের রুমাল মোবারক কাটতে কাটতে ৩০০ টুকরা করছে। দেখা যায়, ঐ দিনের মহফিলে ৩০০ জন সাহাবী ছিলেন। সাহাবীরা বললেন: ‘ইয়া রাসুল আল্লাহ, ইয়া হাবীব আল্লাহ নবীগো, এই টুকরা দিয়ে কি করবো?

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:

“তোমাদের আহালকে বলিও- মরণের পরে কাফনের ভিতরে যদি এই রুমালের টুকরা দেওয়া হয়,
তোমাদের কবরে মুনকার-নাকির আসবেনা, কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদের শরীর পিপড়ায় খাবেনা।”

পরিশেষে: আধ্যাত্মিক গান ও ১৪ এলেমের সর্দার হওয়ার তাৎপর্য

আধ্যাত্মিক গানের সুর সাধারণত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং মনকে প্রশান্তি প্রদানকারী। এই সুর মানুষের মনকে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হতে সাহায্য করে এবং আত্মার সাথে সংযোগ স্থাপন করে। প্রেম, মিলন, বিরহ, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বের সূক্ষ্ম বার্তা গানের মাধ্যমে সহজে উপলব্ধ হয়।

এছাড়া, আধ্যাত্মিক গান মানুষের জীবনের অর্থ অনুধাবন, মানসিক ভারসাম্য ও শান্তি অর্জন এবং ঈমান ও নৈতিক মূল্যবোধকে দৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক মনোযোগ ও অনুভূতির সঙ্গে এই গান শুনলে মানুষ আধ্যাত্মিক পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগোতে পারে এবং হৃদয়ে আলোর ছোঁয়া অনুভব করতে পারে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment