দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আর কত! — মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি-এর এক অনন্য ও মহিমান্বিত আধ্যাত্মিক সৃষ্টি, যা সুফি দর্শন ও মারেফতের আকাশে এক উজ্জ্বল ও অম্লান নক্ষত্র। দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা অনুযায়ী—মানুষ যখন নিজের নফস বা নশ্বর দুনিয়াবী ইচ্ছা, অকারণ চিন্তা ও হতাশার জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করে এবং নিজের অস্তিত্বকে খোদার ইচ্ছার কাছে সম্পূর্ণ সঁপে দেয়, তখনই তার কলব বা হৃদয়ে খোদা প্রেমের আলো প্রকাশিত হয়। মাওলানা রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর এই কালজয়ী কবিতায় মানবজীবনের অহেতুক মানসিক যন্ত্রণা, দুঃখ আর অতিরিক্ত চিন্তার ক্ষতিকর দিকগুলোকে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। মানুষের ঘুমন্ত আত্মাকে জিকির ও ধ্যানের নূরে এক সেকেন্ডে জাগ্রত করার মতো এই কালজয়ী কবিতা এবং এর ভেতরের আধ্যাত্মিক হাকিকত নিয়েই আমাদের আজকের এই বিশেষ ভক্তিপূর্ণ পোস্ট, যা পাঠ করলে যেকোনো আশেক ও ঈমানদারের হৃদয় খোদা প্রেমে ব্যাকুল হয়ে উঠবে।
আর কত!!
— মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি
যন্ত্রণাদগ্ধ এই জীবন নিয়ে,
আর কতদিন তুমি
চিন্তার জাল বিস্তৃত করবে?
আর কতদিন
অনিষ্টকর এই পৃথিবীকে নিয়ে
ভাবতে থাকবে তুমি?
এই ভাবনাগুলি
শুধু একটিই সমাধান দিতে পারে তোমায়,
আর সেটি হলো-
তোমার জীবনীশক্তির ক্ষয়।
তাই এসব অনুভূতিকে
আবর্জনা হিসেবে আর না ভেবে,
বরং বন্ধ করে দাও
তোমার চিন্তার দরোজা।
পরিশেষে
আর কত! — মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি-এর এই অমর ও কালজয়ী আহ্বান আমাদের মূলত এই পরম আধ্যাত্মিক শিক্ষাই দেয় যে, আধ্যাত্মিক জগতের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে হলে নিজের নফসের আরাম, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার অহেতুক লোভ, অতিরিক্ত চিন্তা ও কুপ্রবৃত্তিকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে হবে। যখন একজন আশেক নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেমে কোনো কামেল মুর্শিদের সোহবতে গিয়ে প্রতি নিঃশ্বাসে নিজের আমিত্ব বা অহংকারকে বিলীন করে দেয়, তখনই তার অন্তরের আয়না খোদার কুদরতি নূরে ঝলমল করে ওঠে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়ার মিথ্যা ও নশ্বর মোহ পরিহার করে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অন্তহীন মহব্বত এবং ওলীগণের উসিলায় অন্তরের প্রকৃত আত্মশুদ্ধি ও খোদার খাঁটি ইশকে হাকিকি নসিব করুন। আমীন।










