দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
দয়াল বাবা জালালী মাওলার দরবার ন্যায়, দয়া ও অলৌকিকতার মিলনস্থল। সেখানে অন্যায় মন নিয়ে কেউ প্রবেশ করলে তার শাস্তি অনিবার্য। একদিন এক গরু চোর লোভে পড়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলার ব্যবহৃত পিতলের লোটায় হাত দিয়েছিল-আর তাতেই ঘটেছিল এক বিস্ময়কর অলৌকিক ঘটনা।
আজ আমরা দয়াল বাবা জালালী মাওলার একটি আশ্চর্যজনক কারামত সম্পর্কে জানবো- যে কারামতটি হলো, “জালালী বাবার লোটা থেকে আগুন বের হয়ে চোরের মুখ পুড়ে গেল।” এই ঘটনাটি শুধু এক অলৌকিক নিদর্শনই নয়, বরং ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। আসুন, সেই কারামতটি জানি এবং তেনাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করি।
লোটা ছুঁতেই আগুন, কিন্তু ফুঁ দিতেই মাফ ও মুক্তি!
দয়াল বাবা জালালী মাওলার এলাকাতেই একজন গরু চোর ছিল, যার নাম ছিল কামাল। তবে এলাকার লোকজন তাকে ‘কামাইল্যা’ বলে ডাকতো। তার অত্যাচারে এলাকার লোকজন গরু ঠিকভাবে রাখতে পারতো না। একদিন কামাইল্যা চোরা দয়াল বাবা জালালী মাওলার দরবারে গেল। গিয়েই ভাবতে লাগলো, সে কি চুরি করবে।
এমন সময় দয়াল বাবা জালালী মাওলার পিতলের লোটার দিকে তার নজর পড়লো- যে লোটাটি দিয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলা অজু করতেন। কামাইল্যা চোরা লোভ সামলাতে না পেরে যখন দয়াল বাবা জালালী মাওলার লোটাটি ধরলো, তখনই লোটাটি থেকে আগুন বের হয়ে কামাইল্যা চোরার মুখ পুড়ে গেল।
এখন কামাইল্যা চোরা তাড়াতাড়ি করে দয়াল বাবা জালালী মাওলার কাছে গিয়ে বললো, “বাবা, আমি তো আপনার লোটাটা চুরি করতে চেয়েছিলাম।” দয়াল বাবা জালালী মাওলা হেসে বললেন, “লোটা চুরি করতে পারলে? লোটার ভেতর থেকে তো আগুন বের হয়েছে!”
কামাইল্যা চোরা দয়াল বাবা জালালী মাওলার কদম মোবারক জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, “হুজুর, আপনার লোটা থেকে আগুন বের হয়েছে- আপনি জানলেন কিভাবে? আমি বেয়াদবি করেছি, অন্যায় করেছি। যার ফলে আমার মুখ পুড়ে গেছে। আমাকে মাফ করে দিন।”
যখন কামাইল্যা চোরা কাঁদতে লাগলো, তখন দয়াল বাবা জালালী মাওলা দয়ার দৃষ্টিতে তার মুখের দিকে তাকিয়ে তিনবার ফুঁ দিলেন। সাথে সাথেই কামাইল্যা চোরার পোড়া মুখ ভালো হয়ে গেল।
কামাইল্যা চোরা বাবা জালালী মাওলার কদম মোবারক জড়িয়ে ধরে বললো, “বাবা, আজ থেকে আমি ভালো হয়ে গেলাম। প্রতিজ্ঞা করছি- আপনার বাড়িতে স্বর্ণ পড়ে থাকলেও আমিতো দূরের কথা আমার চ্যালারাও পর্যন্ত কেউ ধরবেনা।
পরিশেষে
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, দয়াল বাবা জালালী মাওলার দরবার কেবল অলৌকিকতার স্থান নয়, বরং মানুষের পথভ্রষ্ট মনকে সঠিক পথে ফেরানোর স্থান। তেনার দয়ার ছোঁয়ায় একজন চোরও তওবা করে সৎ পথে ফিরে আসে। যারা সত্যিকারের ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলার দরবারে যায়, তাদের হৃদয় আলোকিত হয়ে ওঠে।








