---Advertisement---

যে কারণে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছায়া ছিল না।

October 10, 2025 6:58 AM
যে কারণে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছায়া ছিল না।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত; তিনি আল্লাহর জাতি নূরের জ্যোতি। তেনার প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে আল্লাহর প্রেম, মহব্বত ও মহিমার চিহ্ন। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র সৃষ্টি জগতের আলো; তেনার মর্যাদা এত মহান যে, তেনার দেহ মোবারকের ছায়াও জমিনে পড়েনি।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা এমন একটি অজানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আমাদের আগে জানা ছিল না- বিষয়টি হলো: যে কারণে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছায়া ছিল না। আসুন, আমরা অন্তরের চোখ খুলে দয়াল বাবা জালালী মাওলার মহিমান্বিত আলোচনা শুনি এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরানি কদম মোবারককে নিজেকে সপর্দ করার চেষ্টা করি।

লৌহ ও কলম

“লৌহ ও কলম” বলতে আমরা বুঝি মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ সৃষ্টিজগতের আদি, অন্ত, শুরু, শেষ সবকিছুর তথ্য সংরক্ষিত রাখার জন্য লৌহ ও কলম সৃষ্টি করেছেন। লৌহ মানে বুঝি লাওহে মাহফুজ। লাওহে অর্থ  ফলক এবং মাহফুজ অর্থ সংরক্ষিত। এককথায় লাওহে মাহফুজ মানে বোঝায় সংরক্ষিত ফলক। যাতে আল্লাহ সৃষ্টির সব কিছুর তাকদির কলমের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেছেন।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

আল্লাহর একটা কলম আছে। আপনারা শুনেছেন লৌহ ও কলম। ওই কলমের ক্লিপটা যদি এক পাল্লায় নেয়, আর এক পাল্লায় যদি সাত আসমান ও সাত জমিন নেয়, তবুও আল্লাহর কলমের ক্লিপটার ওজন বেশি হয়ে যাবে।

কলমের ক্লিপটার ওজন যদি এত হয়, তাহলে কলমের ওজন কত- তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এই কলমটা আল্লাহ দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে দিয়েছেন। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কলমটা ধরলেন। আল্লাহ বললেন, “বন্ধু, লিখেন।” নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কি লিখবো?” আল্লাহ বললেন, “আপনার মনে যা চায়, তা লিখেন।”

দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কলমটি দিয়ে আল্লাহ নামের প্রথম অক্ষর ‘আলিফ’ লিখে কলমটা রেখে দিলেন। আল্লাহ বললেন, “বন্ধু, লিখেন।” নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লিখবো না।” আল্লাহ আবার বললেন, “বন্ধু, লিখেন।” নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লিখবো না।”

আল্লাহ তৃতীয়বার বললেন, “বন্ধু, লিখেন।” নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ, আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে মহব্বত করি।” আল্লাহ বললেন, “আমিও তো আপনাকে ভালোবাসি।”

দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “খোদা রে, তুমি যখন আমাকে লিখতে দিলে, আমি যখন তোমার নামের আলিফটা টান দিলাম, তখন এই কলমের ছায়াটা তোমার আলিফের উপর পড়লো। সেই মুহূর্তে আমি মোস্তফার কলিজায় আগুন লেগে গেছে। আমি যাকে ভালোবাসি, যাকে মহব্বত করি তার নামের উপর কলমের ছায়া পড়া আমার সহ্য হবে না। তাই আমি আর জগতে লিখবো না।”

আল্লাহ তখন এক ঝিলকানি দিয়ে বললেন, “বন্ধু, আমিও তো আপনাকে ভালোবাসি। কলমের ছায়া আমার নামের উপরে পড়া আপনার সহ্য হলো না, তাই আপনি জগতে আর লিখবেন না। আমি খোদা, আমার জাতের কসম খেয়ে বলি- আমি খোদাও জমিনে আপনার ছায়া রাখবো না।”

পরিশেষে

এই মহান বাণীতে দয়াল বাবা জালালী মাওলা আল্লাহ ও নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে প্রেম ও মহব্বতের এক অতল সম্পর্ক উন্মোচন করেছেন। নবীজি ল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছায়া না থাকা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে তেনার গভীর ভালোবাসা ও রহস্যের প্রকাশ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment