দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, “ওয়া তাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়া” অর্থ- “এবং আল্লাহর রজ্জু (রশি) কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো”। সূরা- আলে ইমরান, আয়াত নম্বর- ১০৩।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের একটি মহান নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়- আল্লাহর রজ্জু বা রশি কী, এবং কেন এটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা জরুরি? এই প্রশ্নের উত্তর জানার মাঝেই নিহিত রয়েছে একজন মানুষের আত্মিক মুক্তি ও ঈমানি উন্নতির গোপন রহস্য।
দয়াল বাবা জালালী মাওলার ব্যাখ্যা
এই প্রসঙ্গে দয়াল বাবা জালালী মাওলা এক গভীর ও হৃদয়ছোঁয়া ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন-
আল্লাহর রজ্জু (রশি) আসলে কী?
কীভাবে এই রশি একজন মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দিতে পারে?
এবং কীভাবে এই রশির মহব্বতের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে?
আসুন, আমরা দয়াল বাবা জালালী মাওলার সেই হৃদয়ছোয়া ব্যাখ্যার আলোকে এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করি।
আল্লাহর রজ্জু কী?
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“আল্লাহকে ধরার কোনো যন্ত্র কি আছে?
আল্লাহকে ধরার কোনো রশি কি আছে?
স্কুলে নেই, মাদ্রাসায় নেই, মক্তবেও নেই, বিশ্ববিদ্যালয়েও নেই- নেই, নেই, নেই।
শুধু এক জায়গাতেই আছে- আর তা হলো আল্লাহর অলির কদম।
আল্লাহর অলির কদমই হলো আল্লাহ ধরার রশি।”
আল্লাহর অলির ফয়েজ দুই প্রকার
১. নজরের ফয়েজ (ভিন্ন নজর)
এমন এক আত্মিক দৃষ্টি, যা মুরশিদের তাকানোতেই মুরিদের অন্তরে আলোর স্পর্শ এনে দেয়। এই দৃষ্টি সাধারণ চোখের নয়, বরং নূরে ভরা এক আধ্যাত্মিক তাওয়াজ্জুহ। এক পলকের এই নজরেই জীবনের অন্ধকার দূর হয়ে পথ স্পষ্ট হয়ে যায়।
২. বিসরণমূলক ফয়েজ
এই ফয়েজ ঠিক গাছের শিকড়ে পানির মতো- যা ধীরে ধীরে প্রবেশ করে গাছকে জীবিত করে। তেমনি মুরশিদের সোহবত, ইবাদত ও খিদমতের মাধ্যমে মুরিদের অন্তরে নূরের ধারাবাহিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যা এক সময় হৃদয়কে সম্পূর্ণরূপে আলোকিত করে তোলে।”
আল্লামা শেখ সাদি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর উপদেশ
আল্লামা শেখ সাদি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক অনন্য বাণীতে বলেন-
“হে জগতবাসী,
যদি আল্লাহ পেতে চাও,
তাঁর নৈকট্য লাভ করতে চাও,
তবে ওলি-আল্লাহর জুতার ধুলা হয়ে যাও।
কচ্ছবের দৃষ্টির আধ্যাত্মিক উদাহরণ
দয়াল বাবা জালালী মাওলা একটি অপূর্ব উদাহরণ দেন-
“দেখো কচ্ছবকে-
সে নদীর ধারে ডিম পাড়ে, তারপর সেগুলো মাটি ও খড় দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যায় নদীতে।
নদীর মধ্যে থেকেই সূর্যের দিকে মুখ করে তাকায় এবং ডিমগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়।
আল্লাহ তাকে এমন এক দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন- সে দূর থেকে তাকালেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়ে আসে।”
এরপর তিনি বলেন-
“যদি কচ্ছবের দৃষ্টিতে এমন প্রভাব থাকে,
তবে ভাবো, আল্লাহর অলির দৃষ্টিতে কত শক্তি রয়েছে!
তুমি যদি অলিদের মহব্বত অন্তরে ধারণ করো,
আর একবার যদি তোমার মুরশিদ তোমার দিকে মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকান-
তবে তোমার অন্ধকার ক্বলব মদিনার আয়না হয়ে যাবে।
পরিশেষে
কেউ অন্ধকার কূপে পড়ে গেলে রশি আঁকড়ে ধরে উপরে উঠে এসে মুক্তি পায়, ঠিক তেমনিভাবে যারা আল্লাহর অলিদের মহব্বতে জীবন গড়ে তোলে, তারা শুধু সঠিক পথই খুঁজে পায় না- বরং ধীরে ধীরে তাদের হৃদয় আলোকিত হয়ে ওঠে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরানী আলোয়।”










