---Advertisement---

কাদের জন্য আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা আসে?

আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা তাদের জন্যই আসে, যারা আল্লাহর প্রিয় বন্ধু। তাদের গ্রহণযোগ্যতা পৃথিবীতেও সর্বদা বিরাজমান থাকে এবং মানুষের হৃদয়ে তাদের প্রতি যে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও মর্যাদা। এটি ওলী আল্লাহদের শানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

May 18, 2026 4:49 PM
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন তাদের জন্য আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা আসে, ওলী আল্লাহদের মর্যাদা ও আল্লাহর বিশেষ রহমতের নিদর্শন।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা- এ এক বিরল সৌভাগ্য, যা কেবল আল্লাহর প্রিয় বন্ধুরাই লাভ করেন। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ সম্মান, খ্যাতি ও মানুষের প্রশংসা অর্জনের পেছনে ছুটে চলে; কিন্তু সব ভালোবাসা মানুষের তৈরি নয়। কিছু ভালোবাসা সরাসরি আসমান থেকে নেমে আসে-যে ভালোবাসার ঘোষণা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা দেন

প্রকৃতপক্ষে, আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা তাদের জন্যই আসে, যারা আল্লাহর প্রিয় বন্ধু। তাদের গ্রহণযোগ্যতা পৃথিবীতেও সর্বদা বিরাজমান থাকে। মানুষের হৃদয়ে তাদের জন্য যে ভালোবাসা জাগে, তা কৃত্রিম নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদা। তাই আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা ওলী আল্লাহদের শানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন

আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

“আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-কে ডেকে বলেন, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন; অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ ফলে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-ও তাকে ভালোবাসেন। অতঃপর তিনি আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন; অতএব তোমরাও তাকে ভালোবাসো।’ ফলে আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে থাকে। এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়।”
(সহিহ-বুখারী, হাদিস: ৩২০৯)

কেন আসে আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা?

আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। আসুন জানি, কেন আসে আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা-

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল্লাহ তাআলা বলেন-

“যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার আরও নিকটবর্তী হয়, এমনকি আমি তাকে ভালোবাসি।

আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শোনে; তার চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে; তার হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে ধরে; এবং তার পা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে চলে।

সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, আমি অবশ্যই তাকে দান করি; আর যদি সে আমার আশ্রয় চায়, আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই।”

(সহিহ -বুখারী, হাদিস: ৬৫০২)

এ কারণেই সত্যিকারের ওলী আল্লাহদের দেখলে মানুষের অন্তর নরম হয়ে যায়, হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জেগে ওঠে এবং তাঁদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

ওলী আল্লাহদের পরিচয়ের আলামত

• তাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।
• তাদের দেখলে নূর নবীজি ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হয়।
• তাদের কথায় অন্তর পরিশুদ্ধ ও নরম হয়।
• তাদের সোহবতে মানুষ দুনিয়ার মোহ ভুলে মৃত্যুর কথা বেশি স্মরণ করে।
• তাদের সোহবতে মানুষ নিজেকে চিনতে শেখে।
• তাদের সোহবতে মানুষের আমিত্ব (অহংকার) বিলুপ্ত হয়।
• তাদের সোহবতে মৃত হৃদয় আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর প্রেমে জেগে ওঠে।

পরিশেষে

আসমানে ভালোবাসার ঘোষণা কোনো বাহ্যিক খ্যাতির ফল নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিশেষ সম্মান।

আসুন, আমরা চেষ্টা করি আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তাদেরকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে এবং তাদের পথ অনুসরণ করতে। যেন আমরা বাকি জীবন আল্লাহ ও নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভালোবাসায় কাটিয়ে দিতে পারি

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment