দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বায়আত মানে শুধু কারো হাতে হাত দেওয়া নয়। “বায়আতে রাসূল মানেই বায়আতে খোদা।” এটি এক গভীর আত্মিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
এই বিষয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলা বায়আতে রাসূল গ্রহণকারী ও বায়আতে শেখ গ্রহণকারীদের পার্থক্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আসুন, তেনার সেই নির্দেশনা ও বার্তা সম্পর্কে জানি।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাতে বায়আত মানেই আল্লাহর হাতে বায়আত।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন:
ইন্নাল্লাযীনা ইউবায়িউনাকা, ইন্নামা ইউবায়িউনাল্লাহ ইয়াদুল্লাহি ফাওকা আইদীহিম।” – সুরা ফাতহ- আয়াত নম্বর- ১০।
অর্থ- নিশ্চয় যারা আপনার (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতে বায়আত গ্রহণ করেছে, তারা তো আল্লাহরই নিকট বায়আত গ্রহণ করেছে। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- বায়আত মূলত দুই ধরনের হয়: একটি হলো বায়আতে রাসূল, আর অন্যটি হলো বায়আতে শেখ। আল্লাহ পাক কোরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, একমাত্র বায়আতে রাসূল গ্রহণ করো। বায়আতে রাসূলের মাধ্যমে নবীজী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন মানেই আল্লাহর সঙ্গে একটি গোপন ও পবিত্র আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলা। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বায়আতে শেখ হারাম এবং এটি থেকে বিরত থাকা জরুরী।
বায়আতে শেখ কেন হারাম- এ বিষয়ে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আমাদের সতর্ক করেছেন। তিনি এ ধরনের বায়আতের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে যে বার্তা দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য এক গভীর শিক্ষণীয় নসিহত। এ প্রসঙ্গে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
“পীরের দল হবে বারোটি। এর মধ্যে এগারোটি দল- পীর ও মুরিদ বায়আতে শেখ গ্রহণ করার কারণে বিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে। একটি মাত্র দল বায়আতে রাসূল গ্রহণ করার কারণে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে।”
তাইতো আল্লাহ তাআলা বলেন-
বন্ধু (দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আপনি হায়াতুন নবী, আপনি ইমামুল মুরসালিন, আপনি রহমাতুল্লিল আলামিন। আপনি মুরদি করাতে পারবেন কেয়ামত পর্যন্ত।
পরিশেষে
বায়আত কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়- এটি একটি গভীর আত্মিক অঙ্গীকার। যারা সত্যিকার অর্থে বায়আতে রাসূল গ্রহণ করে, তারা কেবল একজন পীরের অনুসারী হয়ে থাকেন না; তারা অংশ হয়ে যান নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র নূরের আলোর যে আলো তাদের জীবনকে আলোয় ভরে তোলে।










