---Advertisement---

কবরে তিনটি প্রশ্ন ও মুর্শিদের সুরতে মদিনার কামলিওয়ালা।

November 3, 2025 4:22 PM
কবরে তিনটি প্রশ্ন ও মুর্শিদের সুরতে মদিনার কামলিওয়ালা।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আজ আমরা আলোচনা করব-“কবরে তিনটি প্রশ্ন ও মুর্শিদের সুরতে মদিনার কামলিওয়ালা”। কারণ, মৃত্যুর পর মানুষের প্রথম গন্তব্য হলো-কবর। সেখানেই শুরু হবে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ। আর সেই জিজ্ঞাসা হবে তিনটি প্রশ্নের মাধ্যমে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করে দেবে কার জন্য জান্নাত এবং কার জন্য জাহান্নাম

আল্লাহ তাআলা বলেন- “বন্ধু! (নূর নবীজী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যারা আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছে, তারা আমি খোদার হেফাজতে থাকবে।”

এই বাণীর মাধ্যমে বোঝা যায়-
বায়আতের সম্পর্ক কেবল একজন পীর বা মুর্শিদের সঙ্গে নয়, বরং তা সরাসরি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে গভীর এক আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতীক। এটি শুধু কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক মহান বিশ্বাস ও আস্থার অঙ্গীকার

আর এই বায়আতের বরকতেই, মৃত্যুর পর কবরের সেই ভীতিকর একাকীত্বে বান্দার জন্য দেখা দেবে এক মহান দয়ার দৃশ্য। মুর্শিদের রূপে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই কবরে এসে দাঁড়াবেন

চলুন, জেনে নিই – দয়াল বাবা জালালী মাওলা-এর বর্ণনায়, কবরের সেই নিঃসঙ্গ ও ভয়ানক মুহূর্তে
কিভাবে মুর্শিদের সুরতে আগমন করবেন মদিনার দয়াময় কামলিওয়ালা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

মুর্শিদের সুরতে মদিনার কামলিওয়ালা

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- কবরে ফেরেশতারা তিনটি প্রশ্ন করবেন। কিন্তু তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন না:

  • “তুমি নামাজ পড়েছো?”
  • “রোজা রেখেছো?”
  • “তোমার স্ত্রী পর্দা করত কি না?”
  • “দান-খয়রাত করেছিলে কি না?”

না, এসব কিছুই তারা জিজ্ঞেস করবে না।

প্রথম প্রশ্ন করবে:
“মান রাব্বুকা?” – তোমার আল্লাহ কে?

ফেরেশতারা যখন আরবিতে বলবে “মান রাব্বুকা?”,
আপনি চেয়ে থাকবেন, উত্তর দিতে পারবেন না।

তখন আল্লাহ বলবেন:

— হে ফেরেশতারা! আমার এই বান্দা তো বাঙালি, আর তোমরা প্রশ্ন করছো আরবিতে!
সে তো চেয়ে আছে- উত্তর দিতে পারছে না।
যাও, আমি খোদা- ওকে মাফ করে দিলাম। আরও দুটি প্রশ্ন আছে, সেই প্রশ্ন দুটি করো

দ্বিতীয় প্রশ্ন করবে:
ওয়া মা দ্বীনুকা?” – তোমার ধর্ম কী?

বান্দা আবার চেয়ে থাকবে।
আল্লাহ আবার বলবেন:

— হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা তো বাঙালি, আর তোমরা আরবিতে প্রশ্ন করছো।
আমি খোদা- ওকে এটাও মাফ করে দিলাম।
আরো একটি প্রশ্ন বাকি আছে- সেই প্রশ্নটি করো

তৃতীয় প্রশ্ন করবেন:
ওয়া মান হাযা র-রাজুল আল্লাযী বু‘ইসা ফীকুম?”
— ইনি কে, যিনি তোমার কবরে?

যারা বায়আতে রাসূল গ্রহণ করেছে,
নূর নবীজী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-

প্রত্যেকের পীরের সুরতে কবরে দাঁড়াবে।

আপনি তখন বলবেন:

হাযা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
উনি আমার আকা! উনি আমার মুর্শিদ!

আল্লাহর কসম! এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তোমার কবরের মাটি আমার কবরের মাটি চারপাশে দৌড় দিবে-
সাতটা দুনিয়ার সমান আমাদের কবর হয়ে যাবে

আল্লাহ ডাক দিয়ে বলবেন:
মুনকির-নাকির!
তারা বলবে,
হে আমাদের মাবুদ!

আল্লাহ বলবেন:
— এত বড় ভঙ্কর দুনিয়া সাতটা দুনিয়ার সমান কবর হয়েগেছে। আমার বান্দার ভয় লাগে ।
তোমরা তাড়াতাড়ি বেহেশতে যাও। বেহেশতি পোশাক নিয়ে আমার বান্দাকে পরাও। জান্নাতি গালিচা বিছিয়ে দাও।

জান্নাতি গালিচা বিছিয়ে দেওয়ার পর – মা যেমন ছেলে মেয়েদের বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে ঘুম পাড়ায়, মা যখন বুকটা টান দেয় শিশু কেঁদে ওঠে- তখন মা শিশুর পিঠে মৃদু করে দুই-তিনবার থাপড় দেয়- শিশু আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

আল্লাহ বলবেন:
নাউম, নাউম, নাউম! বলে
তিনটি থাপড় দিয়ে আমার বান্দাকে ঘুম পাড়িয়ে দাও।
কিয়ামতের আগে আর জাগাবো না

পরিশেষে

যে ব্যক্তি একজন কামেল মুর্শিদের হাতে হাত রেখে বায়আতে রাসূল গ্রহণ করে, সে আসলে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেম ও আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়। এই বায়আত কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়- বরং এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে গভীর আস্থার এক বন্ধন।

মুর্শিদের রূপে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরে আগমন সেই আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরই এক অপার সৌন্দর্য।
এবং এটি প্রমাণ করে- যারা জীবদ্দশায় এই প্রেম ও আনুগত্যের পথে আত্মনিবেদন করে, তারা মৃত্যুর পরও থাকেন আল্লাহর হেফাজতে- নিরাপদ, শান্ত ও দয়ার পরশে আবৃত

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment