দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
কোরআনে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হন তাদের মৃত বলিও না এমন কি তাদের মৃত বলে ধারনাও করিওনা তারা জীবিত এবং কবরে রিযিক প্রাপ্ত। এমনকি আমরা আরো জানি মিরাজের রাত্রিতে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসা আলাইহিস সালামকে নিজ কবরে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। যেখানে সকল নবীগণ এবং সকল শহীদগণের চেয়ে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক মর্যদাবান। যেনার সাথে আল্লাহর সৃষ্টি জগতে আর কারো তুলনা নাই। তাহলে আমরা কিভাবে বলি তিনি মরে গেছেন। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন জিন্দা নবী, হায়াতুন নবী।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা তেনার পাক জবান বলেন: “সশরীরে জিন্দা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”চলুন জানি, দয়াল বাবা জালালী মাওলা এই বিষয়টি সম্পর্কে কী বলেছেন, যাতে এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে ও গভীরভাবে জানতে পারি।
সর্বত্র হাজির নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
“কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত।”
শরিয়তে মোহাম্মদী, আল্লাহ হুকুম করছেন, কলমে লিখছেন। লেখার পরে আল্লাহ ঝিলকায় আর বলেন- “আমার যত সৃষ্টি আছে, সমস্ত সৃষ্টি একবার মরবে। এখন প্রশ্ন হলো- নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি না স্রষ্টা? যদি সৃষ্টি হন, তবে মরে গেছেন-অসুবিধা কি?”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন–
অসুবিধা হলো- আল্লাহ “কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত” বলেছেন, সত্য। এই জন্য আল্লাহর যত সৃষ্টি, সমস্ত সৃষ্টির রূহ হলো ৫ (পাঁচ)টি। আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রূহ মুবারক হলো ৭ (সাত)টি।
আল্লাহ বলেন, “আজরাইল! আমার বন্ধুর সুলতানিয়্যাত রূহ মুবারক (বাক রূহ) কবজ করো।”
তখন আজরাইল বলেন, “খোদা! আমি মাফ চাই, ওগো আল্লাহ! আমি মাফ চাই।”
আল্লাহ বলেন, “মাফ চাও কেন?”
আজরাইল বলেন, “মাবুদ! আমার ভয় লাগে।”
আল্লাহ বলেন, “আমার বন্ধুর কাছে যাও, আমার বন্ধুর অনুমতিক্রমে রূহ কবজ করো।”
এখন আজরাইল দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কড়জোড়ে আসছে।
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি জেনেছি, বুঝেছি, আমি প্রস্তুত আছি। আমার আল্লাহ তোমাকে আদেশ করেছেন আমার রূহ কবজ করতে-তুমি রূহ কবজ করো।”
এখন আজরাইল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাক রূহ মোবারক কবজ করে হাতের মুঠোয় নিতে দেরি, আজরাইলের শিন পর্যন্ত জমিনের নিচে ঢুকে যাচ্ছে।
আজরাইল বললেন, “আল্লাহ!”
আল্লাহ বলেন, “ডাকলে কেন? আমার বন্ধুর প্রতি সালাতু সালাম পাঠ করো।”
এখন আজরাইল ৫ (পাঁচ) বার – মতান্তরে ১১ (এগারো) বার দরুদ শরীফ পাঠ করলেন। তখন আজরাইলের হাতটা একটু হালকা হলো।
আজরাইলের চোখের পলক পড়ার আগেই আল্লাহর দুনিয়াটা ঘুরে দেখলেন – আল্লাহর বন্ধুর রূহ মোবারক এত পূতপবিত্র যে, দুনিয়াতে এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখা সম্ভব।
তারপর গেল ১ম (প্রথম) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ২য় (দ্বিতীয়) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ৩য় (তৃতীয়) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ৪র্থ (চতুর্থ) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ৫ম (পঞ্চম) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ৬ষ্ঠ (ছষ্ঠ) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
তারপর গেল ৭ম (সপ্তম) আসমানে – দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
৭ম (সপ্তম) আসমান হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেলো সিদরাতুল মুনতাহা – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
সিদরাতুল মুনতাহা হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে নাছুতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে নাছুত হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে মালাকুতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে মালাকুত হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে লাহুতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে লাহুত হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে জাবারুতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে জাবারুত হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে উলফাতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে উলফা হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে হিমারে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে হিমা হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে দারদাতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে দারদাত হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে জাকিয়াতে- সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে জাকিয়া হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে বাকিয়াতে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে বাকিয়া হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে মাউনে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে মাউন হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে কলকলাতে- সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
আলমে কলকলা হতে ৫শত (পাঁচশত) বছরের রাস্তা দূরে গেল আলমে আহাদে – সেখানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মোবারক রাখার জায়গা নেই।
এভাবে আজরাইল যেতে, যেতে আজরাইল চলেগেছে লা-মোকামের উপরে। লা-মোকাম এমন একটি জিনিস, যার উপর নেই, নিচ নেই, ডান নেই, বাম নেই; যেখানে শুধু আল্লাহ সাথে আর কেউ নেই। আজরাইল চলেগেছে আল্লাহর বাড়ীতে। আজরাইল আল্লাহর বাড়ীর চারপাশ ঘুরে হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনল – আজরাইল জ্বলোনা। আজরাইল বলে, “আপনাকে জ্বালাবো, আপনার খোদায়ি জ্বালাবো।” আল্লাহ রাগ করেন না, আল্লাহ বলেন, “আজরাইল, আমাকে জ্বালাবে? আমার খোদায়ি জ্বালাবে? ক্যামন করে, কীভাবে?”
আজরাইল বলে, “খোদা, তোমার বন্ধুর বাক রুহ মোবারক আমার হাতের মুঠোর মধ্যে। আপনাকে জ্বালাবো, আপনার খোদায়ি জ্বালাবো, কিন্তু আমি জ্বলবো না।”
আল্লাহ ঝিলকায় আর বলেন, “আজরাইল, আমাকে কি শুনাইলা? আমার বন্ধুর রুহ মোবারক নিয়ে ছিলিমিলি খেলতেছো কেন? থুইয়া দেও না।”
আজরাইল বলে, “মাবুদ, সাত জমিন, সাত আসমান, আশি হাজার আলম, আরশ, কুরসি, লৌহ, কলম, বেহেশত, দোজখ- ২৭ (সাতাশ) হাজার বার ঘুরছি। আপনার বন্ধুর রুহ মোবারক যে পূতপবিত্র, এমন একটা জায়গা নাই, রুহ মোবারক রাখতে পারতেছিনা।
আল্লাহ বলে, “আজরাইল, আমার বন্ধুর রুহ মোবারক রাখার জায়গা কি নাই।”
আজরাইল বলে, “মাবুদ, বেয়াদবি, মাফ করলে; বলতে পারি একটা জায়গা আছে।”
আল্লাহ বলে, “কোথায়?”
আজরাইল বলে, “সাত জমিন, সাত আসমান, আশি হাজার আলম, আরশ, কুরসি, লৌহ, কলম, বেহেশত, দোজখে নাই; একটা জায়গা আছে। ঐ জায়গা হলো আপনার বন্ধুর দেহ মোবারক।”
তখন আল্লাহ বলে, “আজরাইল, আমার বন্ধুর রুহ মোবারক নিয়ে ছিলিমিলি খেলোনা; রুহ মোবারক ফিরিয়ে দিয়ে আসোনা।”
এই বার নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রুহ মোবারক ফিরিয়ে দিতেই আল্লাহ বলেন, “নবীগো, আপনার মরণ নাই।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
আমার নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সশরীরে জিন্দা। আমার আকা সশরীরে জিন্দা। মনে, মনে সালাম দেন, দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিচ্ছেন। এই যে আপনারা নামাজ পড়তেছেন, ‘আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু’ বলছেন। আরে, সালাম দিতে হবে; মুখোমুখি পর্দার বাইরে থাকলে কেউ কাউকে সালাম দিবে কি? ঈমান রাখতে হবে, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজির ও নাজির।
ওহাবীরা বলবে, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর-সারা বাংলাদেশে জোহরের নামাজ হচ্ছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন এতো মানুষের কাছে কিভাবে?”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা উদাহারণ দেন,
ঢাকা রামপুরা টেলিভিশন সেন্টারে একজন মেয়ে খবর পড়ছে। যতো কোটি টিভি আছে, সমস্ত টিভির মধ্যে একজন মেয়ে খবর পড়ছে। ইথারের মাধ্যমে দুনিয়ার মানুষ একজন মেয়েকে একটি সময়ের মধ্যে যদি কোটি জায়গায় উপস্থিত করতে পারে। ইথারের ইথার- আমার আল্লাহ, আমার আল্লাহ, দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেকেন্ডে কোটি জায়গায় উপস্থিত করতে পারবে কি? পারবে না।
পরিশেষে
এখান থেকে বোঝা যায়, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু সৃষ্টি নন, তিনি আল্লাহর বিশেষ মর্যাদা এবং পূতপবিত্র রূহের অধিকারী। তেনার রূহ মুবারক এমন মহিমাময় যা সর্বত্র উপস্থিত, কোনো সৃষ্টি বা স্থান তেনাকে ধারণ করতে পারে না। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা তুলনাহীন এবং সীমাহীন। তিনি সশরীরে জিন্দা। তিনি সর্বস্তরে হাজির।










