নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভ আগমন ও বিস্ময়কর মুজিযা।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভ আগমন ও বিস্ময়কর মুজিযা।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমন সমস্ত সৃষ্টির জন্য রহমত। তেনার শুভ আগমনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে অনেক মুজিযা ঘটেছে, যা তেনার নবুয়তের মহিমা এবং রহমতকে প্রকাশ করে। এই লেখায়, আমরা “নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভ আগমন ও বিস্ময়কর মুজিযা” নিয়ে আলোচনা করব।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমন এবং তেনার মুজিযা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তেনার বাণীতে উঠে আসে সেই পবিত্র মুহূর্তের অনন্য মাহাত্ম্য, আসুন সেই সম্পর্কে জানি।

আসমানী কিতাবসমূহে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভ আগমনের বার্তা।

তাওরাত, জবূর ও ইনজিল- এই তিনটি আসমানী কিতাব সাক্ষ্য দিচ্ছে ‘আহমদ’ নামে এক ব্যক্তি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার, সুবহে সাদিকের সময়, বাক্কা শহরে, মোকামে ইব্রাহিমে শুভ আগমন করবেন। তিনি শুভ আগমন করা মাত্র বাপ-দাদার ধর্মে চুনকালি লাগবে- এমন এক ধর্ম তিনি জারি করবেন, যা লিঙ্গার করবে কিয়ামত পর্যন্ত। আসমানী কিতাবের এই ভবিষ্যৎবাণীর কারণে তাওরাতের ৪০ হাজার, জবূরের ৪০ হাজার ও ইনজিলের ৪০ হাজার মোট এক লক্ষ বিশ হাজার আলেম বা পাদ্রি পাগল হয়ে গেছে। এখন এক লক্ষ বিশ হাজার পাদ্রি একসাথে হয়ে খানায়ে কাবার সিয়ানে, আব্দুল মুত্বালিবের আঙ্গিনায় এসে সমবেত হন।

আবদুল মুত্তালিব এত লোক দেখে গলায় গামছা জড়িয়ে তাঁদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, “হুজুর, আপনারা কী মনে করে এখানে এসেছেন?” তারা বলল, “আপনি তো কাবার খাদেম হয়েছেন, আপনি কি লেখাপড়া জানেন?” তিনি বললেন, “জানি।” তারা বলল, “তাহলে তাওরাত পড়তে পারেন? আবদুল মুত্তালিব বললেন, “জানি।” এরপর তারা বলল, “জবূর পড়তে পারেন? তিনি বললেন, “জানি।” তারপর তারা বলল, “ইনজিল পড়তে পারেন? তিনি বললেন, “জানি।” তখন তারা প্রশ্ন করল, “তাওরাতে এই শব্দটি কী?” তিনি বললেন, “আহমদ।” তারা আবার বলল, “জবূরে এই শব্দটি কী?” তিনি বললেন, “আহমদ।” এরপর তারা বলল, “ইনজিলে এই শব্দটি কী?” তিনি বললেন, “আহমদ।” তখন তারা বলে উঠল, “আপনি সত্যিকারের গুণী, জ্ঞানী ও মহাজ্ঞানী।”

পাদ্রিদের ষড়যন্ত্র এবং আইন প্রণয়ন

পাদ্রিরা আবদুল মুত্তালিব-কে বলেন, “হুজুরগো, আজ রাতে জাজিরাতুল আরবে এক ব্যক্তি তো আসতেছে। তিনি আসার সাথে সাথে বাপ-দাদার ধর্মে চুনকালি লাগবে- এমন এক ধর্ম তিনি জারি করবেন, যা লিঙ্গার করবে কিয়ামত পর্যন্ত।” এ কথা শুনে আবদুল মুত্তালিব তরবারি বের করে বলেন, “আমার মাথা কাটা যেতে পারে, কিন্তু ধর্ম নস্যাৎ হতে পারে না।”

তখন পাদ্রিরা বলেন, “তাহলে একটি দস্তখত করুন।” আবদুল মুত্তালিব জিজ্ঞেস করেন, “কি জন্য দস্তখত করব?”  পাদ্রিরা বলেন, “আজকে রাতে জাজিরাতুল আরবে ছেলে হোক বা মেয়ে- যে-ই জন্মগ্রহণ করুক, তাকে দুধ দেওয়া যাবে না। যদি দুধ বিহনে মারা যায়, তবে তার গুনাহ আমাদের হবে না।” আবদুল মুত্তালিব প্রথমে দস্তখত করেন। এরপর এক লক্ষ বিশ হাজার পাদ্রি তাতে দস্তখত করে। আইন পাশ হয়ে যায়- “নবজাত শিশুকে দুধ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

হুযাইলীয়া মহল্লা, উমাইয়া মহল্লা, আব্বাসীয় মহল্লা, কুরায়শী মহল্লা, এবং হাশিমি মহল্লা। এর মধ্যে একটি মাঠ আজও রয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে, আল্লাহ তা স্বরূপ রেখেছেন। এক লক্ষ বিশ হাজার পাদ্রি হুজাইলীয়া মহল্লার এক কোণে গিয়ে আলোচনা করছিলেন, “আরে, দুধ খাওয়ানো তো বন্ধ করলাম, কিন্তু সন্তান জন্ম নেওয়া কিভাবে বন্ধ করা যায়?” এই আলোচনা করতেছে হঠাৎ তারা দেখতে পেল, হুজাইলীয়া মহল্লা থেকে পাঁচজন বয়স্ক নারী বের হয়েছে, যারা গুজো হয়ে গেছে। তাঁদের বয়স প্রায় ৫৫-৬০ বছর।

তখন পাদ্রিরা তাদের ডেকে বলছেন, “মা, এদিকে আসুন।” মহিলারা পাদ্রিদের ডাক শুনেই ভয়ে মাটিতে বসে পড়ে। পাদ্রিরা বললেন মা, “আমরা কেউ আপনাদের ভাইয়ের সমান, কেউ আপনাদের ছেলের সমান, কেউ আপনাদের পিতার সমান, আপনাদের ভয় কিসের?” এদিকে আসুন। মহিলারা কিছুদূর এগিয়ে গেলে পাদ্রিরা বললেন, “আপনারা কারা?” মহিলারা বললেন, “আমরা গরিব মানুষ।” পাদ্রিরা বললেন, “তাহলে এত রাতে বের হয়েছেন কেন?” মহিলারা বললেন, “বড়লোকের বাড়ির আঙ্গিনায় গিয়ে বসে থাকব। তারা দরজা খুলে আমাদের দেখবে, এবং কাজ দিবে। কাজের বিনিময়ে যা দেবে, তা দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়ের খাবার যোগাড় হবে।”

পাদ্রিরা বললেন, “মা, তাদিয়ে আপনাদের সংসার চলে কি?” মহিলারা বললেন, “সংসার না চললে আর কি করব, কিছু করার নাই।” পাদ্রিরা বললেন, “তাহলে একটি কাজ করতে পারবে কি?” মহিলারা বললেন, “কী কাজ?” পাদ্রিরা বললেন, “এই ঘরটা দেখছো, এটা কার ঘর?” মহিলারা বললেন, “চিনব না কেন, এটা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত ছেলে আব্দুল্লাহর ঘর। এখানে আমেনা বিবি থাকেন।” পাদ্রিরা বললেন, “মা, আমরা দেখতেছি, আমেনা বিবির ঘরে একটি পুত্র সন্তান হবে। এই মহিলার ডানে-বামে কেউ নাই। তোমরা ধাত্রী হিসেবে যাও। ধরো, এই ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিলাম।” মহিলারা ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা পেয়ে পাগল হয়ে গেছে। পাদ্রিরা আবার বললেন, “মা, এই ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা তো দিলাম, যদি সন্তান জন্মের সময় তাকে গলা টিপে হত্যা করতে পারো, তাহলে আরো ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেব।”

মহিলারা ৮০ হাজার স্বর্ণমুদ্রার কথা শুনে ঝোপের মধ্যে তাদের পোটলাটা রেখে তারা দৌড়াতে শুরু করল মা আমেনার ঘরের দিকে। মা আমেনার ঘরটি টিলার উপরে ছিল, টিলাটি সমান বুক পরিমাণ উঁচু। মা আমেনার ঘর ছিল খেজুর পাতার বেড়া, খেজুর পাতার ছাউনি, আর খেজুর পাতার দরজায় তৈরি। পাঁচজন মহিলা নিচ থেকে উপরে উঠছিল, উঠেই তারা দেখলেন- চারজন মেয়ে খেজুর গাছের মতো লম্বা, মা আমেনার দুই পাশে বসে আছেন, তারা এত রুপবতী যে তাঁদের শরীরের আলো আসমান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মহিলারা উঁকি দিতেই মা আমেনার মাথার কাছে যে মহিলা বসে আছেন, তিনি বললেন, “ও কুটনিরা, তোমরা ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রার লোভে আল্লাহর বন্ধুর ক্ষতি করতে এসেছ? পারবে না! আমি তার আগেই হাজির হয়ে গেছি!”

এই কথা শুনে মহিলারা চমকে ওঠে, “মাগো! আমরা যে ৪০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়েছি, উনি জানলেন কীভাবে?” তখন তারা বলে, আপনি কে গো? হুযাইলীয়া মহল্লা বলেন, উমাইয়া মহল্লা বলেন, আব্বাসীয় মহল্লা বলেন, কুরায়শী মহল্লা বলেন, হাশিমি মহল্লা বলেন, আমরা সাইকেই চিনি। “আপনি কে গো?” তখন তিনি বলেন, “তোমরা আমাকে চিনবে কি, আর জানবি কি? আজ থেকে সাড়ে ১০ হাজার বছর আগে, তোমাদের আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম আমি তার স্ত্রী, আমার নাম হাওয়া।”

মা হাওয়া কেন ধাত্রী হয়ে আসলেন

হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর বয়স ১৩০ বছর, তিনি বেহেশতে ছিলেন। তিনি বেহেশতে থাকাকালীন কখনো একপাশে, কখনো আরেকপাশে দৌড়ে বেড়াতেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি বুঝতে পারছি তুমি কেন পাগলামি করো, পাগলামি তোমার থামাই।” হযরত আদম আলাইহিস সালামকে শুইয়ে বাম পাঁজরের হাড় টেনে নিয়ে মা হাওয়া আলাইহাস সালাম-কে সৃষ্টি করেন। সাপের জায়গা ছিল বেহেশতে, ময়ূরের জায়গা ছিল বেহেশতে, বাবা আদম ও মা হাওয়া ছিলেন বেহেশতে। এখন শয়তান বলতেছে আল্লাহ, “তুমি আমাকে শয়তান বানিয়েছো, এখন আমি যা চাই তা আমাকে দিতে হবে।” আল্লাহ বলেন, “ঠিক আছে, একটা চাওয়া পুরণ করব।”

শয়তান বলে, “আমাকে এমন ক্ষমতা দাও যেন আমি তোমার বান্দাদের জাহান্নামে ফেলতে পারি।” আল্লাহ বলেন, “তোমাকে সে ক্ষমতা দিলাম।” শয়তান তখন বলে, “তাহলে তুমি আর তোমার বান্দাদের বেহেশত নিতে পারবে না।” আল্লাহ বলেন, “আমি পারব। যখন যোহরের সময় হবে, আমার বান্দা যোহরের নামাজে সেজদায় যাবে, তখন আমি জমিনের গুনাহ মাফ করে দেব। ডানে সালাম ফিরালে ডানের গুনাহ মাফ, বামে সালাম ফিরালে বামের গুনাহ মাফ করে দেব। ‘আল্লাহু আমিন’ বলে হাত তুলবে, তখন আসমান হতে খালি জায়গা পর্যন্ত সমস্ত গুনাহ আমি মাফ করে দেব।” শয়তান বলে, “আমি পারলাম না তো খোদা, আরেকটা শক্তি দাও।” আল্লাহ বলেন, “তোমাকে বলেছি একটি, আর নয়।” শয়তান বলে আর একটা চাই এটা তুমি দাও, “আজ হতে যেন আমি আদমকে ভুলাতে পারি।” আল্লাহ বলেন, “আদম তো বেহেশতে, তুই ঢুকবি কীভাবে?” শয়তান বলে, “এটা আমার ব্যাপার, আমাকে বেহেশতে যাওয়ার অনুমতি দাও।” আল্লাহ বলেন, “অনুমতি দিলাম, কিন্তু দরজা তো বন্ধ।” শয়তান তখন সাপকে ফুসলায়, তার মুখের ভিতর ঢুকে বেহেশতে প্রবেশ করে।

বেহেশতে ঢুকে শয়তান আনজির গাছের নিচে এক নারীর রূপ ধারণ করে বসে পড়ে। তার চুলগুলো সাদা বকপাখির মতো, আর শরীর যেন কাঁচা সোনা। সে বসে বসে কান্না করে। মা হাওয়া এসে বলেন, “খালা, আপনি কাঁদছেন কেন?” শয়তান তখন উত্তর দেয়, “আমি তোমার খালা নই, আমি তোমার মুই।” মা হাওয়া বলেন, “মুই আপনি কোথা থেকে আসছেন?” তখন শয়তান বলে, “আমার জন্ম তো বেহেশতে। আচ্ছা, তোমার গাল কেন ভেঙে গেছে, হাড় বের হয়ে গেছে? কালকের না তুমি মেয়ে! আমি কোটি কোটি বছর বেহেশতের মধ্যে আছি- দেখ না, আমার শরীর কাঁচা সোনা।” তখন মা হাওয়া জিজ্ঞেস করেন, “আপনি এত সুন্দর হলেন কীভাবে?” শয়তান বলে, “এই গাছের ফল খেয়ে।”

মা হাওয়া আলাইহাস সালাম বলেন, “আল্লাহ তো নিষেধ করেছেন।” শয়তান বলে, “আল্লাহ তোমাদের ঠকিয়েছেন। যদি এই গাছের ফল খাও, আমার মতো হবে।” নারী হৃদয় নরম, মা হাওয়া আলাইহাস সালাম শয়তানের কথায় গন্ধম ফল ছিঁড়ে। ফল ছিড়তে দেরি, শরীর থেকে পোশাক খসে পড়তে দেরি নেই। এখন মা হাওয়া আলাইহাস সালাম  কাঁদতে শুরু করেন। তখন শয়তান বলে, “কেঁদো না, আদম-কে খাওয়াও।”মা হাওয়া আলাইহাস সালাম বলেন, “কীভাবে খাওয়াবো?” শয়তান বলে, “আর একটা ফল ছিঁড়ে চিবিয়ে রসটা আদম এর মুখে ঢুকিয়ে দাও।” আদম আলাইহিস সালাম চিত হয়ে পাথরের মধ্যে মাথা দিয়ে মুখ হাঁ করে ঘুমাচ্ছিলেন। মা হাওয়া আলাইহাস সালাম গন্ধম একটা চিবিয়ে রসটা তাঁর মুখে ঢেলে দেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম জেগে উঠে গলা চেপে ধরেন। গলা চেপে ধরে আর কি হবে? ততক্ষণে রস পেটে ঢুকে গেছে।

আল্লাহ রাগ করে হযরত আদম আলাইহিস সালাম-কে জিদ্দায় এবং মা হাওয়া আলাইহাস সালাম -কে সরণদ্বীপে পাঠিয়ে দেন। দুজনেই কাঁদেন, কাঁদেন, কিন্তু আল্লাহ নজর করেন না। ৩৪৯ বছর পর হযরত আদম আলাইহিস সালাম- এর স্মরণ হয় “হে মাবুদ! তোমার নামের পাশে এক নূরানী নাম জ্বলজ্বল করছে, ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ ও খোদা! ঐ নামের গোলাম হলাম, ঐ নামের গোলামী খাতায় আমি নাম লিখলাম। ঐ নামের মোহাব্বতে আমি একটি কোরবানি দেব।” আল্লাহ বলেন, “তুমি আমার বন্ধুর গোলাম হয়েছো, আবার আমার বন্ধুর গোলামী খাতায় নাম লিখিয়েছো, আবার আমার বন্ধুর নামে একটা কোরবানি দিতে চেয়েছো- আমি খোদা, তোমার দোয়া কবুল করলাম।” বন্ধু! যদি তুমি বেহেশতেই এই কথা বলতে, তাহলে তোমাকে আমি দুনিয়াতে পাঠাতাম না।”

এখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম পূর্বদিকে নজর করে দেখছেন, চন্দ্র এবং সূর্য একসাথে ঠেলা দিচ্ছে। এবার বাম দিকে নজর করে দেখছেন, মা হাওয়া বাম পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বামে মা হাওয়াকে দেখে এবং পূর্বদিকে চন্দ্র-সূর্য দেখে আদম আলাইহিস সালাম দুই রাকাত ফজরের নামাজ আদায় করেন। এই দুই রাকাত ফজরের নামাজ আল্লাহ ঈমানদারদের জন্য ফরজ করে দেন। আদম আলাইহিস সালাম বামে তাকিয়ে দেখেন, মা হাওয়া কুৎসিত হয়ে গেছেন। তখন আদম আলাইহিস সালাম নাক কুঁচকান। আল্লাহ বলেন, “বন্ধু, হাওয়া বিবি যখন গন্ধম ছিঁড়েছিল, সেই জন্য তার চেহারাটা নষ্ট হয়ে গেছে।” “তবে আমি হলাম রাব্বুল আলামিন, আর আমার বন্ধু হলেন রহমাতুল্লিল আলামিন। আমি রিজিক দাতা, আর আমার বন্ধু হলো রহমত দাতা। রহমত ছাড়া সুরত নূর হতে পারে না। তবে একটু ধৈর্য ধরো। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আমার বন্ধু শুভ আগমন করবেন। ঐ তারিখে হাওয়া-কে আমি ধাত্রী হিসেবে আমার বন্ধুর খেদমতে পাঠাবো। আমার বন্ধুর ছোঁয়া লাগলে, হাওয়ার শরীর আবার নূরে পরিণত হয়ে যাবে।”

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূরানী আগমনে কাবার সেজদাহ

আবদুল মুত্তালিব খানায়ে কাবার পূর্ব দিক দিয়ে উত্তর মাথায় গেছেন, উত্তর মাথায় গিয়ে উত্তর দিক হয়ে পশ্চিম মাথায় গেছেন, সেখান থেকে দক্ষিণমুখে চলা আরম্ভ করেছেন। দক্ষিণমুখে চলতে চলতে অর্ধেক পথ না যেতেই তিনি দেখতে পেলেন- সাত আসমানের কাবা, সাত জমিনের কাবা, অসংখ্য নবী ও ফেরেশতাদের কাবা, স্বয়ং আল্লাহ পাকের কাবা- তাঁর আঙ্গিনার দিকে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছে! বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দৌড়ে গেলেন নিজের বাড়ির দিকে। কী এমন ঘটেছে যে কাবা নিজেই সেজদায় পড়েছে? বাড়িতে এসে দেখলেন, মা আমিনার ঘরে শুভ আগমন করেছেন নূরের পুতুল- আমাদের প্রিয় নূর নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুভ আগমন করেছেন মা আমেনার উরাত মোবারক দিয়ে

আমরা যখন শরীর মোড়ামুড়ি দেই, তখন নাভীর উপরের কাপড় নাভীর নিচে নেমে যায়। মা আমেনা যখন শরীর মোড়ামুড়ি দিচ্ছিলেন, তেনার নাভীর উপরের কাপড়টা নিচে নেমে গেছে। যত আম্বিয়া একরাম সমস্ত নাভীর নিচ দিয়ে এসেছে, আমরা মায়ের রহেমের রাস্তা দিয়ে এসেছি। অন্যান্য নবীগণ যে রাস্তা দিয়ে এসেছে, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাস্তা দিয়ে আসেননি। দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আমেনার উরাত মোবারক দিয়ে শুভ আগমন করেছেন। আমাদের জন্মের সময় সাধারণত মাথা আসে আগে, কিন্তু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাথা আগে আসেনি, পা মোবারক আসছে আগে। পায়ে ছিল কালো মোজা, গায়ে ছিল  কালো জুব্বা ও কালো পায়জামা, আর মাথায় ছিল সবুজ রঙ্গের পাগড়ি মোবারক। অন্যান্য নবীগণ নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া নামাজ পড়তে পারতেন না। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কদম মোবারক রাখাতেই আল্লাহ বলেন, “হে বন্ধু, সারা আসমানটা আপনার জন্য ছাদ বানালাম এবং সারা দুনিয়া আপনার জন্য মসজিদ বানিয়ে দিলাম।”

মাদারিজুন নবুয়ত কিতাবে হযরত আল্লামা আবদুল হক মোহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কদম মোবারক রেখেই মাথায় পাগড়ি মোবারক, পোশাক পরিচ্ছেদ পরা অবস্থায় উত হয়ে পড়ে শাহাদাত আঙ্গুল মোবারক কানের মধ্যে দিয়ে রাখছে। আল্লাহ বলেন, “জিবরাঈল! আমার বন্ধু তো জমিনকে স্বরশ বানিয়ে ফেলেছে, আসমান তো খুলে পড়বে। তুমি গিয়ে আমার বন্ধুকে চিৎ করো, নতুবা আমার খোদায়ী থাকবে না।” আর আমার বন্ধুকে বলো, আমার সাথে যেন একটি কথা বলে।” তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে চিৎ করে বললেন, “দয়ালগো, আপনার হাত মোবারক, কান মোবারক থেকে সরান।” নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, “খোদা, তোমাকে কি বলছে আমি জানি, আমার উম্মতের জন্য তিনি কী ফয়সালা দেবেন সেটা আগে বলো, নতুবা কেয়ামত হয়ে যাবে, আঙ্গুল সরাব না।” তখন গায়েবী আওয়াজ এল, “বন্ধু! যাররা পরিমান ঈমান যার অন্তরে থাকবে, আমি আমার জাতের কসম খেয়ে বলছি, তাদের জাহান্নামে দেব না।”

আসমানে আহমদ, জমিনে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”

নবীজির শুভাগমন সংবাদ যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এক লক্ষ ২০ হাজার পাদ্রি আবদুল মুত্তালিব-কে বলেন, সর্দার “আপনার ঘরে  নাতি জন্মেছেন, আমাদের একটু দেখতে দিন।” আবদুল মুত্তালিব নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কালো একটি রুমালে জড়িয়ে খানায়ে কাবার সিয়ানে নিয়ে আসেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই কাবার উত্তর পাশে দাঁড়ানো পাদ্রিরা লাফাতে শুরু করে। তারা বলে, “এমন সুরত জীবনে দেখি নাই!” এই বলে তারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে টানাটানি করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে আবদুল মুত্তালিব ভয় পেয়ে যান, ভাবেন তারা হয়তো আমার নাতিকে মেরে ফেলবে। তিনি দ্রুত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে কোলে তুলে ঘরের ভিতরে নিয়ে যান।

পাদ্রিরা আবার তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার নাতির নাম কী রেখেছেন?” আবদুল মুত্তালিব বলেন, “না, এখনো নাম রাখি নাই।” তখন পাদ্রিরা বলে, “আপনারা যদি না রাখেন, তবে আমরাই একটি নাম দিয়ে দেব।” তখন তিনি বলেন, “আমার বউমা নাম রেখেছে কিনা, শুনে আসি।” আবদুল মুত্তালিব মা আমেনার ঘরে গিয়ে বলেন, “মা গো, এই পাদ্রিরা বলছে, আমার নাতির নাম তারা রাখতে চায়। তোমার কি কোনো ঠিক করা নাম আছে?” মা আমেনা বলেন, “আব্বা, গত রাতে আপনার নাতির নাম রেখে ফেলেছি।”

মা আমেনা বলেন, “গত কাল রাতে কালো পোশাকধারী, কালো পায়জামা, কালো জুব্বা ও কালো পাগড়ি পরা এক ব্যক্তি যার হাতে ছিল একটি লাঠি, যাতে ছিল ২৭টি বাঁক। তিনি এসে আমার পায়ে এবং আপনার নাতির পায়ে চুমু দেন। তারপর বলেন, ‘হে মা আমেনা, উনি সাত আসমানের নবী, সাত জমিনের নবী, অগণিত নবীগণের নবী ও অগণিত ফেরেশতাদের নবী, স্বয়ং আল্লাহর নবী। আমি জিব্রাইল, উনি আমারও নবী। আসমানে এনার নাম আহমদ, আর দুনিয়ায় নাম হবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই মুহাম্মদ নাম গলার হার বানিয়ে রাখো। এই নাম থাকলে দুনিয়াতে ভয় নেই, কবরেও ভয় নেই।’”

এই কথা শুনে আবদুল মুত্তালিব উচ্চারণ করেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।” তারপর তিনি হাসতে হাসতে বাইরে আসেন। পাদ্রিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “সর্দার হাসছেন কেন?” তিনি বলেন, “আমার নাতির নাম তো রেখে দেওয়া হয়েছে।” তারা জিজ্ঞেস করে, “কে রেখেছে?” আবদুল মুত্তালিব বলেন, “আমার বউমা আমেনা।” পাদ্রিরা বলে, “কি নাম রেখেছেন?” তিনি বলেন, “মুহাম্মদ” এই নাম শুনেই কাবার ডান পাশে থাকা পাদ্রিরা বলে ওঠে, “এই নাম গলার হার বানালাম। এই নামে জীবন দিব, এই নাম কোনো দিন ছাড়তে দিব না।” আর বাম পাশে যারা ছিল তারা বলে, “এই নামের আওয়াজ যত দূর যাবে, তত দূর আমরা থাকবো না।”

ডান পাশে যারা ছিল তারা বলে, “যে থাকতে চায় থাকুক, যে যেতে চায় চলে যাক।” এরপর বাম পাশের পাদ্রিরা চলে যায় নজদের দিকে। পরবর্তীতে সেই অঞ্চলই হয় বর্তমান সৌদি আরবের রাজধানী-রিয়াদ। আর সেখান থেকেই কিয়ামত পর্যন্ত শয়তানের শিং গজাতে থাকবে।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পেয়ে ধন্য হলেন মা হালিমা?

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স হলো তিন দিন। মা আমেনা কাঁদেন, আর বলেন- “কেমন আইন পাশ হলো, এই তিন দিনের ভেতরে ৭৯টা ছেলে-মেয়ে দুধ ছাড়াই মরে গেল।” মা আমেনা বলেন- “আল্লাহ, আমার মুহাম্মদ বোধহয় বাঁচবে না। ঠোঁটগুলো শুকিয়ে গেছে।” আমার পুত্রকে মরতে দেব না। আমি মক্কার বাজারে বিক্রি করে দেব।” মা আমেনা সবুজ রঙ্গের একটা বোরকা পরে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কালো রুমাল পেঁচিয়ে খানায় কাবার সিনায়ে একটি বটগাছের নিচে বসে আছে। যে বটগাছ এখন আর নেই, ওবায়দা কেটে ফেলেছে। এই বটগাছটা ২৬০০ শত বছর ধরে ছিল। আল্লাহ বলেন- “জিব্রাইল! আমেনা চিন্তা করে, আমার বন্ধু মরে যাবে! তুমি আমার বন্ধুর শাহাদাত আঙ্গুল মোবারকে মধু লাগিয়ে দাও।”

এইদিকে তায়েফে রয়েছেন মা হালিমা। তার একটি বড় মেয়ে- নাম রুসিয়া; একটি ছেলে- নাম মল্লিয়া। যেদিন দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে শুভ আগমন করেন, সেদিনই মা হালিমার ঘরেও একটি ছেলে জন্ম নিয়েছে। কিন্তু সে ছেলে তিন দিন ধরে দুধ খায় না-দক্ষিণ দিকে তাকিয়ে হাসে। মা হালিমা চিন্তা করেন- “এই ছেলেটার কী হলো! শুধু হাসে।” রাত হয়ে গেলে ছেলেকে ঘরে শুইয়ে দেন। হঠাৎ মা হালিমার ঘরের চালের উপর দুটি পাখি বসে গান গায়- মোহাম্মদ নাম যতই যপি ততই মধুর লাগে, নামে এত মধু থাকে কে জানিত আগে। আর বলেতেছে- “হালিমা, কার দুধ তুমি কাকে খাওয়াও? মক্কায় আল্লাহর বন্ধু তিন দিন ধরে তোমার দিকে চেয়ে আছে। মক্কায় যাও, আল্লাহর বন্ধুকে এনে দিন ও দুনিয়ার বেড়া পার করে নাও। মা হালিমা পাখির কাছে যেতেই পাখিগুলো উড়ে যায়।

মা হালিমা পাখির কথা শুনে ছেলে-মেয়ে, খানা-দানা সব ভুলে গেছে। তেনার একটি দুর্বল গাধা ছিল। গাধাটি এত দুর্বল যে এক পাশে ঠেলা দিলে আরেক পাশে পড়ে যায়। তিনি ৭টি রুটি ও এক টুকরি পানি নিয়ে গাধার কান চিপে ধরে টানতে টানতে তায়েফের গেটে আসেন। সেখানে এসে দেখেন ২৭টি মেয়ে ২৭টি বলিষ্ঠ উটের উপর চড়ে আসছে। মা হালিমা ছিলেন তায়েফের ধাত্রী, সবাই তাকে চিনে। সাদিয়া বংশে তার জন্ম। তিনি যেই পাহাড়ে থাকতেন, সেটি ৭০০০ ফিট উচ্চ। মহিলারা বলেন- “হালিমা, তোমার না সন্তান হয়েছে! কোথায় যাও?” মা হালিমা বলেন- “তোমরা কোথায় যাও?” তারা বলে-“আমরা বাক্কায় যাচ্ছি ছেলে-মেয়ের আশায়।” মা হালিমা বাক্কার কথা শুনে মক্কা ভূলে গেছে। মক্কা তো পাখি বলছে জগতে কেউতো মক্কা চিনে না। মা হালিমা বলেন- “আমিও বাক্কা যাবো।”

মহিলারা বলেন- “তুমি কি জন্য যাবা মা হালিমা বলতেছে ছেলে ময়ের জন্য। মহিলারা বলে কিভাবে যাবে? তোমার গাধাটা তো ছেচড়িয়ে  হাঁটে।” তারা বলেন তুমি থাক- “আমরা যা পাবো, তার চারভাগ করে একভাগ দিলে তোমার দিন কেটে যাবে, তোমার যাওয়ার দরকার নাই।” তোমার মতো ধাত্রি এই অঞ্চলে নাই। এই কথা বলে তারা মা হালিমাকে রেখে চলে যায়। মা হালিমা গাধার কান চিপে টেনে টেনে অনেক দূর চলে আসেন। এসে দেখে রাস্তা গেছে- পূর্ব দিকে, দক্ষিণ দিকে, পশ্চিম দিকে আর মা হালিমা উত্তর দিক থেকে আসেন। এখন চৌরাস্তা মা হালিমা কোন দিকে যাবে ভাবতেছে এরই মধ্যে গাধাটা চিত হয়ে পড়ে যায়। মা হালিমা বলেন- “আগে কিছু খেয়ে নিই, তারপর ভাববো।” তখন তার রুটির পোটলা খোলেন, পানির পাত্র পাশে রাখেন। একটু রুটি ছিড়ে মুখে দেবেন- এমন সময় একজন পাগল পিছন দিয়ে এসে বলেন- “হালিমা, আজকে তিন দিন ধরে তুমি খাওনা আর আমি ৫০০ বছর ধরে খাইনা।  তোমার খাবার আমাকে দাও, আমি খেয়ে আত্মা সন্তুষ্ট করি। রাত প্রভাতের আগে মক্কায় আল্লাহর বন্ধুকে তোমাকে দিয়ে তোমার কলিজা ঠান্ডা করে দেব।”

পাখিও বলে মক্কা, পাগলও বলে মক্কা, দুনিয়ার সবাই বলে বাক্কা। মা হালিমা বলেন- “যারে পাগল, আমার আসল নাম স্মরণ করিয়ে দিলে- আমি খাবো না, তুমি খাও।” পাগল ডান হাতে, বাম হাতে রুটি নিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বলেন- “আল্লাহ, হালিমা আমার ৫০০ বছরের ক্ষুধা দূর করেছে। তুমি রাত্রির ভেতরেই তোমার বন্ধু “মোস্তফা” সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দিয়ে হালিমার কলিজা ঠান্ডা করে দাও।” এই দোয়া করেই পাগল পাহাড়ে উঠতে থাকেন। মা হালিমা দেখেতে থাকেন পাগল কোথায় যাচ্ছে, হঠাৎ পাগল-কে আর দেখা যাচ্ছে না। মা হলিমা পিছন দিকে নজর করে দেখতেছে গাধাটা লড়চড়া করছে। মা হালিমা গাধা কে বলেন- “তুই কি মক্কায় নিয়ে যেতে পারবি?” গাধা মাথা নেড়ে বলে- “পারবো।” মা হালিমা বলেন- “তুই মক্কা চিনিস?” গাধা মাথা নাড়ে বলে- “চিনি।” মা হালিমা বলে আমি চেখে পট্টি বেধে তোর পিঠে উঠবো। গাধা মাথা নেড়ে বলে উঠ। এবার মা হালিমা চোখে পট্টি বেঁধে গাধার পিঠে উঠেন।

গাধা পশ্চিমে যায় না, দক্ষিণে যায় না, পূর্বে যায় না- যে দিকে পাগল পাহাড়ে উঠেছে, সেই দিকে গাধা উঠতে থাকে। পাহাড় থেকে নিচে নামার সময় মা হালিমার কানে শিশুদের আওয়াজ আসে। পট্টি খুলে দেখেন- সুবেহ সাদেক, ছেলে-মেয়েরা ফুল তুলছে। মা হলিমা ছেলে মেয়েদের বলেন- “বাবা, এটা কোন দেশ?” তারা বলে- “মাগো, তিন দিন আগে এ দেশের নাম ছিল বাক্কা, এখন হয়েছে মক্কা। আগে এখানে কোনো ফুল ফুটতো না, আজ তিন দিন ধরে ফুল ফুটছে। আমরা ফুল দিয়ে মালা বানিয়ে বড়লোকদের কাছে বিক্রি করবো।” মা হালিমা বলেন- “রাত্রে তায়েফ থেকে বের হয়েছি, ২০৬ মাইল কীভাবে পেরিয়ে এলাম!” তখন ছেলেমেয়েরা বলে- “মিথ্যা বলি না, ঐ দেখ খানায় কাবার গেটে ‘মক্কা শরীফ’ লেখা।”

এ কথা শুনে মা হালিমা বিস্ময়ে কেঁপে ওঠেন এবং তেনার জ্বর এস যায়। তিনি গাধাকে বটগাছের নিচে বেঁধে তেনার পোটলাটা মাথায় দিয়ে শুয়ে পড়েন। যে ২৭ জন মেয়ে আগে রওনা দিয়েছিল, তারা এসে দেখে মা হালিমা তাদের আগে এসে শুয়ে আছেন। তারা জিজ্ঞেস করে-“হালিমা তুমি কখন এলে?” মা হালিমা বলেন- “যে রাতে তোমাদের সাথে দেখা হয়েছিল, সেই রাতেই এসেছি।” তারা বলে- “তোমার গাধা তো রাস্তা চিনে! তুমি রাস্তাটা অঙ্কন করেছো?” মা হালিমা বলেন- “না, আমি চোখে পট্টি বেঁধে এসেছি।” তারা বলে- “ভুল করেছো, রাস্তা অঙ্কন করলে মক্কার সঙ্গে তায়েফের ব্যবসা চালু করতাম।” তারা জিজ্ঞেস করে- “ছেলে-মেয়ে পেলে?” মা হালিমা বলেন- না আমার “জ্বর হয়েছে।” তারা বলে- “তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম, আসার দরকার নাই! এই বলে মহিলারা উট গুলোকে ছেড়ে দিয়ে মহল্লার দিকে চলে যায়।

মা হালিমা মাথা ঘুরিয়ে মহিলাদের দিকে চাইতেই দেখতেছে আর একটা শিকড়ের মধ্যে একজন মহিলা সবুজ বোরকা পড়ে কালে রুমাল পেচিয়ে কি যেন নিয়ে বসে আছে তার সবুজ বোরকা ছেদ করে একটা আলো আসমানে লেগে রয়েছে। মা হালিমা বলেন- “বোন, তোমার নাম কী?” তিনি বলেন- “আমার নাম আমেনা।” মা হালিমা বলেন- “আমার নাম হালিমা, আমাদের নামের মিল আছে।” তিনি বলেন- “তোমার স্বামী আছেন?” মা আমেনা বলেন- “ছয় মাস আগে মারা গেছেন।” মা হালিমা বলেন- “আমার স্বামীও ছয় মাস আগে মারা গেছেন।” মা হালিমা জিজ্ঞেস করেন- “তোমার কোলে কী?” মা আমেনা বলেন- “আমার ছেলে।” মা হালিমা বলেন-“ক’দিন আগে হয়েছে?” মা আমেনা বলেন- “তিন দিন।” মা হালিমা বলেন- “আমারও তিন দিন আগে ছেলে হয়েছে।” মা হালিমা বলেন- “নাম রেখেছো কী?” মা আমেনা বলেন- “মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।”

মা আমেনা “মুহাম্মদ” (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেই, মা হালিমা মা আমেনার পায়ে পড়ে যান আর বলেন- “বোন, পাখি তো মুহাম্মদের কথাই বলেছে। ছেলে-মেয়ে ফেলে মরা গাধা নিয়ে মুহাম্মদের আশায় এসেছি। তোমার মুহাম্মদকে আমাকে দিবা?” মা আমেনা বলেন-“নিবে?” মা হালিমা বলেন-“নিতেই তো এসেছি। তাহলে চলো কাজির কাছে যাই।” কাজি জিজ্ঞেস করেন- “কত বছর রাখবা?” মা হালিমা বলেন-“ছয় বছর।” কাজি ছয় বছর রাখার হিসাব করেন। মা আমেনা কাজির হিসাব দেখে বলেন- “বোন, আমি আমার ছেলে তোমাকে দিতে পারবো না। আমার ঘর-ভিটা ছাড়া কিছুই নেই, টাকা-পয়সা দিতে পারবো না।” মা হালিমা বলেন- “কাজি, তোমার ফি আমি দেব। আমি ছয় বছর মুহাম্মদকে লালন-পালন করবো। উনি খুশি হয়ে যা দিবেন, তাই নেব। আমার কোনো দাবি নেই।”

সূর্য তখন অর্ধেক ডুবে গেছে। মা হালিমা বলেন-“ও গাধা, সূর্য ডোবার আগে তুমি বাড়ি পৌঁছে দিতে পারবে?” গাধা মাথা নাড়ে বলে-“পারবো।” আল্লাহ বলেন- “জিব্রাইল, গাধা বলেছে পারবে, আমার বন্ধু তো গাধার উপর উঠবে। তুমি জমিনকে টেনে দাও, যাতে গাধা তিন কদমেই হালিমার ঘরের আঙ্গিনায় পৌঁছাতে পারে।” এখন মা হলিমা মা আমেনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাধার পিঠে ওঠেন। গাধা তিন কদম যেতেই মা হলিমা দেখেন বাড়ীর আঙ্গিনায় পৌছে গেছে।

পরিশেষে

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমনের সাথে সম্পর্কিত অলৌকিক মুজিযাগুলি মধ্যে নিহিত রয়েছে আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং মানবতার জন্য এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত, যা আজও আমাদের জীবনে প্রেরণা ও পথনির্দেশক হয়ে রয়েছে।

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment