দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“মসজিদের ভিতরে আযান দেওয়া হারাম – দয়াল বাবা জালালী মাওলার স্পষ্ট নির্দেশনা।” আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, কারণ আজকের যুগে আজানের স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে অনেক মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইতিহাস, হাদিস ও খলিফাগণের আমল পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুরু করে হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সময় আযান দেওয়া হতো মসজিদের দরজার বাইরে। হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আমলেই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দ্বিতীয় আজান প্রবর্তিত হয়।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা মসজিদের ভিতরে আজান দেওয়া হারাম সম্পর্কে যেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন, সেই বিষয়টি এখানে তুলে ধরা হলো।
আজানের সূচনা
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন মক্কা হতে হিজরত করে মদিনায় আসেন, সেদিনই আল্লাহর পক্ষ থেকে আজান দেওয়ার আদেশ আসে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে আদেশ দেন আযান দেওয়ার জন্য। এর পূর্বে আযান ছিল দুনিয়ার কোনো মৌলভী বলতে পারবেন না – আযান নাই, নাই, নাই। তখন একামত দিয়ে নামাজ পড়া হতো। এখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কোথায় আযান দিলো।
আন সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) ক্বাল:
কানা ইউআযযিনু বাইনা ইয়াদাই রসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইজা জালাসা আলাল মিমবার ইয়াওমাল জুমু’আতি আলা বাবিল মাসজিদ।
সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বর্ণনা করেন:
জুমার দিনে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে বসতেন, তখন মসজিদের দরজার বাহিরে তেনার সামনে আযান দেওয়া হতো।
“এভাবেই দশ বছর ধরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিম্বরে বসতেন তখন হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে নববীর দরজার চৌকাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে আযান দিতেন।”
খলিফাগণের আমলে আজান
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দা করার পর –
- হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তেনার খেলাফত কাল ছিল ১৪ দিন কম ২ বছর। উনি যখন মসজিদে নববীর মিম্বরে বসতেন আজান দরজার বাহিরে হতো। তিনি বেছাল করার পরে –
- খলিফাতুল মুসলেমিন হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওনার খেলাফত কাল ছিল সাড়ে ১০ বছর। উনি যখন মসজিদে নববীর মিম্বরে বসতেন আজান দরজার বাহিরে হতো। তিনি বেছাল করার পরে –
- হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওনার খেলাফত কালে মুসলমানের সংখ্যা বাড়তেছে উম্মিয়া বংশের, খোজাইয়া বংশের, আব্বাসিয়া বংশের তারা দলে দলে এসে মুসলমান হওয়া শুরু করছে। হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কমল প্রকৃতির। উনি ২৬ মাস নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মতে পথে, হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মতে পথে, হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মতে পথে আযান দিয়ে নামাজ পড়াতেন।
দ্বিতীয় আজানের প্রবর্তন
কেবলাল জুম্মার ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা না পড়লে কবিরা গুনাহ হয়। তওবা ব্যতিত কবিরা গুনাহ মাফ নাই। এখন কেউ বাড়ী করছে টিলার উপরে, কেউ বাড়ী করেছে কাছে, আযানের আওয়াজ সবজায়গায় জায়না। ২৬ মাস পরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু-কে খোয়াবে নির্দেশ দেন, “ওসমান, আমার অনেক উম্মত কবিরা গুনাহে ডুবে যাচ্ছে। আর একটি আজান প্রতিষ্টিত করে দাও।” এই বার মদিনার পথে বিছজাওয়া নামক বাজারে উচু জায়গায় গিয়ে আজান দিলে সকল মানুষ আযান শুনছে। তারা তারাতারি করে মসজিদে নববীতে আসছে এবং দেখতেছে আজকে হতে নতুন একটা আযান চালু হয়েছে, এটাকে সুন্নতে সুকুতি বলা হয়।
এখন ৫ ওয়াক্ত নামাযে আজান যেটা দেওয়া হয়, এই আযান নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমলে, হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু এর আমলে, হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু এর আমলে নাই। হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু এর আমলে এই আযান বের হয়েছে।
এখনও যে মসজিদে মাইক নাই সে মসজিদের আযান বাহিরে হয়। আর যে মসজিদে মাইক আছে তার আযান হয় মসজিদের ভিতরে। এখন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আইন প্রতিষ্টা করল তা কেউ ভাংতে পারবে কি? যদি কেউ ভাংগে সে কখনও নবী মানছে কি? যতই নামাজ পড়ো কপালে দাগ লাগাও নামাজ কবুল হবে কি?।
এই জন্য নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৪শত বছর আগে ফরমান –
“মান তামাছাকা বে সুন্নতি ইনদা ফাসাদে উম্মতি ফালাহুম আজরুম ইয়া তাশাইদ।”
উম্মতরে তোমাদের মধ্যে আমার এমন একটা জামানা আসবে, আমার হাজার হাজার সুন্নতকে মুরদা করে ফেলবে, মাটি দেবে। এই সুন্নতকে জিন্দা করতে হলে কিলোকাল লাগবে কিলোকাল পরে যদি আমার একটা সুন্নত কেউ জিন্দা করবা, আমি দয়াল নবী তোমাকে ১০০ শহিদের ছওয়াব দিবো।
আজানের দলিল প্রসারে প্রিয় মুরশিদের নির্দেশ
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন:
অনেকে জিজ্ঞেস করেন – “আজানের যে দলিলটি আপনি তুলে ধরেন, সেটি আপনার পীর সৈয়দ আবেদ শাহ কেবলা কাবা কেন নিজে বলেননি?”
তিনি বলেন – তানবাজারে একদিন আমার পীর সৈয়দ আবেদ শাহ কেবলা কাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহাস (ধর্মীয় আলোচনা) হয়েছিল। সেই দিন তিনি আমাকে বলেছিলেন,
“জালালী! আমি তো বায়াতে রাসুল করাতে করাতে পর্দা করব। আজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল আছে – তুমি এই দলিলটি প্রকাশ ও প্রসার করবে। না করলে জবাবদিহি করতে হবে দয়ালের কাছে।”
পরিশেষে
আজানের সুন্নাহ অনুযায়ী বাহিরে দেওয়া এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুসরণ করা শুধুমাত্র একটি আমল নয়, এটি ঈমানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যিনি এই সুন্নাহকে জিন্দা করবেন, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য ১০০ শহিদের সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।










