দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবকিছু জানেন, শুনেন এবং দেখেন। তিনি কেবল দৃশ্যমান বিষয়ই নয়, অদৃশ্য ও গোপন বিষয়ও জানেন। আমাদের জীবন ও প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনা তেনার জ্ঞানের অন্তর্গত। তিনি আমাদের ভাবনা, মনোভাব এবং অন্তরকষ্টও জানেন। তাই কোনো কিছুই তেনার নজর এবং জ্ঞানের বাইরে নয়।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, আশি হাজার আলম ও আঠারো হাজার জাত দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দৃশ্যমান। তেনার কাছে গায়েব বা অদৃশ্য বলে কোনো কিছুই নেই। তেনার অদৃশ্য শক্তি ও গায়েবের জ্ঞান সম্পর্কে দয়াল বাবা জালালী মাওলা কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আসুন সেই সম্পর্কে জানি এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেমনভাবে মানা উচিত, তেমনভাবেই মানি।
নবীজি ﷺ দেখেন হাতের তালুর মধ্যে ১৮,০০০ জাত ও ৮০,০০০ আলম।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন –
আল্লাহ পাকের নাম মূলত ১০০০০ (দশ হাজার) আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক হলো ১০২০৬ (দশ হাজার দুইশত ছয়)। আল্লাহ পাকের জাতী নাম ১ (এক)টি আল্লাহ। আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জাতি নাম হলো ২ (দুই)টি ১ (এক)টি হলো আহমদ, ১ (এক)টি হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
কিন্তু আল্লাহ পাকের ১০০০০ (দশ হাজার) এবং দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ১০২০৬ (দশ হাজার দুইশত ছয়) নামের কথা সকলেই জানেনা। কিন্তু প্রত্যেকেই আমরা আল্লাহ পাকের ৩০০০ (তিন হাজার) এবং দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ৩২০৬ (তিন হাজার দুইশত ছয়) নামের কথা আলেমের মুখে শুনেছি।
আল্লাহ পাকের ৩০০০ (তিন হাজার) নামের মধ্যে –
১০০০ (এক হাজার) নাম আরশে গাঁথা,
১০০০ (এক হাজার) নামের তাসবিহ পড়ে ফেরেশতারা,
৩০০ (তিন শত) তাওরাতে,
৩০০ (তিন শত) যাবুরে,
৩০০ (তিন শত) ইঞ্জিলে,
আর থাকে ১০০ (এক শত) নাম।
দলবল নির্বিশেষে, আল্লাহ নামটাই ইসমে আজম – জাতি নাম।
আল্লাহ নাম বাদ দিলে থাকে ৯৯ (নিরানব্বই) নাম, যা বাগদাদী কায়দার শেষ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
এই ৯৯ (নিরানব্বই) নামের মধ্যে আল্লাহ পাকের একটি গুণবাচক নাম হলো ইয়া বাছীর।
আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৩২০৬ (তিন হাজার দুইশত ছয়) নামের মধ্যে জাতি নাম আহমদ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদ দিলে ২০৪ (দুইশত চার) নামের তাহকিক করেছেন নোয়াখালীর শাজালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। কিতাবের নাম হলো দালাইলুল খায়রাত। এই ২০৪ (দুইশত চার) নামের মধ্যে একটি নাম হলো ইয়া নাজীর।
আল্লাহ পাকের নাম হলো বাছীর,
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম হলো নাজীর।
আল্লাহর ৩০০০ (তিন হাজার) নামের মধ্যে নাজীর নাম নেই,
আর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ৩২০৬ (তিন হাজার দুইশত ছয়) নামের মধ্যে বাছীর নাম নেই।
নাজীর শব্দের অর্থ – দেখনেওয়ালা, শুননেওয়ালা।
বাছীর শব্দের অর্থও – দেখনেওয়ালা, শুননেওয়ালা।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন – ওয়া আল্লামাকা মা লাম তাকুন তাআলাম
আমার আল্লাহ যা জানেন, আমার দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামও তা জানেন।
আল্লাহ যেভাবে জানেন, নবীজিও সেইভাবে জানেন।
আল্লাহ যেভাবে দেখেন, নবীজিও সেইভাবে দেখেন।
আল্লাহ যেভাবে শোনেন, নবীজিও সেইভাবে শোনেন।
কিন্তু পার্থক্য হলো, আল্লাহ কোনো বস্তুর মতো নন; আল্লাহ দেখেন চক্ষু ছাড়া।
আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেন চক্ষু মোবারকের কালো ডিমের দ্বারা।
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতের তালুর মধ্যে ১৮ (আঠারো হাজার) জাত ও ৮০ (আশি হাজার) আলম দেখেছেন এবং দেখতেই থাকবেন কিয়ামত পর্যন্ত।
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ শরীফ পড়েন, যেভাবেই হোক-মনে মনে বা জোরে জোরে,
আমার দয়াল নবীজি সাসাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কান মোবারকের দ্বারা শুনছেন এবং শুনতেই থাকবেন কিয়ামত পর্যন্ত।
পরিশেষে
দয়াল নবীজি ﷺ সবকিছু জানেন, শুনেন ও দেখেন।
তিনি হাতের তালুর মধ্যে সদা ৮০,০০০ আলম এবং ১৮,০০০ জাত দেখছেন, এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত দেখতেই থাকবেন।
নবীজির প্রতি দরুদ শরীফ মনে মনে বা জোরে জোরে যেভাবেই পড়ুন না কেন, নবীজি ﷺ কান মোবারকের মাধ্যমে শুনেন থাকবেন কিয়ামত পর্যন্ত।










