খেজুর গাছের গুঁড়ির কান্নার বিস্ময়কর ঘটনা: দয়াল বাবা জালালী মাওলার রূহানী বয়ান।

মদিনায় শুভ আগমনের পর নূর নবীজি ﷺ মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা করেন। তেনার বিরহে মরা কাঠের আকুল ক্রন্দনের এক মহিমান্বিত মুজিযা হলো খেজুর গাছের গুঁড়ির কান্না। দয়াল বাবা জালালী মাওলার রূহার্নী বয়ানে উস্তুনে হান্নানার সেই অলৌকিক ইশকের ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জানতে এই প্রবন্ধটি এখনই সম্পূর্ণ পড়ুন।

খেজুর গাছের গুঁড়ির কান্নার বিস্ময়কর ঘটনা: দয়াল বাবা জালালী মাওলার রূহার্নী বয়ান।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মদিনায় শুভ আগমন ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পর তিনি ইসলামের ভিত্তি দৃঢ় ও সুসংহত করেন এবং মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা করেন। এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না, বরং মুসলমানদের শিক্ষা, দাওয়াত এবং প্রশাসনের কেন্দ্রস্থল হিসেবেও কাজ করত।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় শুভ আগমন এবং “খেজুর গাছের গুঁড়ির কান্না-র বিস্ময়কর ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন। আসুন, আমরা সেই বিস্ময়কর ঘটনা এবং তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে জানি, যা  নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় শুভ আগমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মদিনায় শুভ আগমন

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় যেদিন যাবে ৮০১১ জন সাহাবি নিয়ে মদিনার প্রথম গেট “বনি সালেম” এ প্রবেশ করবেন, তখন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে বলেন:
“আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ছাইয়েদি ইয়া রাসুল আল্লাহ,
আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ছাইয়েদি ইয়া হাবিবাল্লাহ।
ইয়া আইয়ুহাল লাজিনা আমানু ইজা নুদিয়ালিল সালাতে মিন ইয়াওমিল জুমা ফাসাউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জারুল বাইয়া।” জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বলেন: “নবীগো, আল্লাহ খবর পাঠিয়েছে আজান দিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে।”

মসজিদে নববী নির্মাণ

আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত বাড়িয়ে দিয়ে একটি খেজুর গাছের ডাল ভাঙছেন। ৮০১১ জন সাহাবি নিয়ে ৭২ হাত লম্বা, ২৭ হাত পাশ দিয়ে চারকোণায় চারটি খেজুরের ডাল গেঁড়ে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববী বানিয়েছেন।

এবার নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরসির দিকে নজর করে দেখতে পেলেন যে, একটি খেজুর গাছের গুঁড়ি দেখা যাচ্ছে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দ্বারা এই খেজুরের গোড়াটি উঠিয়ে কেউ হাত দিয়ে, কেউ দাঁত দিয়ে পরিস্কার করছে; কেউ জামা, কেউ চাদর, কেউ রুমাল বিছিয়ে একটি মিম্বর বানিয়েছে।

খেজুর গাছের গুঁড়ির বিস্ময়কর কান্নার ঘটনা

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গাছের গুঁড়িতে দাঁড়িয়ে ২৩ জুমা খোতবা দিয়েছেন। ২৩ জুমার পরে জুলিয়াদাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেনার হাত লম্বা, তিনি একটি কাঠের মিম্বর তৈরি করে নিয়ে আসলেন। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
“হে জুলিয়াদাইন, তোমার মহব্বতে আনোনাই, আমার বৌমার প্রেমে, আজকে কাঠের মিম্বর বানিয়ে নিয়ে আসছো।”
জুলিয়াদাইন এক লাফ দিয়ে বললেন: “ছাদদাগতা নবীগো, সত্য বলেছেন।”

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে বসে খেজুর গাছের গুঁড়িটা পা মোবারক দিয়ে ঠেলে দিয়েছেন। খেজুর গাছের গুঁড়িটি গড়াইতে গড়াইতে বেড়ার মধ্যে লাগছে। হঠাৎ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:
“কাদে কে।”
সাহাবিরা এপাশ-ওপাশে তাকিয়ে বললেন: “নবীগো, এই উস্তুনে হান্নানা (খেজুর গাছের গুঁড়ি) কাদতেছে।”

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বর হতে বাম হাত মোবারক মাটিতে লাগিয়ে, ডান হাত মোবারক লম্বা করে খেজুর গাছের গুঁড়িটা ধরে বলেন:
“খেজুর গাছের গুঁড়িরে কেন রে কাঁদ?”
খেজুর গাছের গুঁড়ি বললো:
“নবীগো, আমার জন্য কাদিনা; আপনার উম্মতের দায়ে না কাদতে আছি। নবীগো, আমি মরা খেজুর গাছে গুঁড়ি ছিলাম। আপনার নূরানী পা মোবারক যখন আমার উপর পড়ছে, তখন আমি মরা খেজুর গাছ জিন্দা হয়ে গেছি।”

২৩ জুমা, আমার উপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন; আজকে জুলিয়াদাইন একটি কাঠের মিম্বর নিয়ে আসছেন। মিম্বর পেয়ে আমাকে যে পায়ে ঠেলে দিলেন আমাকে তো ঠেলছেন, আপনার কত গোনাগার উম্মতকে পায়ে ঠেলে জাহান্নামে ঢেলে দেন।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিৎকার দিয়ে বললেন:
“খেজুর গাছের গুঁড়ি, তুমি আমাকে উচিৎ শিক্ষা দিলা। তোমাকে ধরে কসম করে বলি, নামাজের অন্তে জায়নামাজ দিয়ে তোমাকে মাটি দেব। কিয়ামতের দিনে, তোমার উপর দাঁড়িয়ে, আমি আমার ঈমানদার গুনাগার উম্মতের বেড়া পার করে নিব।

উপসংহার

পরিশেষে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় শুভ আগমন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি ইসলামের এক নতুন যুগের সূচনা। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় পৌঁছে ইসলামের শাশ্বত ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মসজিদে নববী নির্মাণের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করেন, যার সাথে জড়িয়ে আছে এই মহিমান্বিত “খেজুর গাছের গুঁড়ির কান্না-র অলৌকিক মুজিযা।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা আরও বলেন নেদা শব্দের অর্থ হলো “আযান” জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে আগে সালাম দিয়েছে এবার দেখা যায় যে, আজানের আগে সালাতু সালাম দেওয়া ঈমানদারদের উপর ফরজে আজম ফরজ হয়ে গেছে।

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment