---Advertisement---

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা ও কাবার অলৌকিক সাক্ষাৎ।

November 3, 2025 4:43 PM
মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা ও কাবার অলৌকিক সাক্ষাৎ।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আজ আমরা কথা বলবো হযরত “মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা ও কাবার অলৌকিক সাক্ষাৎ” নিয়ে। আধ্যাত্মিক জগতে তেনার নাম অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি, দুনিয়ার মোহ, লোভ ও বিলাসিতা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তেনার জীবন ছিল এক গভীর নিরব সাধনা- যেখানে তিনি শুধুই পরম বন্ধুর ভালোবাসায় ডুবে ছিলেন। মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা তাসাউফ ও আত্মিক সাধনার পথে ছিলেন সম্পূর্ণ নিবেদিত। তেনার প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন আল্লাহর জিকিরে পূর্ণ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, আল্লাহকে চিনতে হলে শুধু জ্ঞান নয়, দরকার গভীর প্রেম এবং অন্তরের চোখ

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা-এর সঙ্গে কাবার অলৌকিক স্বাক্ষাত যা শুধু আধ্যাত্মিক ইতিহাস নয়, বরং ঈমানের গভীরতা ও আল্লাহপ্রেমের নিখাদ দৃষ্টান্ত। সেই ঘটনার মাহাত্ম্য নিয়ে তিনি অসাধারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আসুন, সেই বিস্ময়কর ও হৃদয়জাগানিয়া কাহিনি তেনার ভাষ্যে জানার চেষ্টা করি

পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা আল্লাহ ধরা, ছোঁয়ার বাহিরে

আরবিতে বলে হাওয়াসে খামসা, বাংলায় যাকে বলে পঞ্চ ইন্দ্রিয়- তা হলো:

  • দৃষ্টিশক্তি (চোখ)
  • শ্রবণশক্তি (কান)
  • ঘ্রাণশক্তি (নাক)
  • স্বাদের অনুভব (জিহ্বা)
  • স্পর্শ অনুভব (ত্বক)

এই পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা আল্লাহ ধরা, ছোঁয়ার বাহিরে বা উপলব্ধি করা যায় না। কেননা, আল্লাহ আকার ও আকৃতির ঊর্ধ্বে- তিনি নিরাকার।

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহার প্রশ্ন: নিরাকার আল্লাহর ঘর কেন?

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা বলেন:
“হে আল্লাহ, তুমি তো বলো- তুমি লম্বা নও, খাটো নও; তুমি সাদা নও, কালো নও; কোন বস্তুর মত নও। তুমি বলো তুমি নিরাকার। তোমার আরাম নাই, আশেয় নাই, হজত নাই, শীত নাই, গরম নাই। আমাদের আরাম আছে, আয়েশ আছে, শীত আছে, গরম আছে, হাজত আছে, পাক নাপাক আছে- এই জন্য আমাদের ঘরের দরকার।
হে খোদা, তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি তো এসবের ঊর্ধ্বে। তুমি যদি নিরাকার হয়ে থাকো, তবে দুনিয়ায় মক্কা শরীফের কাবা ঘরকে তোমার ঘর বলা হয় কেন? কি ঘর এটা বানিয়েছ, কে থাকে, কি করে? আমি দেখা ছাড়া তোমাকে ছেড়ে দেবো না।”

এই বলে মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা একবার সেজদা দিয়েছেন, মাথা তুলে একটি কদম এগিয়ে দিয়েছেন।

তখনই আল্লাহ জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে আদেশ দিলেন:
“জিবরাঈল! সিদরাতুল মুনতাহায় আর বসে থেকো না। জিবরাঈল, আমার বন্ধুর বান্দি রাবেয়া, যেভাবে আমার সন্ধানে কাবার দিকে আসতেছে, যদি সে সত্যি সত্যি কাবায় পৌঁছে যায়, আমি নিরাকার খোদা নিরাকার আর থাকতে পারবো না; আকার ধরে রাবেয়ার সঙ্গে দেখা দেওয়া আমি খোদার ফরজ হয়ে যাবে। আমি যদি রাবেয়ার সঙ্গে দেখা দেই, কিয়ামত হয়ে যাবে, দুনিয়া তো আর থাকবে না। হে জিবরাঈল, আমাকে আমার জায়গায় থাকতে দাও, রাবেয়াকে রাবেয়ার জায়গাতেই রাখো; বরং মধ্যে দিয়ে তুমি আমার কাবাটা বসরায় নিয়ে যাও।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহার চোখ বন্ধ, ঠোঁট বন্ধ, কান বন্ধ। তিনি একটু আগাতেই ঠুস করে মাথায় একটা আঘাত পেয়েছেন। তিনি হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখেন একটা পাথর। তিনি বলেন, “হে পাথর, আমি সাবালক হওয়ার পরে আমার মনে পড়ে না তোমাদের পাথর জাতকে আমি চিমটি দিয়েছি।
আমি আল্লাহর কাবা দেখার জন্য মক্কার উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। জগতের মানুষ বলে মাক্কায় নাকি আল্লাহর ঘর। আবার আল্লাহ কোরআনে বলেন আল্লাহ নৈরাকার। আসলে হাকিকত কি? আমি তা দেখার জন্য মক্কা শরীফের দিকে রওনা হয়েছি, তুমি পাথর কেন আমাকে বেড়া দিয়ে রাখলি?”

কাবার অলৌকিক জবাব

কাবার জবান খুলে গেছে-
“কাবা বলে রাবেয়া, আমি দুনিয়ার কোনো সাধারণ পাথর নই, আমি হলাম আল্লাহর খানায় কাবা।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা বলেন, ইয়া আল্লাহ-
“হে কাবা, আমি তোমার পাগল হয়ে তোমাকে দেখার জন্য মক্কা শরীফে রওনা দিয়েছি, তুমি কি আছ মক্কাতে না আছ আমার বসরাতে?”

কাবা উত্তর দেয়-
“রাবেয়া, আমি আল্লাহর কাবা, আপনার বসরাতে, আপনিও আছেন বসরাতে।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা বলেন, “বুঝছি-
আমি আসলে তোমার পাগল হয়ে রওনা হয়েছি, এখন হাকিকতে দেখতেছি, ‘তুমি আমার পাগল হয়ে বসরাতে এসেছ?’”

কাবা বলে-
“না, আমি তুমি রাবেয়ার পাগল নই।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা বলেন-
“আমি নিজে তোমার পাগল হয়ে রওনা দিয়েছি, এখন তুমি এসেছ আমার বসরার মধ্যে আর তুমি বলো তুমি আমার পাগল না। তাহলে এসেছ কিসের জন্য?”

কাবা বলে-
“রাবেয়া, রাগ করো না। আমি তোমার পাগল নই। আমি হলাম আল্লাহর পাগল।
আল্লাহর হুকুমে তোমার দিদার করাইতে তাই আমি কাবা আসছি তোমার বসরাতে।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা তখন বলেন-
“কাবা, তুই আমার পাগল না হলে কি হবে? তোমার আল্লাহ আমার পাগল। তাহলে আল্লাহকে ধরার যন্ত্র কি? আল্লাহকে ধরার কোনো রশি আছে কি?”

আল্লাহ ধরার রশি হলো আলি আল্লাহগণের কদম

কাবা উত্তর দেয়-
“ওয়া তাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়া” অর্থ- “এবং আল্লাহর রজ্জু (রশি) কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নম্বর-১০৩)।

একমাত্র আল্লাহর অলির কদম হলো আল্লাহ ধরার রশি। সেই কদম ধরে যে চলে, সে-ই আল্লাহর কাছে পৌঁছে।”

মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহা হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর গোলামী খাতায় নাম লিখিয়ে মুরিদ হয়ে তাসাউফের পথ বেছে নিয়েছেন

পরিশেষে

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- কাবা একমাত্র সেজদা দিয়েছিল মোকামে ইব্রাহিমের দিকে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমনে। আর কাবা মা রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহার জন্য সাড়ে আট হাজার মাইল পথ পেরিয়ে বসরায় উপস্থিত হয়েছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার হলো অলি আল্লাহদের পথ অনুসরণ করা, কারণ আল্লাহ ধরার রশি হলো আল্লাহর অলিগণের কদম

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment