দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এমন একজন আল্লাহর অলী, যেনার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আধ্যাত্মিকতার আলোয় উদ্ভাসিত। মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর বয়সেই তিনি যে অলৌকিক অন্তর্দৃষ্টির প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন, তা আজও মানুষের হৃদয়ে বিস্ময় ও ঈমান জাগিয়ে তোলে। আমরা “হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর শৈশবের করামত।” সম্পর্কে আলোচনা করবো। আসুন জানি তেনার শৈশবের সেই কারামতটি।
এক বৃদ্ধের কান্না ও হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর অলৌকিক আশ্বাস
হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, তখন মাত্র পাঁচ বা ছয় বছরের শিশু, স্বীয় পিতার পাশে বসে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় এক বৃদ্ধ কাঁদতে কাঁদতে তার পিতার কাছে এসে বলেন- “হুজুর, আমার একমাত্র সন্তান তিন মাস আগে নিখোঁজ হয়ে গেছে। কোথায় আছে জানি না। আমার স্ত্রী কলিজার টুকরা পুত্রটিকে হারিয়ে দিবা নিশি কাঁদতে কাঁদতে প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি নিজেও অসহায় হয়ে পড়েছি। আপনি দোয়া করুন যেন আমার সন্তান ফিরে আসে।” হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর পিতা কিছু বলার আগেই হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন- “চিন্তা করবেন না। নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরে যান এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করুন। ইনশাআল্লাহ, আজ মাগরিবের পূর্বেই আপনার সন্তান ফিরে আসবে।”
গায়েবী জ্ঞান ও আল্লাহর কুদরতের প্রকাশ
হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মুখে এমন আত্মবিশ্বাসপূর্ণ কথা শুনে তাঁর পিতা বিস্মিত হয়ে জানতে চান, “বাবা, তুমি এতটা নিশ্চিত হলে কী করে?” উত্তরে হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কুরআনে বর্ণিত হযরত খিযির আলাইহিস সালাম ও হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন- “আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা করেন, তাঁকে গায়েবী জ্ঞান দান করেন। তাঁর কুদরতের সীমা নেই।” আশ্চর্যের বিষয়, মাগরিবের পূর্বেই সেই হারানো পুত্র সুস্থভাবে ঘরে ফিরে আসে।
পরিশেষে
হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর এই অলৌকিক ঘটনা আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাঝে এমন গায়েবী জ্ঞান দান করেন যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। তেনার অন্তর্দৃষ্টি ও আল্লাহর কুদরতের প্রকাশ আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সব কিছু সম্ভব। হযরত শাহপরাণ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর এই অলৌকিক ঘটনা আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করে।









